Breking News

সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন । আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন।বিজ্ঞপ্তি: জরুরী সংবাদকর্মী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি চলিতেছে…। আপনি কি কম খরচে Website, Bloggersite, Youtube channel, E-commica site তৈরি করতে চান? যোগাযোগ করুন বিস্তারিত : মোবাইল: 01712475454,01940103713 , দেশ - বিদেশের খবর সবার আগে জানতে সাথে থাকুন।আমাদের সংঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ এ রকম আরও ভিডিও/ সর্বশেষ সংবাদ Update News পেতে আমাদের Website /Youtube Channel পেইজে লাইক দিন৷ ❤️ ✌ ✔️ কোন মতামত বা প্রশ্ন থাকলে কমোন্ট করে জানান ।
Showing posts with label Social Media. Show all posts
Showing posts with label Social Media. Show all posts

স্টিভ জবসের জীবন ও সফলতার আত্মকাহিনী | স্টিভ জবসের সাফল্যের ১০ সূত্র


সাফল্য কে না চায়? সবাই চায় জীবনে এমন কিছু করতে যা তাকে অন্যের থেকে আলাদা করে রাখবে, নিয়ে যাবে জীবনের অন্য এক মাত্রায়।

কিন্তু সবাই কি সফল হতে পারে? না। কেন? কারণ প্রথাগত কাজের মাঝে সাফল্য লুকিয়ে নেই।

কালেকালে যারা সফল হয়েছেন, তাঁরা সর্বদা প্রচলিত ধারার বাইরে যেয়ে কাজ করতেন বলেই তাঁরা আজ নমস্য।

কি সেই সূত্র, যা তাদেরকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে? চলুন আজ জেনে নেই অ্যাপল এর প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের মুখ থেকে।

১. প্রথাগত জীবন থেকে বেরিয়ে আসুন

মনে রাখবেন, সমাজের প্রচলিত জীবনধারা কিন্তু তৈরি হয়েছে আপনার-আমার মত কিছু মানুষের হাত ধরেই। তাই সাফল্য পেতে হলে আপনাকে অন্যের প্রবর্তিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে নতুন কিছু করতে হবে।

 Read More: ভারতীয় সেক্স গুরু ভগবান রাজনীশের উত্থান ও জীবনী 

ইতিহাস কুখ্যাত ৮টি কাল্ট

 কাল্ট (Cult) বা বিশেষ ধর্মবিশ্বাস নিয়ে স্বভাবতই মানুষের মনে একরকম নেতিবাচক মনোভাব বিদ্যমান। সুনির্দিষ্ট শব্দের বেড়াজালে ব্যাপারটি সংজ্ঞায়িত করা সহজ নয়। আমেরিকান হেরিটেজ অভিধান (ডিকশনারি) কাল্ট (Cult) শব্দটিকে সংজ্ঞায়িত করেছে মোটামুটি এভাবে যে, একটি ধর্ম বা ধর্মের উপদল যারা উগ্রপন্থী বা ভুল হিসেবে বিবেচিত, একজন স্বৈরাচারী বা আধ্যাত্মিক নেতার অধীনে একদল অনুসারী যারা লৌকিকতা বর্জিত বা প্রথাসিদ্ধ জীবন যাপন করে না। এরকম সংঘ বা ধর্ম বিশ্বাসের অনুসারীদের অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের স্বাভাবিক জীবনযাপন, পরিবার, চাকরি সবকিছু ছেড়ে দিয়ে অন্যান্য অনুসারীদের সাথে যৌথভাবে বসবাস করতে হয়। এই বিশেষ ধর্মবিশ্বাসের সাথে প্রচলিত ধর্মের সাধারণ পার্থক্য হলো, তাদের কার্যক্রম মূলত প্রথাগত সমাজের বাইরে এবং অল্প সংখ্যক অনুসারী নিয়ে পরিচালিত। এরকম কিছু ধর্মবিশ্বাস ও অনুসারীদের কথা তুলে ধরা হবে, যারা কুখ্যাতি অর্জন করেছে তাদের কার্যক্রম বা রক্তাক্ত পরিণতির মধ্যদিয়ে।

১) অর্ডার অব সোলার টেম্পল











১৯৯৪ সালের ৪ ও ৫ অক্টোবর সুইজারল্যান্ড এবং কানাডায় অর্ডার অব সোলার টেম্পলের ৫৩ জন সভ্য আগুনে পুড়ে এক সাথে আত্মাহুতি দেন। নিহতদের মধ্যে প্রতিষ্ঠাতা ম্যাম্ব্রো ও জুরেটও ছিলেন। পরের বছরের ডিসেম্বরে আরো ১৬টি মৃতদেহ ফ্রান্সে পাওয়া যায় যাদের মৃত্যু হয়েছিল পূর্ববর্তীদের মতোই। ১৯৮৪ সালে জেনেভায় প্রতিষ্ঠিত অর্ডার অব সোলার টেম্পলের অনুসারীদের বিশ্বাস ছিল, পৃথিবীর ধ্বংসের দিন ঘনিয়ে আসছে, পৃথিবীতে তারা মারা গেলেও সিরিয়াস নামক তারকার কেন্দ্রে ঘূর্ণায়মান নতুন গ্রহে তাদের পুনর্জন্ম হবে এবং সেখানে তাদের নিয়ে যাবে ম্যাম্ব্রোর আধ্যাত্মিক শক্তিসম্পন্ন মেয়ে ইমানুয়েলে।

সংঘটির আরেকজন প্রতিষ্ঠাতা জুরেট একইসাথে নিজেকে যীশু খ্রিস্ট এবং মধ্যযুগের একজন ধর্মযোদ্ধা যার কিনা পুনর্জন্ম হয়েছে বলে দাবি করত। ম্যাম্ব্রোর ছেলে এলি অবশ্য বাবার মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি বাবার আধ্যাত্মিক শক্তি ও ভবিষ্যতবাণী ভুয়া আখ্যায়িত করা শুরু করলেন। এরপর এলির পথ ধরে অনেক অনুসারী সংঘটি ত্যাগ করেন। ১৯৯৪ সালে দুজন নেতা প্রচার করতে শুরু করেন পৃথিবীতে তাদের দিন শেষ, সময় এসেছে নতুন গ্রহে তাদের পুনরুত্থানের। ঘনিষ্ঠ ১২ জন সহচর নিয়ে যীশু খ্রিস্টের ন্যায় ম্যাম্ব্রো শেষ নৈশভোজের আয়োজন করে। তাদের প্রচার ও মতবাদের ভিত্তিতে কানাডা, ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডে অর্ডার অব টেম্পলের অনুসারীরা অন্য গ্রহে পাড়ি জমানোর আশা নিয়ে গণহারে আত্মাহুতি দেয়। আত্মহত্যাকারীদের মৃতদেহের মধ্যে সংঘত্যাগী প্রতিষ্ঠাতা ম্যাম্বোর ছেলে এলির দেহও পাওয়া যায়, তবে তিনি স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করেছেন নাকি খুন হয়েছেন তা আজও রহস্য রয়েছে গেছে।

Read More:  Chanakya Biography

২) ব্রাঞ্চ ডেভিডিয়ান

উগ্র ও চরমপন্থি ডেভিড কোরেশ চার্চ থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর ব্রাঞ্চ ডেভিডিয়ান নামের একটি অপ্রথাগত বিশ্বাসীদের দলে যোগ দেন, দলটির নেতা লয়েস রডেনের সাথে ঘনিষ্ঠতার দরুন কোরেশ পরবর্তী নেতা নির্বাচিত হন। কোরেশ সবচেয়ে বিতর্কিত ছিল তার নতুন মতবাদের জন্য। তার মতে, সকল নারী তার আত্মিক পত্নী, এমনকি অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু এবং বিবাহিতরাও। কোরেশের বিরুদ্ধে অস্ত্র মজুদ ও শিশুদের যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ ছিল। ব্রাঞ্চ ডেভিডিয়ানের একজন সদস্য জানান, কোরেশের স্ত্রী ছিল ১৯ জন এবং ১২ বছরের নিচে প্রায় ১৩ জন শিশুর সাথেও তিনি যৌনকর্মে লিপ্ত হয়েছিলেন।

নিষ্ঠুর কোরেশ নিজেকে ঈশ্বরের সন্তান মনে করতেন, তার অনুসারীদের রক্তাক্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্যাতন করতেন যাদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও ছিল। টেক্সাসের ওয়েকোতে অবস্থিত ব্রাঞ্চ ডেভিডিয়ানদের সদর দপ্তরে আমেরিকার দ্য ফেডারেল ব্যুরো অব অ্যালকোহল, টোব্যাকো অ্যান্ড ফায়ার-আর্মস (ATF) ১৯৯৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু সহজে হাল ছেড়ে দেওয়ার পাত্র ছিলেন না চরমপন্থি কোরেশ, কোনো অবস্থাতে আত্মসমর্পণ করতে রাজি ছিলেন না তিনি। অভিযানে এফবিআই যুক্ত হয় কোরেশের ধ্বংসাত্মক ও আগ্রাসী আচরণের কারণে।

সপ্তাহব্যাপী শান্তিপূর্ণভাবে চলে কোরেশকে আত্মসমর্পণ করানোর ব্যর্থ চেষ্টা। অনুসারীদের অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে শহীদ হওয়ার নির্দেশ দিয়ে একরকম যুদ্ধ শুরু করেন তিনি, মারাত্মক গোলাগুলি শুরু হয় কর্তৃপক্ষের সাথে। প্রায় ৫১ দিনের অবরোধ ও গোলাগুলি শেষে কোরেশসহ ব্রাঞ্চ ডেভিডিয়ানের ৭৬ জন সদস্য নিহত হয়, এর মধ্যে ২৩ জন শিশুও ছিল। পুরো ঘটনাটি এতটাই জটিল ও বিপদজনক ছিল যে, অভিযানে ১২টি ট্যাংক ও ৪টি ভারী যুদ্ধযান ব্যবহার করতে হয়েছিল।

৩) দ্য পিপলস টেম্পল

১৯৫০ সালে জিম জোন্স নামের একজন প্রচারক ইন্ডিয়ানাপোলিসে পিপলস টেম্পলের শুরু করেন, যিনি ছিলেন বর্ণবাদ বিরোধী ও সমাজতান্ত্রিক ঘরানার। এই কারণে জোন্সের প্রচারে আকৃষ্ট হয়ে তার পিপলস টেম্পলে অনেক বেশি আফ্রো-আমেরিকান যোগ দিয়েছিল। জোন্স খ্রিস্টান ধর্মের সাথে জোর দিতেন সাম্যবাদ, সমাজতন্ত্র এবং সাদা-কালোদের সম অধিকারে। ১৯৬৫ সালে জোন্স তার অনুসারীদের নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে আসেন। পরবর্তী ৫ বছরে তার অনুসারী সংখ্যা একশ থেকে প্রায় হাজারের কাছাকাছি হয়ে যায়। ১৯৭৭ সালে দক্ষিণ আমেরিকার সমাজতান্ত্রিক দেশ গুইয়ানায় অনুসারীদের নিয়ে গড়ে তোলেন জোন্সটাউন। জোন্সটাউন ও পিপলস টেম্পল নিয়ে সংবাদপত্রে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশিত হলে জোন্স ভীত সন্ত্রস্ত ও অপমানিত বোধ করেন। পিপলস টেম্পলের বিরুদ্ধে অন্যতম অভিযোগ ছিল আর্থিক অনিয়ম, শারীরিক নির্যাতন ও শিশু নির্যাতন।

অভিযোগের ভিত্তিতে আমেরিকার কংগ্রেস সদস্য লিও রাইয়ান জোন্সটাউন পরিদর্শনে যান ১৮ই নভেম্বর, ১৯৭৮ সালে। পরিদর্শন শেষে রাইয়ান স্বেচ্ছায় জোন্সটাউন ত্যাগকারীদের নিয়ে আমেরিকায় ফিরতে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে থাকেন। এই সময়ে পিপলস টেম্পলের অনুসারীরা রাইয়ানসহ আরো অনেককে গুলি করে হত্যা করে। জোন্সটাউনে ফিরে জোন্স সবাইকে বুঝাতে চেষ্টা করেন যে, আমেরিকার কংগ্রেস সদস্য রাইয়ানকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে আমেরিকান সরকার তাদের ও তাদের সন্তানদের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালাবে। সকলকে সমবেত করে ভীত ও অস্থির জোন্স সবাইকে একসাথে আত্মহত্যার প্ররোচনা দিতে থাকেন।

প্রথমে শিশুদের সায়ানাইড প্রয়োগ করে হত্যা করার পর প্রাপ্তবয়স্করা সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করে। যারা স্বেচ্ছায় আত্মহত্যা করতে রাজি হয়নি তাদের গুলি করে হত্যা করে অস্ত্রধারীরা। ১৯৭৮ সালের ১৮ নভেম্বর, মাত্র একদিনে প্রায় ৯১৮ জন আত্মহত্যা করা হয়, যাদের মধ্যে প্রায় ২৭৬ জন শিশু ছিল। একদিনে প্রায় হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী জোন্স অবশ্য সায়ানাইড খেয়ে মারা যায়নি, তার মৃত্যু হয়েছিল মাথায় গুলি লেগে।

৪) রাজনীশপুরাম

স্বঘোষিত ভগবান, রাজনীশ ভারতে সুবিধা করতে না পেরে ১৯৮১ সালে পাড়ি জমায় আমেরিকায়। সেখানে নিজের নামে শহর গড়ে তুলে এবং সমালোচনার ঝড় তুলে পাঁচ বছরের মধ্যেই আবার সব শেষ হয়ে যায়। রাজনীশের বেশ ভালো সংখ্যক অনুসারী ছিল, যাদের বেশিরভাগ আমেরিকার বাইরে ও শহরাঞ্চল থেকে এসেছিল। আমেরিকায় পৌঁছানো মাত্রই রাজনীশ ওরিগনে বিশাল এক অঞ্চল কিনে নেয় এবং তার অনুসারীদের নিয়ে গড়ে তোলে রাজনীশপুরাম নামে একটি শহর। নিজের নামে শহর গড়ে তোলার প্রায় তিন বছর পর্যন্ত রাজনীশ জনগণের সাথে কথা বলেননি।

মা আনন্দ শীলা ছিলেন এই আধ্যাত্মিক গুরুর একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী যিনি এই পুরো শহরটি পরিচালনা করতেন। সে সময় বিশাল এই শহরের মাসিক পরিচালনা ব্যয় ছিল ২.৫ মিলিয়ন ডলার, যা প্রায় একা হাতেই সামলাতেন শীলা। স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও নিয়মের তোয়াক্কা করতো না রাজনীশপুরামের বাসিন্দারা; সমস্যার শুরু এখান থেকেই। রাজনীশ জাগতিক সুখে বিশ্বাসী ছিলেন, অবাধ যৌনাচারের প্রচার করতেন এবং এই আধ্যাত্মিক গুরুর ৯৩টি রোলস রয়েস ছিল।

খ্রিস্টান অধ্যুষিত অঞ্চলে থাকার পরও, খ্রিষ্টান ধর্মের প্রতি রাজনীশের অবজ্ঞা কোনো গোপন ব্যাপার ছিল না। তাদের ক্রমাগত উগ্র ও অসহনশীল আচরণ স্থানীয়দের চরম হুমকির মুখে ঠেলে দেয়। বলতে গেলে, এটি ছিল প্রথাগত ও অ-প্রথাগত সমাজ ব্যবস্থার একটি দ্বন্দ্ব। ১৯৮৫ সালের দিকে আমেরিকায় প্রথম জৈব-রাসায়নিক আক্রমণের জন্যে দায়ী করা হয় মা শীলা আনন্দসহ রাজনীশপুরামের কিছু নেতাকে, যারা একটি রেস্টুরেন্টের খাদ্যে বিষক্রিয়ার সাথে জড়িত ছিল এবং এই ঘটনায় প্রায় ৭৫০ জন আক্রান্ত হয়। এরপর শীলাসহ অভিযুক্তরা পশ্চিম জার্মানিতে পালিয়ে যায় এবং রাজনীশপুরামের কার্যক্রম প্রায় থেমে যায়। ১৯৯১ সালে রাজনীশ মারা গেলেও তার মতবাদ এখনো জীবিত।

৫) দ্য চিলড্রেন অব গড

১৯৬০ সালের দিকে প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড বার্গ ক্যালিফোর্নিয়ার হানিংটন সৈকতে একদল হিপ্পির আগমনের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে খুব সহজেই নিজের প্রথাবিরোধী আচরণে মাধ্যমে তরুণদের আকৃষ্ট করে ফেললেন। অনেকে তাদের চাকরি ছেড়ে ও নিজের সঞ্চয় বার্গের হাতে তুলে দিয়ে গুরুর বাড়িতে বসবাস শুরু করে। ক্যালিফোর্নিয়া ভূমিকম্পে আক্রান্ত হবে এই ভবিষ্যতবাণী করে বার্গ তার অনুসারীদের নিয়ে আরিজোনায় চলে যান। ১৯৭০ সালে সারা দেশে বার্গ তার মতবাদ প্রচারের মাধ্যমে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করতে লাগলেন। ১৯৭৪ সাল নাগাদ ৭০টি দেশে সংঘটির সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ৪,০০০। অনুসারীরা বার্গকে ডাকত ‘মোসেস’ নামে এবং নিজেদের পরিচয় দিত ‘দ্য চিলড্রেন অব গড’ হিসেবে। অবাধ যৌনাচার ও যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে বার্গ তার অনুসারীদের উৎসাহ দিতেন। বার্গের অনুসারীদের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। দলটি আমেরিকার ‘অ্যান্টি কাল্ট’ আন্দোলনের সদস্যদের রোষানলে পড়ে। যৌন সম্পর্ক গড়ে তুলে নতুন সদস্য নিয়োগের প্রক্রিয়াকে বার্গ ‘ফ্লার্টি ফিশিং’ নামে অবহিত করত। ১৯৮২ সালের দিকে অনিয়ন্ত্রিত যৌন সম্পর্কের কারণে সংঘটিতে ব্যাপকহারে যৌনবাহী রোগ ছড়িয়ে পড়লে তারা এই চর্চা বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে সংঘটি দ্য ফ্যামিলি ইন্টারন্যাশনাল পরিচয়ে যথেষ্ট সক্রিয়।

৬) দ্য ইউনিফিকেশন চার্চ

চার্চটির প্রতিষ্ঠাতা সান মিউঙ মুনের দাবি, ১৬ বছর বয়সে তিনি দৈববাণীর মাধ্যমে জানতে পারেন যে, তিনি পৃথিবীতে এসেছেন যীশু খ্রিস্টের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে। এরপর থেকেই নিজেকে একজন মুক্তিদাতা হিসেবে প্রচার করতে থাকেন তিনি। মুন মনে করেন, তার প্রতি একান্ত বাধ্যতা একমাত্র মুক্তির পথ। ১৯৫০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে চার্চ প্রতিষ্ঠা করেন এই ধর্ম গুরু। নিজের ধর্ম গোটা দুনিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে ১৯৭০ সালে আমেরিকায় চলে আসেন। ১৯৮২ সালে একসাথে প্রায় ৬,০০০ দম্পতির বিয়ে পরিচালনার মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসেন মুন, যা এই ধর্মের একটি অন্যতম সম্মেলন হিসেবে বিবেচিত।

 

মুনের অনুসারীরা তাদের ভবিষ্যৎ সঙ্গী নির্বাচনের ভার ছেড়ে দেয় তাদের ধর্মগুরুর উপর। বিশ্বে শান্তি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনানুযায়ী বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী থেকে সদস্য নিয়ে তাদের একটি দম্পতি হিসেবে গড়ে তুলে মুন। তিনি মনে করেন, এটি বৈশ্বিক প্রতিবন্ধকতা ছাপিয়ে একটি ঐক্যের পৃথিবী গড়ে তুলতে সহায়ক। একজন ধর্মপ্রচারকের পাশাপাশি মুন একজন সফল ব্যবসায়ীও। মাছ ধরার উপকরণ থেকে শুরু করে অস্ত্র, গাড়ি এবং সংবাদপত্রসহ আরো অনেক ব্যবসায় চার্চটির মালিকানা রয়েছে। চার্চটির সদস্যদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও শিশুদের মগজ ধোলাই করার অভিযোগ রয়েছে। চার্চটি দ্য ফ্যামিলি ফেডারেশন ফর ওয়ার্ল্ড পিস অ্যান্ড ইউনিফিকেশন নামে এখনো সক্রিয়।

৭) MRTCG

দলটি বিশ্বাস করতো রোমান ক্যাথলিক চার্চ ঈশ্বরের দশটি আদেশ ত্যাগ করেছে। তাই তারা ঈশ্বরের দশটি আদেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গড়ে তোলে ‘মুভমেন্ট ফর দ্য রিস্টোরেশন অব দ্য টেন কমান্ডমেন্টস অব গড’। সংঘটির প্রতিষ্ঠাতা ছিল চারজন সাবেক রোমান ক্যাথলিক যাজক, দুই জন নান ও একজন পতিতা। উগান্ডার এই সংঘটির নেতারা একইসাথে বিশ্বাস করতো দ্রুতই ধ্বংস হয়ে যাবে পৃথিবী। ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরে কেয়ামত সংগঠিত হবে, এমন ভবিষ্যদ্বাণীর পর অনুসারীরা  তাদের সহায় সম্বল সব বিক্রি করে দিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে।

কিন্তু আদতে এমন কিছু না ঘটলে সংঘটির নেতারা আবারো ভবিষ্যতবাণী করে কেয়ামতের এবং সেই সাথে আরো বলে যে, কুমারী মেরি বিশ্বাসীদের স্বর্গে নিয়ে যাওয়ার জন্যে আসবেন। নির্ধারিত দিনটি ছিল ১৭ মার্চ, ২০০০ সাল। অনুসারীরা ১৬ই মার্চ সমবেত হয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্বর্গে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিল। পরদিন পুলিশ আবিষ্কার করে ধ্বংসস্তূপ, শত শত মৃতদেহ ও মাথার খুলি। প্রথমে গণ আত্মহত্যা মনে হলেও পরে উন্মোচিত হয় পুরো ঘটনা। সমবেত স্থানে বোমা বিস্ফোরণ করা হয়েছিল এবং পুরো ঘটনার পরিকল্পনাকারীরা হলো সংঘটির উচ্চপর্যায়ের নেতারা। ভবিষ্যৎ বাণী সত্যি হবে না এবং সবকিছু বেচে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া অনুসারীদের হাত থেকে বাঁচতে এই গণহত্যা চালানো হয়। এই ঘটনায় প্রায় ৯২৪ জন নিহত হয়, যাদের মধ্যে ৭৮ জন ছিল শিশু। কুখ্যাত এই পরিকল্পনাকারীরা এই বিস্ফোরণে হয় নিহত হয়েছে, নতুবা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।

আরও পড়ুন:Biography of Buddhist guru Dalai lama || বৌদ্ধ ধর্মগুরু দালাইলামার জীবন কাহিনী

৮) ম্যানসন ফ্যামিলি

কৈশোর ও যৌবনের শুরুর সময়টা বিভিন্ন অপরাধের কারণে চার্লস ম্যানসন কাটিয়েছে কিশোর সংশোধানাগার এবং জেলে। ১৯৬৭ সালে  মুক্তি পেলে ম্যানসন জেল থেকে বাইরের দুনিয়ায় যেতে অস্বীকৃতি জানান। মুক্তি লাভের পর, ম্যানসন সান ফ্রান্সিসকোতে চলে আসেন এবং সেখানে দ্য ফ্যামিলি নামের একটি ছোট বিশ্বাসী দলের প্রতি আকৃষ্ট হন। অন্যসব অ-প্রথাগত বিশ্বাসীদের মতো ম্যানসন ফ্যামিলি অবশ্য শুরুতে প্রচলিত ধর্মভিত্তিক ছিল না। যদিও পরে ম্যানসন শয়তানের চর্চা, সায়েন্টোলোজি, উদ্ভট অর্চনাসহ আপাত দৃষ্টিতে মনে হওয়ার মতো করে ধর্মভিত্তিক চর্চাও করেছেন।

ম্যানসন মনে করতেন নিকট ভবিষ্যতে কালোদের সাথে সাদা চামড়ার লোকদের একটি জাতিগত যুদ্ধ সংগঠিত হবে এবং সেই যুদ্ধে কালোরা জয়ী হবে, কিন্তু যুদ্ধশেষে সঠিক নেতৃত্ব সাদারাই দিবে। ম্যানসনের পরিকল্পনা ছিল যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ম্যানসন ফ্যামিলির অনুসারীরা নিরাপদে লুকিয়ে থাকবে এবং যুদ্ধ শেষ হলে তারা সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিবে। এই যুদ্ধ শুরু উদ্দেশ্য নিয়ে ম্যানসন তার অনুসারীদের খুন করতে নির্দেশ দেন এবং পুরো দায়ভার কালোদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার পায়তারা করেন। ১৯৬৯ সালে আসন্ন যুদ্ধ শুরু করতে ম্যানসন ফ্যামিলি লস এঞ্জেলসের হলিউডের নিকটে একটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে খুন করেন ৭ জনকে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন রোমান পোলানাস্কির স্ত্রী অভিনেত্রী শ্যারন টেট, যিনি গর্ভবতী ছিলেন। পরের রাতে ম্যানসন ফ্যামিলির হাতে নিহত হয় আরো ২ জন। সবাইকে ক্রমাগত ছুরিকাঘাত করে হত্যা করার পর দেয়ালে নিহতদের রক্ত দিয়ে বার্তা লিখে রেখেছিল ম্যানসন ফ্যামিলি।

 

টেটের হত্যাকারী স্বীকারোক্তি দেন যে, তিনি টেটকে প্রায় ১৬ বার ছুরিকাঘাত করেছিলেন। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ম্যানসন ও তার অনুসারীদের মৃত্যুদন্ড দেওয়া হলেও রাজ্যে মৃত্যদণ্ড নিষিদ্ধ করা হলে তা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এই বছরের ১৭ ই নভেম্বরে ৮৩ বছর বয়সে ম্যানসন স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন।

 ডেইলি নিউজ টাইমস বিডি ডটকম (Dailynewstimesbd.com)এর ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব ও ফেসবুক পেইজটি ফলো করুন করুন।

ভগবান রাজনীশের যত কাণ্ড!ভক্তদের সঙ্গে নিজ আশ্রমে গুরু রাজনীশ ক্সগুরু ভগবান শ্রী রাজনীশ। জীবনে বহুবার বিতর্কিত হয়েছেন এই সন্ন্যাসী। ছিলেন প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক। বিশ্বাস করতেন সেক্সের মাধ্যমেই পরমাত্মার সঙ্গে মিলিত হওয়া সম্ভব। আর মানুষের সৃষ্টি সবচেয়ে বড় মিথ্যার নাম হলো ‘ঈশ্বর’। ধ্যানের শিক্ষা দিয়ে গেছেন নিজের শিষ্যদের। সেই সঙ্গে তার আশ্রমে অবাধে সেক্সের সুযোগ ছিল। লিখেছেন রক্ষণশীলতার শৃঙ্খল থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মনকে মুক্ত করার স্বপ্ন দেখতেন ভগবান রাজনীশ। যার আধ্যাত্মিকতা গৌতম বুদ্ধের মতো মহীয়ান এবং একই সঙ্গে যার ইহজাগতিকতা গ্রিক উপন্যাসে যুক্ত করার মতো স্বচ্ছ বস্তুগত। যিনি যুগপৎ বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে একীভূত। যার সবকিছু বস্তুগত লাভের জন্য, আবার সবকিছুই আত্মার প্রশান্তির জন্য। তবে এই নতুন মানুষ পরিবার, বিয়ে, রাজনীতি ও ধর্মের ফাঁদে পা দেবে না। এক্ষেত্রে ভগবান রাজনীশের চিন্তা ছিল অত্যাধুনিক। সর্বোপরি তার নৈতিক শিক্ষা ও লৌকিকতাবর্জিত নয় বরং স্বাভাবিক। মানবতাবাদী এই দার্শনিকের কাছে প্রতিটি মানুষই গুরুত্বপূর্ণ এবং অসীম সম্ভাবনাময়। তার মতে, আমরা সবাই সম্ভাবনাময় বুদ্ধ এবং সবারই আলোক প্রাপ্তির ক্ষমতা রয়েছে। তিনি বিশ শতাব্দীর ভারতীয় দার্শনিক ভগবান রাজনীশ। তিনি শ্রী ভগবান রাজনীশ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং পরবর্তীতে পরিচিত হন ‘সেক্সগুরু’ হিসেবেও। বিতর্কিত এই মানুষটি জন্ম থেকেই আলোচিত বা সমালোচিত ছিলেন না। ভারতের মধ্য প্রদেশের একটি প্রত্যন্ত গ্রামের এক কাপড় ব্যবসায়ীর পরিবারে জন্ম তার। জীবনের প্রথম সাত বছর কাটে মামা বাড়ির আঙিনায়। ষাটের দশকে রাজনীশ নাম হলেও সত্তরের দশকে তিনিই বনে যান ওশো রাজনীশ। অনেক মেধাবী ছিলেন শ্রী রাজনীশ। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আর দর্শনের শিক্ষক ছিলেন রাজনীশ। পড়াশোনা চলাকালীন বিশ্বভ্রমণে আগ্রহী ছিলেন তিনি। সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী এই মানুষটি শুরু থেকেই ছিলেন গান্ধীবাদী। তার মতে, ‘সমাজতন্ত্র এবং গান্ধী উভয়েই দারিদ্র্যকে নির্মূল করার চেয়ে বিশেষায়িত করে।’ তিনি হিন্দু ধর্মের ব্রাহ্মণবাদের বিরুদ্ধেও অত্যন্ত জোরালো বক্তব্য উপস্থাপন করেছিলেন। গত্বাঁধা নিয়মকে ব্যাতিরেকে কীভাবে হাসি-আনন্দ আর নাচ-গানের মধ্য দিয়ে জীবনকে ভরিয়ে দেওয়া যায়, কীভাবে প্রেম, সততা, ধ্যান এবং অবাধ যৌন মিলনের মধ্য দিয়ে জীবনকে আরও ভালোভাবে উপভোগ করা যায়। জীবনটা হতে পারে স্বপ্নের মতো। একই সঙ্গে বুদ্ধ দর্শন তথা জাগতিকতায় নিরাসক্ততার বিপরীতে তিনি উচ্চকণ্ঠে বলেন— ‘যে ধর্ম জীবনকে অর্থহীন এবং দুঃখময় ভাবে জীবনকে ঘৃণা করতে উদ্বুদ্ধ করে, তা সত্য ধর্ম নয়। ধর্ম হলো একটি শিল্প যা আমাদের শিক্ষা দেয় কী করে জীবনকে উপভোগ করা যায়।’ এই ভাবনার রেশ ধরেই তিনি মানুষের যৌনক্রীড়ার ওপর বিভিন্ন ধর্মের আরোপিত অসঙ্গতি, বিধি-নিষেধ ও অবদানের শিক্ষাকে সমালোচনা করেছেন। ১৯৭০ সালে মুম্বাইতে তিনি নতুন ধরনের চিন্তাভাবনার প্রচার করেছেন। এটাই ছিল তার শুরুর ভাবনা। সেই থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তার প্রচারিত নতুন ভাবনাগুলো অনেকেই উদ্ভট বলে মনে করত। এরপর তিনি সাত বছর পুনেতে একইভাবে নিজের ভাবনার বহিঃপ্রকাশ করেন। একসময় তার ভাবনার পরিধি আশ্রমে রূপ নেয়। তিনি পুনেতেও মুম্বাইয়ের মতো বিশাল আশ্রম গড়ে তোলেন। প্রচুর মানুষ তার কাছে এসে শিষ্যত্ব গ্রহণ করতে থাকে। তার শিষ্যদের মধ্যে শিক্ষিত আর ধনী ব্যক্তির সংখ্যাই ছিল বেশি। এই গ্রুপের সদস্যরা সবসময় কমলা রঙের লম্বা আলখেল্লা পরত। তাদের গলায় ঝুলত রুদ্ধাখ্যের মালা। কাজ-কর্ম, ধ্যান, নাচ এবং আলোচনা ছিল এই জনগোষ্ঠীর নিত্যদিনের রুটিন। মনে তাদের যত ধরনের সংকোচবোধ ছুড়ে ফেলে দিত এর সদস্যরা। এরপর ১৯৮১ সালে ভগবান রাজনীশ পাড়ি জমান মার্কিন মুল্লুকে। রাজনীশ ওরেগনের একটি নির্জন জায়গায় একটি খামার কেনার পরিকল্পনা করেন। একটি কমিউন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সেখানকার কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন ছিল। সেই কাজের দায়িত্ব যার হাতে ছিল তার নাম দ্যান দারো। তখন দ্যানের কোনো ধারণাই ছিল না যে ভগবান রাজনীশের হাজার হাজার ভক্ত রয়েছে। এরা যখন ওরেগনে দলে দলে এসে জড়ো হতে থাকল তখনই তিনি সেটা টের পেলেন। সেখানে রাজনীশের কাছে অনেকেই জীবনের সবকিছু বিসর্জন দিয়েছিলেন। ১৯৮২ সালে কমিউনের নেতারা তাদের আবাসকে শহর হিসেবে ঘোষণা করার আবেদন করেন। তারা শহরের নাম দিতে চেয়েছিলেন রাজনীশপুরম। তাদের আবেদন মঞ্জুর হলে সেখানে অনেক দালান নির্মাণ করতে পারবে। কিন্তু সেখানকার স্থানীয়দের অনেকেই এর বিরোধিতা করে আদালতে মামলা করেন। দুই বছর ধরে মামলা চলার পর ১৯৮৪ সালে কমিউনের নেতারা দেখলেন মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার চমৎকার সুযোগ এসেছে। আর সেটা হলো স্থানীয় কোনো শিষ্যকে আদালতের দুজন বিচারকের পদে আসন্ন নির্বাচন। কিন্তু এই নির্বাচনে জয়ের পুরো ভোট রাজনীশ কওমের ছিল না। তাই ১৯৮৪ সালের গ্রীষ্মকাল নাগাদ পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে হাজার হাজার গৃহহীন মানুষকে তারা তাদের রাজনীশপুরমে নিয়ে আসতে শুরু করেন। কিন্তু প্রায় চার হাজার মানুষ রাজনীশপুরমে নিয়ে আসার পরও এই নির্বাচনে জেতার কোনো সুযোগ ছিল না। তাই তারা সিদ্ধান্ত নিল যে, এমনটা কিছু করতে হবে যেটা করলে ভোটের দিন ভোটাররা ভোট কেন্দ্রেই যাবে না। পরবর্তীকালে তদন্তে যা বেরিয়ে এসেছিল যে কওমের নেতারা গোপনে স্থানীয় ডালাস শহরে স্যালমনিয়া ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার শুরু করে। তদন্তকারীরা পরে দেখতে পান যে, রাজনীশ ভক্তের একটি দল শহরের আটটি সালাদ ক্যাফে ও দুটি রেস্টুরেন্টে এই ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে দেয়। এরপরই স্থানীয় হাসপাতালগুলোয় রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। রাজনীশপুরমের নেতৃত্বে যারা ছিলেন তারা ক্রমাগতই একা হয়ে যাচ্ছিলেন। তারা সবাইকে শত্রু বলে মনে করতে শুরু করেছিলেন। অ্যান গ্যারিটির মতো মানুষ যারা এসব দেখে সন্দিহান হয়ে পড়েছিলেন, তারাও ক্রমাগত চাপের শিকার হচ্ছিলেন। এর কিছুদিন পরই অ্যানকে কমিউন থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং পাঠানো হয় জার্মানির একটি কমিউনে। ওরেগনের সংকট ঘনীভূত হয় ১৯৮৫ সালে, যখন রাজনীশ কমিউনের কয়েকজন নেতা হঠাৎ করেই ইউরোপে পালিয়ে যান। এর কিছুদিন পরই ভগবান রাজনীশ জনসম্মুখে এক অদৃষ্টপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তিনি তার সাবেক ভক্তদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, অগ্নিকাণ্ড, গোপনে আড়ি পাতা এবং গণহারে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, এসব অপরাধ সম্পর্কে তিনি নিজে কিছুই জানতেন না। ভগবান রাজনীশের এই ভিডিও দেখে শেষ পর্যন্ত অ্যানের মোহভঙ্গ হয়। ভগবান রাজনীশ তদন্তকারীদের রাজনীশপুরে এসে তদন্ত করার আমন্ত্রণ জানান। তারা সেখানে সালমোনেয়ারে একটি গবেষণাগার আবিষ্কার করেন এবং আড়ি পাতার যন্ত্রপাতির খোঁজ পান। কমিউনের মূল নেতারা শেষ পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে তাদের শাস্তির মেয়াদ কমিয়ে আনেন। ডালাসে বিষ প্রয়োগের অভিযোগসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ তারা স্বীকার করে নেন। এতে তিনজনের কারাদণ্ড হয়। তাদের গুরু ভগবান রাজনীশের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ভঙ্গের প্রমাণ মেলে এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়। তল্পিতল্পা গুটিয়ে দেশে ফিরে আসতে হয়েছিল তাকে। ১৯৮৫ সালে ভারতের দিল্লিতে ফেরত আসার পর তাকে তার অনুসারীরা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। এরপর হিমাচল প্রদেশে ছয় সপ্তাহ অবস্থানের পর ভারত সরকারও তাকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। এরপর গুরু রাজনীশ নেপালে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঈশ্বরে বিশ্বাস ছিল না ভগবান রাজনীশের। তার মতবাদ হলো, ঈশ্বর মানুষের সৃষ্টি করা সব থেকে বড় মিথ্যা। তবে পূর্ণ সম্মতি ছিল সম্মোহনে। আধ্যাত্মিকতা আর যৌনতার সংমিশ্রণে এক ধরনের দার্শনিক জ্ঞানের প্রচার করতে থাকেন। অপার যৌনতাই মুক্তির মূলমন্ত্র হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন নিজে। ভগবান রাজনীশ যৌনতাকে দেখেছেন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে। তিনি দাবি করতেন, যৌনতায় খারাপ কিছু নেই। প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল কলেজে যৌনতার শিক্ষা দেওয়া উচিত। মানুষের মনকেই মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে দাবি করতেন তিনি। ধনকুবেররা এই গুরু রাজনীশের দীক্ষা নিতেন। তাদের সৌজন্যে রাজনীশের ব্যক্তিগত ধনসম্পদ ছিল প্রচুর। যদিও তিনি এসব ধনসম্পদকে অপাংক্তেয় মনে করতেন। ভারতের পুনেতে আছে ওশো ইন্টারন্যাশনাল মেডিটেশন রিসোর্ট। প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে আসেন কয়েক লাখ ভক্ত-পর্যটক। ১৯৯০ সালের ৯ জানুয়ারি প্রয়াত হন পুণের আশ্রমে থাকাকালীন অবস্থায়। অনেকেই বলেন, তাকে চক্রান্ত করে হত্যা করিয়েছে মার্কিন সরকার। আবার অনেকেই তার ওপর তোলা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা বলে দাবি করেন। ১৯৩১ সালের ১১ ডিসেম্বর ভারতের মধ্যপ্রদেশের রাইজান জেলার নরসিংহপুরে জন্ম নেওয়া ভগবান শ্রী রাজনীশের প্রকৃত নাম চন্দ্রমোহন জৈন। রাজনীশ ছিল তার উপনাম। ভক্তরা তাকে ওশো কিংবা আচার্য রাজনীশ নামেও চেনে। ভারতীয় গুডম্যান খ্যাত ভগবান রাজনীশকে তার ভক্তরা সাক্ষাৎ ভগবান বলে মনে করত। জীবদ্দশায় তিনি ছিলেন বিতর্কিত এবং রহস্যময় গুরু। ভক্তরা তাকে আধ্যাত্মিক মানুষ বলেও মনে করত। ভগবান শ্রী রাজনীশ তার মায়ের পিতামহের বাড়িতে এক বস্ত্র ব্যবসায়ীর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। ১১ সন্তানের মধ্যে রাজনীশ ছিলেন সবার বড়। তার বাবা ছিলেন বাবুলাল এবং মা ছিলেন সরস্বতী জৈন। তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দর্শন ভারতের সাওগড় বিশ্ববিদ্যালয়  থেকে। এরপর দর্শনের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন রায়পুর সংস্কৃত কলেজ এবং পরবর্তীতে জাবালপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। অধ্যাপনাকালেই ভারতের অন্যান্য প্রদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। কঠোর সমালোচকের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন এবং বিভিন্ন স্থানে বক্তৃতার মাধ্যমে তুলে ধরেন সমাজতন্ত্র, মহাত্মা গান্ধী, আনুষ্ঠানিক ধর্ম, প্রথাগত যৌনচর্চা প্রভৃতিসহ তার নিজস্ব ভাবনা বা দর্শন। অনেকেই তাকে বিশ শতাব্দীর দার্শনিক বলে থাকেন। কিন্তু তার তৈরি আশ্রমে উদ্দাম যৌনতার কারণে তিনি ব্যাপক আলোচিত এবং সমালোচিত হন। তার সম্পর্কে খ্যাতিমান লেখক ক্রিস্টোফার ক্যাডলার, ধর্মগুরু ইউজি কৃষ্ণমূর্তি প্রমুখ ব্যক্তিত্বের যেমন বিরূপতা রয়েছে, তেমনি তার দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধা ও প্রশংসাও করেছেন— খুশবন্ত সিং, জার্মান দার্শনিক পিটার স্লোটারডিজক, জালালউদ্দীন রুমীর অনুবাদক কোলেম্যান বার্কস, মার্কিন লেখক টম রবিনস প্রমুখসহ বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বরা। তিনি ছিলেন মূলত মুক্ত চিন্তক। জীবদ্দশায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রত্যাখ্যাত এবং দেশি-বিদেশি লেখক, সমালোচক ও ধর্মীয় নেতাদের কাছ থেকে বিপুল উপেক্ষা জুটেছে ভগবান শ্রী রাজনীশের। অতঃপর বিখ্যাত ব্যক্তিদের বেলায় যা ঘটে; ১৯৯০ সালের ১৯ জানুয়ারি রাজনীশের মৃত্যুর পর তিনি রাতারাতি ভারতসহ সারাবিশ্বে মহানায়ক বনে যান। গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে তার খ্যাতি। তার যত ভণ্ডামি ‘‘জীবনের দর্শনচ্যুত হয়ে অতলে তলিয়ে যেতে থাকে কেউ কেউ। নিজেকে তখন সহায়হীন মনে হয়। ঠিক এমন মুহূর্তে এক চিলতে আলোর দেখা পেলে মানুষ পায় বাঁচার আশা। সময়ে সময়ে এমনি আলোর শিখা হাতে হাজির হন কিছু স্বঘোষিত গুরু শ্রেণির ব্যক্তি। তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের থাকে অগাধ বিশ্বাস। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করা সেসব গুরুর ভণ্ডামি বেরিয়ে আসে লোকসম্মুখে। মানুষ নিজ জ্ঞানে যে নীতিকে শ্রেষ্ঠ মেনে জীবন বাঁধে তাকে অনেকেই ধর্ম বলে। তার ওপর সে ধর্ম যদি যৌনতার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় তবে বুঁদ হওয়ার বাকি থাকে না কিছুই। যে নীতি কারও ধ্যান-জ্ঞানে পরিণত হয় তাতে শুধু যৌনতা-মাখা বাণী দেওয়া নয়, যৌনতাকে উপভোগ্য করতে প্রতিটি বাঁকের বিশদ বর্ণনা এবং সবকিছুর বন্দোবস্তও স্বয়ং গুরু করে দিচ্ছেন তখন তা কামবুভুক্ষু মানুষকে টেনে আনবেই। ভগবান শ্রী রাজনীশ ওরফে, ‘সেক্সগুরু’ ওশো ছিলেন তেমনি একজন গুরু। গ্রিক ফিলোতেস, রোমান কিউপিড, হিন্দু মদনদেব কেউই কলির এই ভগবানের কাছে কিছু নন! অপার যৌনতাই ছিল রাজনীশের মতে মুক্তির মূলমন্ত্র। কোনো ঢাকঢাক-গুড়গুড় পছন্দ করতেন না তিনি। তিনি স্পষ্টই বলতেন, ‘আই অ্যাম অ্যা স্পিরিচুয়াল প্লেবয়! ইজ দেয়ার সামথিং রং?’ ১৯৭০ থেকে ১৯৭৪ মুম্বাই, তারপর সাত বছর পুনেতে তার অবস্থান। তার এমন বাণীর প্রচারে ক্রমশ আশ্রমের পরিধি বাড়ছিল, যুক্তরাজ্য আর মার্কিন অনুগামীর সংখ্যাও বাড়ছিল পাল্লা দিয়ে। শোনা যায় এ সময় থেকেই তার বক্তৃতায় নাকি দার্শনিক ব্যাখ্যার বদলে ক্রমশ জায়গা করে নিতে থাকে ‘নোংরা’ চুটকি। আধ্যাত্মিকতা আর যৌনতার ককটেল যে পাশ্চাত্যের এসব অনুগামীদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষক বিজ্ঞাপন, তা তিনি ভালোই বুঝে গিয়েছিলেন। ভক্তদের কল্যাণে ১৯৮১ সালে রাজনীশের পদধূলি পড়ল মার্কিন মুল্লুকে। ওরেগনে গড়ে উঠল নতুন আশ্রম ‘রাজনীশপুরম’। তারপর যত ভণ্ডামি কর্মকাণ্ড রাজনীশপুরমেই। কখনো হালকা সুর, কখনো হার্ড মিউজিকের সঙ্গে উত্তাল নাচ। কখনো বক্তৃতা, কখনো অনুগামীদের কপালে আঙ্গুল ঠেকিয়ে প্রশান্তির তরঙ্গ প্রেরণ। তার আশ্রমে ভিড় বাড়তে থাকা এসব ভক্তের কর্মকাণ্ড দেখে লোকে বলতে লাগল রাজনীশের আশ্রম যৌনতার মুক্তাঞ্চল। যে খুশি, যার সঙ্গে খুশি, যখন খুশি, যেভাবে খুশি সঙ্গম করতে পারত! সেখানে যে কেউই চাইলে মাসে নব্বই জনের সঙ্গেও নাকি সঙ্গম করতে পারত! এসব অভিযোগ তার দিকে ছুটে এলে, তিনি হাসিমুখে বলে গেছেন ‘লেট সেক্স বি আ প্লেফুলনেস, অ্যা ফান। আফটার দি ইনভেনশন অব পিল, ইটস নট অ্যা প্রবলেম।’ শুধু সেক্সের অভয়াশ্রম নয়, তার আশ্রম ছিল নেশার আখড়া হিসেবে অভিযুক্ত। নেশার পক্ষেও ছিল তার স্পষ্ট অবস্থান। তার ভাষ্যটা এরকম— ‘ইফ ইউ ক্যান নট প্রোভাইড মেডিটেশন, ইউ শুড প্রোভাইড মেডিসিন’। রাজনীশ মনে করেন, প্রতিটি হাসপাতালে একটি ঘর থাকা উচিত যেখানে মানুষ নেশা বা ড্রাগস নিতে পারে। সব সরকারেরই দায়িত্ব প্রত্যেকের জন্য একটু প্রশান্তির ব্যবস্থা করা। রাজনীশপুরমে মাদক আর নেশাদ্রব্যের পাশাপাশি ছিল অগাধ মার্কিন ডলারের আনাগোনা। সাংবাদিকরা তার নামই দিয়েছিলেন ‘রোলস রয়েস গুরু’! যারা তার ‘নব্য সন্ন্যাস’-এ দীক্ষা নিতেন, তাদের সৌজন্যে রাজনীশের ব্যক্তিগত রোলস রয়েসের সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছিল নিরানব্বইতে! সবার সমর্থন পেয়ে অতি সাহসী হয়ে মানুষ মারার খেলায় সচেষ্ট হয়ে পড়েছিলেন তিনি এবং তার ডান হাত মা আনন্দ শিলা। ততদিনে ওরেগন প্রদেশের বেশির ভাগ নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে রাজনীশ-ভক্তদেরই হাতে। কিন্তু সেখানকার স্থানীয়রা উড়ে এসে জুড়ে বসা এই সন্ন্যাসীদের কাণ্ডকারখানা দুচক্ষে দেখতে পারতেন না। আর ঠিক তখনই মার্কিন কাউন্টি নির্বাচন। অতএব রাজনীশপুরমের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে গেলে চাই চূড়ান্ত ক্ষমতা নিজেদের প্রার্থীকে জেতাতে হবে, বিরোধীরা যাতে ভোট দিতে যেতেই না পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। ফলে ফোনে আড়িপ াতা, ভোট জালিয়াতি, অগ্নিসংযোগসহ গর্হিত নানা কাজ তার মাধ্যমে হয়। এ ছাড়াও খাবারে বিষ মিশিয়ে ১৯৮৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ছড়ালো বিষ স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া। বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়লেন ৭০০-এর বেশি মানুষ। শুরু হলো তদন্ত। এগুলো প্রকাশ পাওয়ার পর ১৯৮৫ সালে রাজনীশ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। মার্কিন মুল্লুকে ভগবানের সাজানো বাগান শুকাতে থাকে। খুব দ্রুত নিজের সবকিছু গুটিয়ে দেশে ফিরে আসতে হয়েছিল। রাজনীশের এত এত ভণ্ডামি সবার সামনে উঠে এলেও তার গুণের প্রশংসা করেছেন মনমোহন সিং, ম্যাডোনা, কপিল দেব, টম ক্রুজ, দালাইলামা এমনকি ফেদেরিকো ফেলিনি। পঞ্চান্নটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে রাজনীশের বই। মৃত্যুর পরও পুনে তার গড়ে তোলা আশ্রম রমরমিয়ে চলছে এখনো। তবু তার এসব কেচ্ছা-কাহিনীর দাগ কি মুছে গেছে এতটুকু? ‘গুরু’ হয়েছেন বটে, ‘ভগবান’ কি হতে পেরেছেন জাবালপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের সাবেক অধ্যাপক শ্রী চন্দ্রমোহন জৈন? সুন্দরী বিবেকের আত্মহত্যা সুন্দরী বিবেক ছিলেন ভগবান রাজনীশের আমেরিকান ভক্ত। ১৯৯০ সালে এই ভক্তের হঠাৎই মৃত্যু হয়। তবে সংবাদমাধ্যমের ধারণা, সুন্দরী বিবেক আত্মহত্যা করেছেন। যদিও কোনো শিষ্যই এই মৃত্যুতে মারাত্মক ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে বলে স্বীকার করেনি কিংবা আত্মহত্যার এই তত্ত্বকে প্রমাণ করার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণও মেলেনি। তবে এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য সবাই রাজনীশকে দায়ী করেছেন। অনেকে মনে করেন, বিবেকের সঙ্গে রাজনীশের সম্পর্ক ছিল। আবার সর্বাধিক প্রেম আর অতিরিক্ত যৌনতার জন্যই সুন্দরী বিবেক আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে অনেকেই মনে করেন। তবে কিছু সূত্র থেকে উঠে আসে সেই আত্মহত্যার খণ্ডচিত্র। মৃত্যুর এক মাস আগে রাজনীশের ভ্রমণের সময় মুম্বাইয়ের হোটেলে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন দ্য বিউটিফুল খ্যাত সুন্দরী বিবেক। আর বিবেক চেয়েছিলেন রাজনীশের জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতার আগেই নিজেকে নিঃশেষ করে দিতে। এর আগেও এই ভক্ত ওরেগনের আশ্রমে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। শেষ নিঃশ্বাসের মুহূর্তে বিবেক রাজনীশের কাছে বলেছিলেন— ‘আমাকে যেতে দিন। আমার শরীর আমার জন্য নরকে পরিণত হয়েছে। কথিত আছে, রাজনীশের এসব অবৈধ কার্যকলাপের একমাত্র প্রমাণ ছিল রাজনীশের একান্ত অনুসারীরা। সুন্দরী বিবেকও ছিলেন সেই অনুসারীদের একজন। হয়তো এসব অপকর্ম থেকে মুক্তি পেতেই আত্মহত্যা করেন বিবেক। গুরুর ডান হাত শিলা ভগবান রাজনীশের সঙ্গে মা আনন্দ শিলার রয়েছে অনেক স্মৃতিকথা। শিলা রাজনীশকে পছন্দ করতেন বলেও অনেকে মনে করতেন। এই অন্ধ ভক্তকে আধ্যাত্মিকতা রপ্ত করিয়েছিলেন ভগবান রাজনীশ। শিলা জন্মগ্রহণ করেন শিলা অম্বালাল প্যাটেলে। বারোদা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্ব এবং আমেরিকার নিউজার্সির মানক্লেয়ার স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়ন করেন শিলা। স্টেট ইউনিভার্সিটিতে সিরামিক নিয়ে পড়াশোনা করেন। রাজনীশের সঙ্গে প্রথম পরিচয়টা ছিল শিলার বাবার মাধ্যমে। শিলার বাবা তার মেয়েকে রাজনীশের কাছে পেশ করেন। এরপর থেকেই নিজেকে ভালোভাবে উৎসর্গ করেন শিলা। রাজনীশ ১৯৮১ সালে আমেরিকার ওরেগনে আশ্রম গড়ে তোলেন এবং সেখানে মা আনন্দ শিলা ছিলেন ব্যক্তিগত সহকারী। রাজনীশপুরের দ্বিতীয় হুকুমদাতাও মানা হতো তাকে। কিছু কিছু জায়গায় শিলা ছিলেন গুরুর যোগ্য শিষ্য। ওরেগনের সেই বিষক্রিয়ায় রাজনীশের সঙ্গে শিলারও সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল। আর এজন্য রাজনীশের সঙ্গে মা আনন্দ শিলাকেও গ্রেফতার করেছিল ওরেগন পুলিশ। আদালতে রাজনীশপুরের সন্ন্যাসীরা তাদের অপকর্মের কথা স্বীকার করলে তাদের আদালত শাস্তিস্বরূপ দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়। ভগবান রাজনীশের অনেক কুকর্মের রাজসাক্ষী ছিলেন এই মা আনন্দ শিলা। অনেকে শিলাকে গুরুর রক্ষী মনে করত। গুরুর সঙ্গে শিলার অবৈধ সম্পর্কও ছিল বলে অনেকেই মনে করতেন। আপনি যেকোনো সুন্দর জিনিসেরই প্রেমী, তাতে সেটা কোনো কলা হোক, মনোরম পরিবেশ হোক বা কোনো ভালো চেহারার মানুষই হোক। শুধুমাত্র চোখ দিয়ে যে সুন্দরতা দেখা যাই সেটাকেই আপনি মান দেন তা নয়, বরঞ্চ সুন্দরতার অন্যান্য রূপের প্রতিও আপনি আকর্ষিত হন। মধুর সঙ্গীত আপনার ভালো লাগে, কোনো চরিত্রের ব্যক্তি আপনাকে আপীল করে। আপনি সাধারণের থেকে সবসময় একটু ওপরে থাকেন।ওপর ব্যক্তিকে খুশি করার একটি সহজাত গুন আপনার মধ্যে আছে। কেউ অসুবিধার মধ্যে থাকলে তাকে কিভাবে স্বাভাবিক করা যায় এবং তাদের নিজেদের দ্বারাই কিভাবে খুশি পাওয়া যায় সেটা আপনি জানেন। এটি একটি বিরল উপহার যেটা আপনি পেয়েছেন আর আপনার মত খুব লোকই এই পৃথিবীতে আছে।সাধারণত মানুষ যতটা বাস্তবিক হয় আপনি ততটা নন, এবং কোনো নির্ধারিত সময়ের সাক্ষাতের ক্ষেত্রে আপনি ততটা সময়নিষ্ঠ নন।আপনি একটু অতি-সংবেদনশীল আর কিছু সময় অযথা ক্ষুন্ন হন। তবে আপনি আপনার অসন্তোষ উচ্চকণ্ঠে ঝগড়া করার মাধ্যমে দেখান না। কোনো কিছুতে সঙ্গতির অভাব এমন একটা জিনিস যা আপনাকে যেকোনো মূল্যে দুরে রাখতে হবে। হতে পারে, আপনার কারো প্রতি রাগরোষ আছে, তবে অন্য কাউকে এই জিনিসটা আপনি বুঝতে দেন না। আপনি শুধু নিজের মধ্যেই এটাকে রাখেন। Osho Rajneesh এর সুখ ও সাচ্ছন্দের রাশিফল আপনার বিভিন্ন বিষয় গোপন রাখার অভ্যাস আছে যা আপনাকে বিভিন্ন উপায়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে নিজের কাছে গুপ্ত রাখতে সহায়তা করে। অন্য দিকে, আপনি আপনার আনুষ্ঠানিক শিক্ষালাভের ক্ষত্রে প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারেন। আপনি যদি সম্পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে কঠোর পরিশ্রম করেন তবে আপনি এই চ্যালেঞ্জগুলি অতিক্রম করতে পারবেন। আপনার শিক্ষালাভের দিকে মনোযোগ দেয়া উচিত এবং নিয়মিত আপনার পুরোনো পাঠ ঝালিয়ে নেওয়া উচিত। এটি করা উচিত যাতে আপনি যে সমস্ত জ্ঞান অর্জন করেছেন তা সম্পূর্ণ ভাবে আত্মস্থ করতে পারেন। নেতিবাচক সঙ্গে আপনার শিক্ষায় বাধা সৃষ্টি হতে পারে এই কারণে আপনার দেখেশুনে নিজের সঙ্গ স্থির করা উচিত। পরিস্থিতি কখনও কখনও আপনার বিরুদ্ধে যেতে পারে, তবে আপনাকে সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে যাতে আপনার শিক্ষাগত জীবন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।আপনি আদর্শবাদী এবং অন্যের কাছে অনুপ্রেরনাদায়ক, কারণ আপনার সহজাত আধ্যাত্মিক বিশ্বাস আছে। অত্যন্ত সংবেদনশীল, অন্যেরা আপনাকে পছন্দ করে - খুব কমই আপনি কারো আবেগকে আহত করেন। জীবনের কাঠিন্যকে বুঝে, সেটা থেকে শিক্ষা নিয়ে সম্পূর্ণ সতন্ত্র হাতে আপনি খুশি হন। Osho Rajneesh এর জীবন শৈলির রাশিফল আপনি আপনার যৌন-জীবন বৃদ্ধি করতে উদ্দেশ্যমূলক। যদি অন্যান্য কারণে আপনি অনুভব করেন যে ধন-সম্পদ জরুরী তো আপনি প্রচুর টাকা অর্জন করতে উত্সাহিত হবেন। যাই আপনার লক্ষ্য হোক, যৌন-সুখ আপনার কাছে একটা প্রেরনাদায়ক জিনিস। এটা নিয়ে ঝামেলা না করে এটাকে স্বীকৃতি দিন এবং সর্বোচ্চ সুবিধা ওঠাতে এটাকে ব্যবহার করুন। ১৯৬০ এর দশকে পাশ্চাত্যে তান্ত্রিক অনুশীলন এক নতুন মাত্রা পায় এর যৌন প্রক্রিয়াগুলির জন্য। ফলশ্রুতিতে, এর আধ্যাত্মিক অনুশীলনের প্রয়োজনীয় দিকগুলি অনেকক্ষেত্রে উপেক্ষিত হয়। তবে প্রচলিত তন্ত্রে এবং নয়া তন্ত্রে যৌনতার ভূমিকা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যভেদে আলাদা আলাদা হয়। 'প্রাণী চুম্বকত্ব'এর মতো বিদ্যা নয়াতন্ত্রে নতুন মাত্রা পায়। অনুশীলনকারী[সম্পাদনা] তন্ত্রের এই নয়া মতবাদের অনেক শিক্ষকই এতে যৌনতা এবং যৌন অভিজ্ঞতাগুলিকে 'পবিত্র কর্ম' বলে মনে করেন শিক্ষার্থীদের আধ্যাত্মিক স্তরের উন্নতির জন্য।[৩] এরা প্রায়শই কুণ্ডলিনী শক্তির জাগরণের কথা বলে থাকেন,[৪][৫] মাতৃকাপূজা করে ষটচক্রকে সক্রিয় করে তোলার জন্য।  এক্ষেত্রে, "তন্ত্র"কে যৌন ও প্রেমের সম্বন্ধ পূরণের মাধ্যম হিসাবে গণ্য করা হয়। অপরপক্ষে, আধুনিক তন্ত্রের প্রাঙ্গনে অনেক নিষ্ঠাবান পণ্ডিত ও শিক্ষক নিয়োজিত। গুরু ভগবান শ্রী রজনীশ (যিনি পরে ওশো নামে পরিচিত হন) তন্ত্রকে শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশল, জৈব-শক্তি, যোগসাধনা, এবং অঙ্গ-মর্দনের সাথে মিলিয়ে তাঁর আশ্রমের শিষ্যদের শেখান। তিনি টাও, বৌদ্ধ ও অতীন্দ্রীয় দর্শনের উপর তান্ত্রিক মতাবলম্বী অনেক বই রচনা করেছেন। এগুলোর মধ্যে একটি হল Tantra, The Supreme Understanding, যেখানে তিনি তিলোপা বিরচিত "মহামুদ্রা সঙ্গীত"-এর গূঢ় অর্থ বিশ্লেষণ করেছেন। এছাড়া বিজ্ঞান ভৈরব-এ রয়েছে ১১২ টি উপায় যেখানে নির্বাণ তত্ত্বের আলোচনা আছে গূহ্য সাধনামূলক গ্রন্থের বিভিন্ন বিষয়ের ফলাফলের উপর।[৭] তাঁর শিষ্যেরা এই মতাদর্শকে আরও এগিয়ে নিয়ে গেছেন। ওশোর একজন শিষ্য মার্গট আনন্দ "আকাশনৃত্য" তন্ত্র নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর লেখা বিভিন্ন বইয়ের মধ্যে হল প্রতিদিনের পরমানন্দের বিদ্যা এবং যৌন জাদু বিদ্যা। অপর এক আধুনিক তান্ত্রিকা ড্যানিয়েল ওডিয়ের, যিনি বিশ্বাস করেন যে, কামনা-বাসনা হল অতীন্দ্রীয় বা তুরীয় অবস্থায় পৌঁছানোর যুক্তিসিদ্ধ পথ।[৮] যৌন-বিশেষজ্ঞ এনি স্প্রিঙ্কলে এবং যৌনবিদ জোসেফ ক্রেমার হলেন 'পবিত্র যৌন অঙ্গ মর্দন'-এর দুজন অনুশীলনকারী। ১৯৯৭ সালে দেবরাহ্ আনাপল একটি 'জাতীয় প্রেম উদযাপন'-এর আয়োজন করে বলেন, "পবিত্র যৌনতার উপর এটি একটি আলাপ-আলোচনাসভা যেখানে বৌদ্ধ, সুফি, টাও, ইহুদি, পেগান, হিন্দু, শিন্টো, উইকান, ওকাল্ট, আমেরিকার আদিম জনজাতি, এবং আফ্রো-ক্যারিবিয়ান সংস্কৃতির তান্ত্রিক গুরুদের এক জায়গায় প্রথমবার নিয়ে আসা হল।" সমালোচনা[সম্পাদনা] জর্জ ফিউয়ারস্টেন, একজন জার্মান ভারতবিদ , যিনি তন্ত্রে দীক্ষিতও, তাঁর তন্ত্র :পরমানন্দ লাভের পথ: বইয়ের শেষে উল্লেখ করেন, "অনেকেই নয়া তান্ত্রিক মতবাদে আকৃষ্ট হয় এতে লৈঙ্গিক যৌন-উত্তেজনা ও আনন্দ আস্বাদনের জন্য, যেহেতু এতে আধ্যাত্মিক অনুভূতি জাগরণের লক্ষ্যে আবেগঘন অবস্থার দরকার হয়। আমরা যদি ভারতে তন্ত্রের ইতিহাস সম্বন্ধে আরও ভালভাবে অবগত হতাম , তাহলে প্রত্যেক প্রজন্মের জন্য একটা তুলনামূলক পরিস্থিতি তৈরী হতে পারত।" তিনি আরও বলেন , "আজকাল তন্ত্রের তর্জমা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই পুস্তকের আকারে পাওয়া যায়... যা হবু তান্ত্রিকদের নিজ নিজ মতাদর্শমূলক অনুষ্ঠানাদি করার সুযোগ করে দিচ্ছে, যেটাকে তারা খুব সহজেই তন্ত্রের নামে চালাতে পারে। " ভগবান রাজনীশের যত কাণ্ড! কে এই ভগবান শ্রী রাজনীশ তার যত ভণ্ডামি সুন্দরী বিবেকের আত্মহত্যা গুরুর ডান হাত শিলা Osho Rajneesh এর সুখ ও সাচ্ছন্দের রাশিফল Osho Rajneesh এর জীবন শৈলির রাশিফল অনুশীলনকারী সমালোচনা








ভক্তদের সঙ্গে নিজ আশ্রমে গুরু রাজনীশ

ক্সগুরু ভগবান শ্রী রাজনীশ। জীবনে বহুবার বিতর্কিত হয়েছেন এই সন্ন্যাসী। ছিলেন প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক। বিশ্বাস করতেন সেক্সের মাধ্যমেই পরমাত্মার সঙ্গে মিলিত হওয়া সম্ভব। আর মানুষের সৃষ্টি সবচেয়ে বড় মিথ্যার নাম হলো ‘ঈশ্বর’। ধ্যানের শিক্ষা দিয়ে গেছেন নিজের শিষ্যদের। সেই সঙ্গে তার আশ্রমে অবাধে সেক্সের সুযোগ ছিল। লিখেছেন

 

রক্ষণশীলতার শৃঙ্খল থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মনকে মুক্ত করার স্বপ্ন দেখতেন ভগবান রাজনীশ। যার আধ্যাত্মিকতা গৌতম বুদ্ধের মতো মহীয়ান এবং একই সঙ্গে যার ইহজাগতিকতা গ্রিক উপন্যাসে যুক্ত করার মতো স্বচ্ছ বস্তুগত। যিনি যুগপৎ বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে একীভূত। যার সবকিছু বস্তুগত লাভের জন্য, আবার সবকিছুই আত্মার প্রশান্তির জন্য। তবে এই নতুন মানুষ পরিবার, বিয়ে, রাজনীতি ও ধর্মের ফাঁদে পা দেবে না। এক্ষেত্রে ভগবান রাজনীশের চিন্তা ছিল অত্যাধুনিক। সর্বোপরি তার নৈতিক শিক্ষা ও লৌকিকতাবর্জিত নয় বরং স্বাভাবিক। মানবতাবাদী এই দার্শনিকের কাছে প্রতিটি মানুষই গুরুত্বপূর্ণ এবং অসীম সম্ভাবনাময়। তার মতে, আমরা সবাই সম্ভাবনাময় বুদ্ধ এবং সবারই আলোক প্রাপ্তির ক্ষমতা রয়েছে। তিনি বিশ শতাব্দীর ভারতীয় দার্শনিক ভগবান রাজনীশ। তিনি শ্রী ভগবান রাজনীশ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং পরবর্তীতে পরিচিত হন ‘সেক্সগুরু’ হিসেবেও। বিতর্কিত এই মানুষটি জন্ম থেকেই আলোচিত বা সমালোচিত ছিলেন না। ভারতের মধ্য প্রদেশের একটি প্রত্যন্ত গ্রামের এক কাপড় ব্যবসায়ীর পরিবারে জন্ম তার। জীবনের প্রথম সাত বছর কাটে মামা বাড়ির আঙিনায়। ষাটের দশকে রাজনীশ নাম হলেও সত্তরের দশকে তিনিই বনে যান ওশো রাজনীশ। অনেক মেধাবী ছিলেন শ্রী রাজনীশ। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আর দর্শনের শিক্ষক ছিলেন রাজনীশ। পড়াশোনা চলাকালীন বিশ্বভ্রমণে আগ্রহী ছিলেন তিনি। সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী এই মানুষটি শুরু থেকেই ছিলেন গান্ধীবাদী। তার মতে, ‘সমাজতন্ত্র এবং গান্ধী উভয়েই দারিদ্র্যকে নির্মূল করার চেয়ে বিশেষায়িত করে।’ তিনি হিন্দু ধর্মের ব্রাহ্মণবাদের বিরুদ্ধেও অত্যন্ত জোরালো বক্তব্য উপস্থাপন করেছিলেন।


Read More:  Chanakya Biography

 গত্বাঁধা নিয়মকে ব্যাতিরেকে কীভাবে হাসি-আনন্দ আর নাচ-গানের মধ্য দিয়ে জীবনকে ভরিয়ে দেওয়া যায়, কীভাবে প্রেম, সততা, ধ্যান এবং অবাধ যৌন মিলনের মধ্য দিয়ে জীবনকে আরও ভালোভাবে উপভোগ করা যায়। জীবনটা হতে পারে স্বপ্নের মতো। একই সঙ্গে বুদ্ধ দর্শন তথা জাগতিকতায় নিরাসক্ততার বিপরীতে তিনি উচ্চকণ্ঠে বলেন— ‘যে ধর্ম জীবনকে অর্থহীন এবং দুঃখময় ভাবে জীবনকে ঘৃণা করতে উদ্বুদ্ধ করে, তা সত্য ধর্ম নয়। ধর্ম হলো একটি শিল্প যা আমাদের শিক্ষা দেয় কী করে জীবনকে উপভোগ করা যায়।’ এই ভাবনার রেশ ধরেই তিনি মানুষের যৌনক্রীড়ার ওপর বিভিন্ন ধর্মের আরোপিত অসঙ্গতি, বিধি-নিষেধ ও অবদানের শিক্ষাকে সমালোচনা করেছেন।

১৯৭০ সালে মুম্বাইতে তিনি নতুন ধরনের চিন্তাভাবনার প্রচার করেছেন। এটাই ছিল তার শুরুর ভাবনা। সেই থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তার প্রচারিত নতুন ভাবনাগুলো অনেকেই উদ্ভট বলে মনে করত। এরপর তিনি সাত বছর পুনেতে একইভাবে নিজের ভাবনার বহিঃপ্রকাশ করেন। একসময় তার ভাবনার পরিধি আশ্রমে রূপ নেয়। তিনি পুনেতেও মুম্বাইয়ের মতো বিশাল আশ্রম গড়ে তোলেন। প্রচুর মানুষ তার কাছে এসে শিষ্যত্ব গ্রহণ করতে থাকে। তার শিষ্যদের মধ্যে শিক্ষিত আর ধনী ব্যক্তির সংখ্যাই ছিল বেশি। এই গ্রুপের সদস্যরা সবসময় কমলা রঙের লম্বা আলখেল্লা পরত। তাদের গলায় ঝুলত রুদ্ধাখ্যের মালা। কাজ-কর্ম, ধ্যান, নাচ এবং আলোচনা ছিল এই জনগোষ্ঠীর নিত্যদিনের রুটিন। মনে তাদের যত ধরনের সংকোচবোধ ছুড়ে ফেলে দিত এর সদস্যরা।

এরপর ১৯৮১ সালে ভগবান রাজনীশ পাড়ি জমান মার্কিন মুল্লুকে। রাজনীশ ওরেগনের একটি নির্জন জায়গায় একটি খামার কেনার পরিকল্পনা করেন। একটি কমিউন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সেখানকার কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন ছিল। সেই কাজের দায়িত্ব যার হাতে ছিল তার নাম দ্যান দারো। তখন দ্যানের কোনো ধারণাই ছিল না যে ভগবান রাজনীশের হাজার হাজার ভক্ত রয়েছে। এরা যখন ওরেগনে দলে দলে এসে জড়ো হতে থাকল তখনই তিনি সেটা টের পেলেন। সেখানে রাজনীশের কাছে অনেকেই জীবনের সবকিছু বিসর্জন দিয়েছিলেন। ১৯৮২ সালে কমিউনের নেতারা তাদের আবাসকে শহর হিসেবে ঘোষণা করার আবেদন করেন। তারা শহরের নাম দিতে চেয়েছিলেন রাজনীশপুরম। তাদের আবেদন মঞ্জুর হলে সেখানে অনেক দালান নির্মাণ করতে পারবে। কিন্তু সেখানকার স্থানীয়দের অনেকেই এর বিরোধিতা করে আদালতে মামলা করেন। দুই বছর ধরে মামলা চলার পর ১৯৮৪ সালে কমিউনের নেতারা দেখলেন মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার চমৎকার সুযোগ এসেছে। আর সেটা হলো স্থানীয় কোনো শিষ্যকে আদালতের দুজন বিচারকের পদে আসন্ন নির্বাচন। কিন্তু এই নির্বাচনে জয়ের পুরো ভোট রাজনীশ কওমের ছিল না।

তাই ১৯৮৪ সালের গ্রীষ্মকাল নাগাদ পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে হাজার হাজার গৃহহীন মানুষকে তারা তাদের রাজনীশপুরমে নিয়ে আসতে শুরু করেন। কিন্তু প্রায় চার হাজার মানুষ রাজনীশপুরমে নিয়ে আসার পরও এই নির্বাচনে জেতার কোনো সুযোগ ছিল না। তাই তারা সিদ্ধান্ত নিল যে, এমনটা কিছু করতে হবে যেটা করলে ভোটের দিন ভোটাররা ভোট কেন্দ্রেই যাবে না। পরবর্তীকালে তদন্তে যা বেরিয়ে এসেছিল যে কওমের নেতারা গোপনে স্থানীয় ডালাস শহরে স্যালমনিয়া ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার শুরু করে। তদন্তকারীরা পরে দেখতে পান যে, রাজনীশ ভক্তের একটি দল শহরের আটটি সালাদ ক্যাফে ও দুটি রেস্টুরেন্টে এই ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে দেয়। এরপরই স্থানীয় হাসপাতালগুলোয় রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। রাজনীশপুরমের নেতৃত্বে যারা ছিলেন তারা ক্রমাগতই একা হয়ে যাচ্ছিলেন। তারা সবাইকে শত্রু বলে মনে করতে শুরু করেছিলেন। অ্যান গ্যারিটির মতো মানুষ যারা এসব দেখে সন্দিহান হয়ে পড়েছিলেন, তারাও ক্রমাগত চাপের শিকার হচ্ছিলেন। এর কিছুদিন পরই অ্যানকে কমিউন থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং পাঠানো হয় জার্মানির একটি কমিউনে। ওরেগনের সংকট ঘনীভূত হয় ১৯৮৫ সালে, যখন রাজনীশ কমিউনের কয়েকজন নেতা হঠাৎ করেই ইউরোপে পালিয়ে যান। এর কিছুদিন পরই ভগবান রাজনীশ জনসম্মুখে এক অদৃষ্টপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তিনি তার সাবেক ভক্তদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, অগ্নিকাণ্ড, গোপনে আড়ি পাতা এবং গণহারে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, এসব অপরাধ সম্পর্কে তিনি নিজে কিছুই জানতেন না।

ভগবান রাজনীশের এই ভিডিও দেখে শেষ পর্যন্ত অ্যানের মোহভঙ্গ হয়। ভগবান রাজনীশ তদন্তকারীদের রাজনীশপুরে এসে তদন্ত করার আমন্ত্রণ জানান। তারা সেখানে সালমোনেয়ারে একটি গবেষণাগার আবিষ্কার করেন এবং আড়ি পাতার যন্ত্রপাতির খোঁজ পান। কমিউনের মূল নেতারা শেষ পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে তাদের শাস্তির মেয়াদ কমিয়ে আনেন। ডালাসে বিষ প্রয়োগের অভিযোগসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ তারা স্বীকার করে নেন। এতে তিনজনের কারাদণ্ড হয়। তাদের গুরু ভগবান রাজনীশের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ভঙ্গের প্রমাণ মেলে এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়। তল্পিতল্পা গুটিয়ে দেশে ফিরে আসতে হয়েছিল তাকে। ১৯৮৫ সালে ভারতের দিল্লিতে ফেরত আসার পর তাকে তার অনুসারীরা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। এরপর হিমাচল প্রদেশে ছয় সপ্তাহ অবস্থানের পর ভারত সরকারও তাকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। এরপর গুরু রাজনীশ নেপালে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঈশ্বরে বিশ্বাস ছিল না ভগবান রাজনীশের।

তার মতবাদ হলো, ঈশ্বর মানুষের সৃষ্টি করা সব থেকে বড় মিথ্যা। তবে পূর্ণ সম্মতি ছিল সম্মোহনে। আধ্যাত্মিকতা আর যৌনতার সংমিশ্রণে এক ধরনের দার্শনিক জ্ঞানের প্রচার করতে থাকেন। অপার যৌনতাই মুক্তির মূলমন্ত্র হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন নিজে। ভগবান রাজনীশ যৌনতাকে দেখেছেন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে। তিনি দাবি করতেন, যৌনতায় খারাপ কিছু নেই। প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল কলেজে যৌনতার শিক্ষা দেওয়া উচিত। মানুষের মনকেই মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে দাবি করতেন তিনি। ধনকুবেররা এই গুরু রাজনীশের দীক্ষা নিতেন। তাদের সৌজন্যে রাজনীশের ব্যক্তিগত ধনসম্পদ ছিল প্রচুর। যদিও তিনি এসব ধনসম্পদকে অপাংক্তেয় মনে করতেন। ভারতের পুনেতে আছে ওশো ইন্টারন্যাশনাল মেডিটেশন রিসোর্ট। প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে আসেন কয়েক লাখ ভক্ত-পর্যটক। ১৯৯০ সালের ৯ জানুয়ারি প্রয়াত হন পুণের আশ্রমে থাকাকালীন অবস্থায়। অনেকেই বলেন, তাকে চক্রান্ত করে হত্যা করিয়েছে মার্কিন সরকার। আবার অনেকেই তার ওপর তোলা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা বলে দাবি করেন।

১৯৩১ সালের ১১ ডিসেম্বর ভারতের মধ্যপ্রদেশের রাইজান জেলার নরসিংহপুরে জন্ম নেওয়া ভগবান শ্রী রাজনীশের প্রকৃত নাম চন্দ্রমোহন জৈন। রাজনীশ ছিল তার উপনাম। ভক্তরা তাকে ওশো কিংবা আচার্য রাজনীশ নামেও চেনে। ভারতীয় গুডম্যান খ্যাত ভগবান রাজনীশকে তার ভক্তরা সাক্ষাৎ ভগবান বলে মনে করত। জীবদ্দশায় তিনি ছিলেন বিতর্কিত এবং রহস্যময় গুরু। ভক্তরা তাকে আধ্যাত্মিক মানুষ বলেও মনে করত। ভগবান শ্রী রাজনীশ তার মায়ের পিতামহের বাড়িতে এক বস্ত্র ব্যবসায়ীর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। ১১ সন্তানের মধ্যে রাজনীশ ছিলেন সবার বড়। তার বাবা ছিলেন বাবুলাল এবং মা ছিলেন সরস্বতী জৈন। তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দর্শন ভারতের সাওগড় বিশ্ববিদ্যালয়  থেকে। এরপর দর্শনের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন রায়পুর সংস্কৃত কলেজ এবং পরবর্তীতে জাবালপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। অধ্যাপনাকালেই ভারতের অন্যান্য প্রদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। কঠোর সমালোচকের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন এবং বিভিন্ন স্থানে বক্তৃতার মাধ্যমে তুলে ধরেন সমাজতন্ত্র, মহাত্মা গান্ধী, আনুষ্ঠানিক ধর্ম, প্রথাগত যৌনচর্চা প্রভৃতিসহ তার নিজস্ব ভাবনা বা দর্শন। অনেকেই তাকে বিশ শতাব্দীর দার্শনিক বলে থাকেন। কিন্তু তার তৈরি আশ্রমে উদ্দাম যৌনতার কারণে তিনি ব্যাপক আলোচিত এবং সমালোচিত হন। তার সম্পর্কে খ্যাতিমান লেখক ক্রিস্টোফার ক্যাডলার, ধর্মগুরু ইউজি কৃষ্ণমূর্তি প্রমুখ ব্যক্তিত্বের যেমন বিরূপতা রয়েছে, তেমনি তার দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধা ও প্রশংসাও করেছেন— খুশবন্ত সিং, জার্মান দার্শনিক পিটার স্লোটারডিজক, জালালউদ্দীন রুমীর অনুবাদক কোলেম্যান বার্কস, মার্কিন লেখক টম রবিনস প্রমুখসহ বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বরা। তিনি ছিলেন মূলত মুক্ত চিন্তক। জীবদ্দশায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রত্যাখ্যাত এবং দেশি-বিদেশি লেখক, সমালোচক ও ধর্মীয় নেতাদের কাছ থেকে বিপুল উপেক্ষা জুটেছে ভগবান শ্রী রাজনীশের। অতঃপর বিখ্যাত ব্যক্তিদের বেলায় যা ঘটে; ১৯৯০ সালের ১৯ জানুয়ারি রাজনীশের মৃত্যুর পর তিনি রাতারাতি ভারতসহ সারাবিশ্বে মহানায়ক বনে যান। গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে তার খ্যাতি।

আরও পড়ুন:Biography of Buddhist guru Dalai lama || বৌদ্ধ ধর্মগুরু দালাইলামার জীবন কাহিনী

তার যত ভণ্ডামি

‘‘জীবনের দর্শনচ্যুত হয়ে অতলে তলিয়ে যেতে থাকে কেউ কেউ। নিজেকে তখন সহায়হীন মনে হয়। ঠিক এমন মুহূর্তে এক চিলতে আলোর দেখা পেলে মানুষ পায় বাঁচার আশা। সময়ে সময়ে এমনি আলোর শিখা হাতে হাজির হন কিছু স্বঘোষিত গুরু শ্রেণির ব্যক্তি। তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের থাকে অগাধ বিশ্বাস। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করা সেসব গুরুর ভণ্ডামি বেরিয়ে আসে লোকসম্মুখে।

 

মানুষ নিজ জ্ঞানে যে নীতিকে শ্রেষ্ঠ মেনে জীবন বাঁধে তাকে অনেকেই ধর্ম বলে। তার ওপর সে ধর্ম যদি যৌনতার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় তবে বুঁদ হওয়ার বাকি থাকে না কিছুই। যে নীতি কারও ধ্যান-জ্ঞানে পরিণত হয় তাতে শুধু যৌনতা-মাখা বাণী দেওয়া নয়, যৌনতাকে উপভোগ্য করতে প্রতিটি বাঁকের বিশদ বর্ণনা এবং সবকিছুর বন্দোবস্তও স্বয়ং গুরু করে দিচ্ছেন তখন তা কামবুভুক্ষু মানুষকে টেনে আনবেই। ভগবান শ্রী রাজনীশ ওরফে, ‘সেক্সগুরু’ ওশো ছিলেন তেমনি একজন গুরু। গ্রিক ফিলোতেস, রোমান কিউপিড, হিন্দু মদনদেব কেউই কলির এই ভগবানের কাছে কিছু নন! অপার যৌনতাই ছিল রাজনীশের মতে মুক্তির মূলমন্ত্র। কোনো ঢাকঢাক-গুড়গুড় পছন্দ করতেন না তিনি। তিনি স্পষ্টই বলতেন, ‘আই অ্যাম অ্যা স্পিরিচুয়াল প্লেবয়! ইজ দেয়ার সামথিং রং?’ ১৯৭০ থেকে ১৯৭৪ মুম্বাই, তারপর সাত বছর পুনেতে তার অবস্থান। তার এমন বাণীর প্রচারে ক্রমশ আশ্রমের পরিধি বাড়ছিল, যুক্তরাজ্য আর মার্কিন অনুগামীর সংখ্যাও বাড়ছিল পাল্লা দিয়ে। শোনা যায় এ সময় থেকেই তার বক্তৃতায় নাকি দার্শনিক ব্যাখ্যার বদলে ক্রমশ জায়গা করে নিতে থাকে ‘নোংরা’ চুটকি। আধ্যাত্মিকতা আর যৌনতার ককটেল যে পাশ্চাত্যের এসব অনুগামীদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষক বিজ্ঞাপন, তা তিনি ভালোই বুঝে গিয়েছিলেন। ভক্তদের কল্যাণে ১৯৮১ সালে রাজনীশের পদধূলি পড়ল মার্কিন মুল্লুকে। ওরেগনে গড়ে উঠল নতুন আশ্রম ‘রাজনীশপুরম’।

তারপর যত ভণ্ডামি কর্মকাণ্ড রাজনীশপুরমেই। কখনো হালকা সুর, কখনো হার্ড মিউজিকের সঙ্গে উত্তাল নাচ। কখনো বক্তৃতা, কখনো অনুগামীদের কপালে আঙ্গুল ঠেকিয়ে প্রশান্তির তরঙ্গ প্রেরণ। তার আশ্রমে ভিড় বাড়তে থাকা এসব ভক্তের কর্মকাণ্ড দেখে লোকে বলতে লাগল রাজনীশের আশ্রম যৌনতার মুক্তাঞ্চল। যে খুশি, যার সঙ্গে খুশি, যখন খুশি, যেভাবে খুশি সঙ্গম করতে পারত! সেখানে যে কেউই চাইলে মাসে নব্বই জনের সঙ্গেও নাকি সঙ্গম করতে পারত! এসব অভিযোগ তার দিকে ছুটে এলে, তিনি হাসিমুখে বলে গেছেন ‘লেট সেক্স বি আ প্লেফুলনেস, অ্যা ফান। আফটার দি ইনভেনশন অব পিল, ইটস নট অ্যা প্রবলেম।’ শুধু সেক্সের অভয়াশ্রম নয়, তার আশ্রম ছিল নেশার আখড়া হিসেবে অভিযুক্ত। নেশার পক্ষেও ছিল তার স্পষ্ট অবস্থান। তার ভাষ্যটা এরকম— ‘ইফ ইউ ক্যান নট প্রোভাইড মেডিটেশন, ইউ শুড প্রোভাইড মেডিসিন’। রাজনীশ মনে করেন, প্রতিটি হাসপাতালে একটি ঘর থাকা উচিত যেখানে মানুষ নেশা বা ড্রাগস নিতে পারে। সব সরকারেরই দায়িত্ব প্রত্যেকের জন্য একটু প্রশান্তির ব্যবস্থা করা।

রাজনীশপুরমে মাদক আর নেশাদ্রব্যের পাশাপাশি ছিল অগাধ মার্কিন ডলারের আনাগোনা। সাংবাদিকরা তার নামই দিয়েছিলেন ‘রোলস রয়েস গুরু’! যারা তার ‘নব্য সন্ন্যাস’-এ দীক্ষা নিতেন, তাদের সৌজন্যে রাজনীশের ব্যক্তিগত রোলস রয়েসের সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছিল নিরানব্বইতে! সবার সমর্থন পেয়ে অতি সাহসী হয়ে মানুষ মারার খেলায় সচেষ্ট হয়ে পড়েছিলেন তিনি এবং তার ডান হাত মা আনন্দ শিলা। ততদিনে ওরেগন প্রদেশের বেশির ভাগ নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে রাজনীশ-ভক্তদেরই হাতে। কিন্তু সেখানকার স্থানীয়রা উড়ে এসে জুড়ে বসা এই সন্ন্যাসীদের কাণ্ডকারখানা দুচক্ষে দেখতে পারতেন না। আর ঠিক তখনই মার্কিন কাউন্টি নির্বাচন। অতএব রাজনীশপুরমের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে গেলে চাই চূড়ান্ত ক্ষমতা নিজেদের প্রার্থীকে জেতাতে হবে, বিরোধীরা যাতে ভোট দিতে যেতেই না পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। ফলে ফোনে আড়িপ াতা, ভোট জালিয়াতি, অগ্নিসংযোগসহ গর্হিত নানা কাজ তার মাধ্যমে হয়। এ ছাড়াও খাবারে বিষ মিশিয়ে ১৯৮৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ছড়ালো বিষ স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া। বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়লেন ৭০০-এর বেশি মানুষ। শুরু হলো তদন্ত। এগুলো প্রকাশ পাওয়ার পর ১৯৮৫ সালে রাজনীশ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। মার্কিন মুল্লুকে ভগবানের সাজানো বাগান শুকাতে থাকে। খুব দ্রুত নিজের সবকিছু গুটিয়ে দেশে ফিরে আসতে হয়েছিল। রাজনীশের এত এত ভণ্ডামি সবার সামনে উঠে এলেও তার গুণের প্রশংসা করেছেন মনমোহন সিং, ম্যাডোনা, কপিল দেব, টম ক্রুজ, দালাইলামা এমনকি ফেদেরিকো ফেলিনি। পঞ্চান্নটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে রাজনীশের বই। মৃত্যুর পরও পুনে তার গড়ে তোলা আশ্রম রমরমিয়ে চলছে এখনো। তবু তার এসব কেচ্ছা-কাহিনীর দাগ কি মুছে গেছে এতটুকু? ‘গুরু’ হয়েছেন বটে, ‘ভগবান’ কি হতে পেরেছেন জাবালপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের সাবেক অধ্যাপক শ্রী চন্দ্রমোহন জৈন?

 

সুন্দরী বিবেকের আত্মহত্যা

সুন্দরী বিবেক ছিলেন ভগবান রাজনীশের আমেরিকান ভক্ত। ১৯৯০ সালে এই ভক্তের হঠাৎই মৃত্যু হয়। তবে সংবাদমাধ্যমের ধারণা, সুন্দরী বিবেক আত্মহত্যা করেছেন। যদিও কোনো শিষ্যই এই মৃত্যুতে মারাত্মক ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে বলে স্বীকার করেনি কিংবা আত্মহত্যার এই তত্ত্বকে প্রমাণ করার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণও মেলেনি। তবে এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য সবাই রাজনীশকে দায়ী করেছেন। অনেকে মনে করেন, বিবেকের সঙ্গে রাজনীশের সম্পর্ক ছিল।

আবার সর্বাধিক প্রেম আর অতিরিক্ত যৌনতার জন্যই সুন্দরী বিবেক আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে অনেকেই মনে করেন। তবে কিছু সূত্র থেকে উঠে আসে সেই আত্মহত্যার খণ্ডচিত্র। মৃত্যুর এক মাস আগে রাজনীশের ভ্রমণের সময় মুম্বাইয়ের হোটেলে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন দ্য বিউটিফুল খ্যাত সুন্দরী বিবেক। আর বিবেক চেয়েছিলেন রাজনীশের জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতার আগেই নিজেকে নিঃশেষ করে দিতে। এর আগেও এই ভক্ত ওরেগনের আশ্রমে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। শেষ নিঃশ্বাসের মুহূর্তে বিবেক রাজনীশের কাছে বলেছিলেন— ‘আমাকে যেতে দিন। আমার শরীর আমার জন্য নরকে পরিণত হয়েছে। কথিত আছে, রাজনীশের এসব অবৈধ কার্যকলাপের একমাত্র প্রমাণ ছিল রাজনীশের একান্ত অনুসারীরা। সুন্দরী বিবেকও ছিলেন সেই অনুসারীদের একজন। হয়তো এসব অপকর্ম থেকে মুক্তি পেতেই আত্মহত্যা করেন বিবেক।

গুরুর ডান হাত শিলা

ভগবান রাজনীশের সঙ্গে মা আনন্দ শিলার রয়েছে অনেক স্মৃতিকথা। শিলা রাজনীশকে পছন্দ করতেন বলেও অনেকে মনে করতেন। এই অন্ধ ভক্তকে আধ্যাত্মিকতা রপ্ত করিয়েছিলেন ভগবান রাজনীশ। শিলা জন্মগ্রহণ করেন শিলা অম্বালাল প্যাটেলে।

বারোদা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্ব এবং আমেরিকার নিউজার্সির মানক্লেয়ার স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়ন করেন শিলা। স্টেট ইউনিভার্সিটিতে সিরামিক নিয়ে পড়াশোনা করেন। রাজনীশের সঙ্গে প্রথম পরিচয়টা ছিল শিলার বাবার মাধ্যমে। শিলার বাবা তার মেয়েকে রাজনীশের কাছে পেশ করেন। এরপর থেকেই নিজেকে ভালোভাবে উৎসর্গ করেন শিলা। রাজনীশ ১৯৮১ সালে আমেরিকার ওরেগনে আশ্রম গড়ে তোলেন এবং সেখানে মা আনন্দ শিলা ছিলেন ব্যক্তিগত সহকারী। রাজনীশপুরের দ্বিতীয় হুকুমদাতাও মানা হতো তাকে। কিছু কিছু জায়গায় শিলা ছিলেন গুরুর যোগ্য শিষ্য। ওরেগনের সেই বিষক্রিয়ায় রাজনীশের সঙ্গে শিলারও সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল।

আর এজন্য রাজনীশের সঙ্গে মা আনন্দ শিলাকেও গ্রেফতার করেছিল ওরেগন পুলিশ। আদালতে রাজনীশপুরের সন্ন্যাসীরা তাদের অপকর্মের কথা স্বীকার করলে তাদের আদালত শাস্তিস্বরূপ দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়। ভগবান রাজনীশের অনেক কুকর্মের রাজসাক্ষী ছিলেন এই মা আনন্দ শিলা। অনেকে শিলাকে গুরুর রক্ষী মনে করত। গুরুর সঙ্গে শিলার অবৈধ সম্পর্কও ছিল বলে অনেকেই মনে করতেন।

আপনি যেকোনো সুন্দর জিনিসেরই প্রেমী, তাতে সেটা কোনো কলা হোক, মনোরম পরিবেশ হোক বা কোনো ভালো চেহারার মানুষই হোক। শুধুমাত্র চোখ দিয়ে যে সুন্দরতা দেখা যাই সেটাকেই আপনি মান দেন তা নয়, বরঞ্চ সুন্দরতার অন্যান্য রূপের প্রতিও আপনি আকর্ষিত হন। মধুর সঙ্গীত আপনার ভালো লাগে, কোনো চরিত্রের ব্যক্তি আপনাকে আপীল করে। আপনি সাধারণের থেকে সবসময় একটু ওপরে থাকেন।ওপর ব্যক্তিকে খুশি করার একটি সহজাত গুন আপনার মধ্যে আছে। কেউ অসুবিধার মধ্যে থাকলে তাকে কিভাবে স্বাভাবিক করা যায় এবং তাদের নিজেদের দ্বারাই কিভাবে খুশি পাওয়া যায় সেটা আপনি জানেন। এটি একটি বিরল উপহার যেটা আপনি পেয়েছেন আর আপনার মত খুব লোকই এই পৃথিবীতে আছে।সাধারণত মানুষ যতটা বাস্তবিক হয় আপনি ততটা নন, এবং কোনো নির্ধারিত সময়ের সাক্ষাতের ক্ষেত্রে আপনি ততটা সময়নিষ্ঠ নন।আপনি একটু অতি-সংবেদনশীল আর কিছু সময় অযথা ক্ষুন্ন হন। তবে আপনি আপনার অসন্তোষ উচ্চকণ্ঠে ঝগড়া করার মাধ্যমে দেখান না। কোনো কিছুতে সঙ্গতির অভাব এমন একটা জিনিস যা আপনাকে যেকোনো মূল্যে দুরে রাখতে হবে। হতে পারে, আপনার কারো প্রতি রাগরোষ আছে, তবে অন্য কাউকে এই জিনিসটা আপনি বুঝতে দেন না। আপনি শুধু নিজের মধ্যেই এটাকে রাখেন।

Osho Rajneesh এর সুখ ও সাচ্ছন্দের রাশিফল

আপনার বিভিন্ন বিষয় গোপন রাখার অভ্যাস আছে যা আপনাকে বিভিন্ন উপায়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে নিজের কাছে গুপ্ত রাখতে সহায়তা করে। অন্য দিকে, আপনি আপনার আনুষ্ঠানিক শিক্ষালাভের ক্ষত্রে প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারেন। আপনি যদি সম্পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে কঠোর পরিশ্রম করেন তবে আপনি এই চ্যালেঞ্জগুলি অতিক্রম করতে পারবেন। আপনার শিক্ষালাভের দিকে মনোযোগ দেয়া উচিত এবং নিয়মিত আপনার পুরোনো পাঠ ঝালিয়ে নেওয়া উচিত। এটি করা উচিত যাতে আপনি যে সমস্ত জ্ঞান অর্জন করেছেন তা সম্পূর্ণ ভাবে আত্মস্থ করতে পারেন। নেতিবাচক সঙ্গে আপনার শিক্ষায় বাধা সৃষ্টি হতে পারে এই কারণে আপনার দেখেশুনে নিজের সঙ্গ স্থির করা উচিত। পরিস্থিতি কখনও কখনও আপনার বিরুদ্ধে যেতে পারে, তবে আপনাকে সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে যাতে আপনার শিক্ষাগত জীবন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।আপনি আদর্শবাদী এবং অন্যের কাছে অনুপ্রেরনাদায়ক, কারণ আপনার সহজাত আধ্যাত্মিক বিশ্বাস আছে। অত্যন্ত সংবেদনশীল, অন্যেরা আপনাকে পছন্দ করে - খুব কমই আপনি কারো আবেগকে আহত করেন। জীবনের কাঠিন্যকে বুঝে, সেটা থেকে শিক্ষা নিয়ে সম্পূর্ণ সতন্ত্র হাতে আপনি খুশি হন।

Osho Rajneesh এর জীবন শৈলির রাশিফল

আপনি আপনার যৌন-জীবন বৃদ্ধি করতে উদ্দেশ্যমূলক। যদি অন্যান্য কারণে আপনি অনুভব করেন যে ধন-সম্পদ জরুরী তো আপনি প্রচুর টাকা অর্জন করতে উত্সাহিত হবেন। যাই আপনার লক্ষ্য হোক, যৌন-সুখ আপনার কাছে একটা প্রেরনাদায়ক জিনিস। এটা নিয়ে ঝামেলা না করে এটাকে স্বীকৃতি দিন এবং সর্বোচ্চ সুবিধা ওঠাতে এটাকে ব্যবহার করুন।

১৯৬০ এর দশকে পাশ্চাত্যে তান্ত্রিক অনুশীলন এক নতুন মাত্রা পায় এর যৌন প্রক্রিয়াগুলির জন্য। ফলশ্রুতিতে, এর আধ্যাত্মিক অনুশীলনের প্রয়োজনীয় দিকগুলি অনেকক্ষেত্রে উপেক্ষিত হয়। তবে প্রচলিত তন্ত্রে এবং নয়া তন্ত্রে যৌনতার ভূমিকা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যভেদে আলাদা আলাদা হয়। 'প্রাণী চুম্বকত্ব'এর মতো বিদ্যা নয়াতন্ত্রে নতুন মাত্রা পায়।

অনুশীলনকারী[সম্পাদনা]

তন্ত্রের এই নয়া মতবাদের অনেক শিক্ষকই এতে যৌনতা এবং যৌন অভিজ্ঞতাগুলিকে 'পবিত্র কর্ম' বলে মনে করেন শিক্ষার্থীদের আধ্যাত্মিক স্তরের উন্নতির জন্য।[৩] এরা প্রায়শই কুণ্ডলিনী শক্তির জাগরণের কথা বলে থাকেন,[৪][৫] মাতৃকাপূজা করে ষটচক্রকে সক্রিয় করে তোলার জন্য।  এক্ষেত্রে, "তন্ত্র"কে যৌন ও প্রেমের সম্বন্ধ পূরণের মাধ্যম হিসাবে গণ্য করা হয়। অপরপক্ষে, আধুনিক তন্ত্রের প্রাঙ্গনে অনেক নিষ্ঠাবান পণ্ডিত ও শিক্ষক নিয়োজিত।

গুরু ভগবান শ্রী রজনীশ (যিনি পরে ওশো নামে পরিচিত হন) তন্ত্রকে শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশল, জৈব-শক্তি, যোগসাধনা, এবং অঙ্গ-মর্দনের সাথে মিলিয়ে তাঁর আশ্রমের শিষ্যদের শেখান। তিনি টাও, বৌদ্ধ ও অতীন্দ্রীয় দর্শনের উপর তান্ত্রিক মতাবলম্বী অনেক বই রচনা করেছেন। এগুলোর মধ্যে একটি হল Tantra, The Supreme Understanding, যেখানে তিনি তিলোপা বিরচিত "মহামুদ্রা সঙ্গীত"-এর গূঢ় অর্থ বিশ্লেষণ করেছেন। এছাড়া বিজ্ঞান ভৈরব-এ রয়েছে ১১২ টি উপায় যেখানে নির্বাণ তত্ত্বের আলোচনা আছে গূহ্য সাধনামূলক গ্রন্থের বিভিন্ন বিষয়ের ফলাফলের উপর।[৭] তাঁর শিষ্যেরা এই মতাদর্শকে আরও এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

ওশোর একজন শিষ্য মার্গট আনন্দ "আকাশনৃত্য" তন্ত্র নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর লেখা বিভিন্ন বইয়ের মধ্যে হল প্রতিদিনের পরমানন্দের বিদ্যা এবং যৌন জাদু বিদ্যা। অপর এক আধুনিক তান্ত্রিকা ড্যানিয়েল ওডিয়ের, যিনি বিশ্বাস করেন যে, কামনা-বাসনা হল অতীন্দ্রীয় বা তুরীয় অবস্থায় পৌঁছানোর যুক্তিসিদ্ধ পথ।[৮] যৌন-বিশেষজ্ঞ এনি স্প্রিঙ্কলে এবং যৌনবিদ জোসেফ ক্রেমার হলেন 'পবিত্র যৌন অঙ্গ মর্দন'-এর দুজন অনুশীলনকারী। ১৯৯৭ সালে দেবরাহ্ আনাপল একটি 'জাতীয় প্রেম উদযাপন'-এর আয়োজন করে বলেন, "পবিত্র যৌনতার উপর এটি একটি আলাপ-আলোচনাসভা যেখানে বৌদ্ধ, সুফি, টাও, ইহুদি, পেগান, হিন্দু, শিন্টো, উইকান, ওকাল্ট, আমেরিকার আদিম জনজাতি, এবং আফ্রো-ক্যারিবিয়ান সংস্কৃতির তান্ত্রিক গুরুদের এক জায়গায় প্রথমবার নিয়ে আসা হল।"

সমালোচনা[সম্পাদনা]

জর্জ ফিউয়ারস্টেন, একজন জার্মান ভারতবিদ , যিনি তন্ত্রে দীক্ষিতও, তাঁর তন্ত্র :পরমানন্দ লাভের পথ: বইয়ের শেষে উল্লেখ করেন,

"অনেকেই নয়া তান্ত্রিক মতবাদে আকৃষ্ট হয় এতে লৈঙ্গিক যৌন-উত্তেজনা ও আনন্দ আস্বাদনের জন্য, যেহেতু এতে আধ্যাত্মিক অনুভূতি জাগরণের লক্ষ্যে আবেগঘন অবস্থার দরকার হয়। আমরা যদি ভারতে তন্ত্রের ইতিহাস সম্বন্ধে আরও ভালভাবে অবগত হতাম , তাহলে প্রত্যেক প্রজন্মের জন্য একটা তুলনামূলক পরিস্থিতি তৈরী হতে পারত।"

তিনি আরও বলেন , "আজকাল তন্ত্রের তর্জমা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই পুস্তকের আকারে পাওয়া যায়...

যা হবু তান্ত্রিকদের নিজ নিজ মতাদর্শমূলক অনুষ্ঠানাদি করার সুযোগ করে দিচ্ছে, যেটাকে তারা খুব সহজেই তন্ত্রের নামে চালাতে পারে। "

ভগবান রাজনীশের যত কাণ্ড! কে এই ভগবান শ্রী রাজনীশ তার যত ভণ্ডামি সুন্দরী বিবেকের আত্মহত্যা গুরুর ডান হাত শিলা Osho Rajneesh এর সুখ ও সাচ্ছন্দের রাশিফল Osho Rajneesh এর জীবন শৈলির রাশিফল অনুশীলনকারী সমালোচনা

নকুল আমার নাম - নকুল কুমার বিশ্বাস (জীবনী) Nakul Amar Naam - Nakul Kumar Biswas

Nakul Kumar Biswas

 নকুল কুমার বিশ্বাস একজন বাংলাদেশী সঙ্গীতশিল্পী, যন্ত্রশিল্পী, সুরকার, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক। ১৯৯৬ সালে বিটিভির ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে প্রচারিত হওয়া তার গাওয়া ‘বিয়া করলাম ক্যানরে দাদা, বিয়া করলাম ক্যান’ গানটির মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। 

নকুল কুমার বিশ্বাস ১৯৬৫ সালে মাদারীপুর জেলার দত্ত কেন্দুয়া ইউনিয়নের পূর্ব কলাগাছিয়া গ্রামের এক সংগীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পাঁচ ভাই এক বোনের মধ্যে তার অবস্থান পঞ্চম।[২] তার পিতার নাম সুরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস এবং মাতার মঙ্গলী দেবী।

মাত্র আট বছর বয়সে যাত্রার দলে শিল্পী হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তার সঙ্গীতের ক্যারিয়ার শুরু। সেই থেকে যাত্রাসহ গ্রাম ও শহরাঞ্চলে বহু অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেছেন তিনি। গানের পাশাপাশি তিনি সেতার, তবলা, বাঁশি, সরোদ, সন্তুর, দোতারা, ও ম্যান্ডালিনসহ আরো নানারকম বাদ্য যন্ত্রে পারদর্শী, বিশেষ করে হারমোনিয়াম বাজানোতে রয়েছে তার বিশেষ দক্ষতা। বাংলাদেশ বেতারে যন্ত্র ও সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে চাকরি করেছেন অনেকদিন। তবে ক্যারিয়ারে তার সবসেরা সুযোগটি আসে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে অংশগ্রহণের মাধ্যমে। ‘ইত্যাদি’ তে গান পরিবেশনের সুবাদেই শ্রোতা-দর্শকদের কাছে তার সর্বাধিক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পরে।

Popular Posts