Breking News

সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন । আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন।বিজ্ঞপ্তি: জরুরী সংবাদকর্মী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি চলিতেছে…। আপনি কি কম খরচে Website, Bloggersite, Youtube channel, E-commica site তৈরি করতে চান? যোগাযোগ করুন বিস্তারিত : মোবাইল: 01712475454,01940103713 , দেশ - বিদেশের খবর সবার আগে জানতে সাথে থাকুন।আমাদের সংঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ এ রকম আরও ভিডিও/ সর্বশেষ সংবাদ Update News পেতে আমাদের Website /Youtube Channel পেইজে লাইক দিন৷ ❤️ ✌ ✔️ কোন মতামত বা প্রশ্ন থাকলে কমোন্ট করে জানান ।
Showing posts with label Education. Show all posts
Showing posts with label Education. Show all posts

স্টিভ জবসের জীবন ও সফলতার আত্মকাহিনী | স্টিভ জবসের সাফল্যের ১০ সূত্র


সাফল্য কে না চায়? সবাই চায় জীবনে এমন কিছু করতে যা তাকে অন্যের থেকে আলাদা করে রাখবে, নিয়ে যাবে জীবনের অন্য এক মাত্রায়।

কিন্তু সবাই কি সফল হতে পারে? না। কেন? কারণ প্রথাগত কাজের মাঝে সাফল্য লুকিয়ে নেই।

কালেকালে যারা সফল হয়েছেন, তাঁরা সর্বদা প্রচলিত ধারার বাইরে যেয়ে কাজ করতেন বলেই তাঁরা আজ নমস্য।

কি সেই সূত্র, যা তাদেরকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে? চলুন আজ জেনে নেই অ্যাপল এর প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের মুখ থেকে।

১. প্রথাগত জীবন থেকে বেরিয়ে আসুন

মনে রাখবেন, সমাজের প্রচলিত জীবনধারা কিন্তু তৈরি হয়েছে আপনার-আমার মত কিছু মানুষের হাত ধরেই। তাই সাফল্য পেতে হলে আপনাকে অন্যের প্রবর্তিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে নতুন কিছু করতে হবে।

 Read More: ভারতীয় সেক্স গুরু ভগবান রাজনীশের উত্থান ও জীবনী 

Biography of Dr. Avijit Roy | ডঃ অভিজিৎ রায় – একজন মুক্তমনার জীবনী

 অভিজিৎ রায় (১২ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ – ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫)[১] একজন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রকৌশলী, ব্লগার ও লেখক।[৫] তিনি বাংলাদেশে মুক্তচিন্তার আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশে সরকারের সেন্সরশিপ এবং ব্লগারদের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদের সমন্বয়কারী ছিলেন। তিনি পেশায় একজন প্রকৌশলী হলেও, তার স্ব-প্রতিষ্ঠিত ওয়েবসাইট "মুক্তমনা"-য় লেখালেখির জন্য অধিক পরিচিত ছিলেন। ২০১৫ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি তারিখে অমর একুশে গ্রন্থমেলা থেকে বের হওয়ার সময় অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে ও তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে আহত করে।[৬][৭] বাংলাদেশি জঙ্গী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এই হামলার দায় স্বীকার করেছিল।

অভিজিৎ রায়ের মৃত্যুতে শোকাহত এবং ক্ষুব্ধ। মুক্তমনা, যুক্তিবাদী এই লেখকের মৃত্যু বাংলাদেশের বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে এক অপূরণীয় ক্ষতি। ক্ষণজন্মা এই লেখক এবং বিজ্ঞানীর জীবন স্বল্পায়ু হলেও ছিলো বর্ণাঢ্য। আসুন, তার ব্যাপারে জানি।

১৯৭২ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর, অভিজিৎ রায়ের জন্ম। তাঁর পিতা অজয় রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদানের জন্য ২০১২ সালে অজয় রায় একুশে পদকের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হন।

অভিজিৎ রায় পড়াশোনায় একজন যন্ত্র প্রকৌশলী। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিদ্যালয়ের (বুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগ হতে তিনি ব্যাচেলরস ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী অভিজিতের ফলাফল ছিল ঈর্ষণীয়। এর পরে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুর (NUS) থেকে তিনি বায়োমেডিক্যালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত জীবনে যন্ত্র-প্রকৌশলী অভিজিৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া প্রদেশের আটলান্টা শহরে বসবাস করতেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সংবেদনশীল বিষয়ে অকপটে যুক্তিনির্ভর লেখালেখিতে অভিজিৎ রায় ছিলেন অগ্রগণ্য। তার লেখার ভিত্তি ছিল বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ জ্ঞান, পর্যবেক্ষণ ও তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ। যাবতীয় কুসংস্কার, সামাজিক নিপীড়ন ও অনাচারের নির্মোহ বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। ব্যক্তি জীবনে মানবতাবাদী অভিজিৎ সোচ্চার হয়েছেন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনায়, যেখানে মানবতা বিপন্ন হয়েছে। অভিজিৎ রায় বিজ্ঞানমনস্ক মুক্তচিন্তার জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। তার লেখা বইগুলোর প্রতিটিতেই যুক্তি, কার্যকারণ এবং পর্যবেক্ষণের বৈজ্ঞানিক প্রয়োগের মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা পরিলক্ষিত হয়।

পেশায় প্রকৌশলী হবার পাশাপাশি অভিজিৎ ছিলেন বিজ্ঞান বিষয়ক লেখালেখির জগতে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মহাবিশ্বের উৎপত্তি নিয়ে তার লেখা “আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী” বইটি ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। এর দু’বছর পর ২০০৭ সালে “মহাবিশ্বে প্রাণ ও বুদ্ধিমত্তার খোঁজে” শীর্ষক বইতে তিনি ও সহলেখক ফরিদ আহমেদ পৃথিবীতে প্রাণের উৎস কীভাবে হলো তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ নিয়ে লিখেছেন। আমাদের এই পৃথিবীর বাইরেও অন্য গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব আছে কিনা, কিংবা এর সম্ভাবনা কতটুকু তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এই বইতে। আধুনিক জীববিজ্ঞান ও বিবর্তন নিয়ে প্রবল আগ্রহ ছিল অভিজিৎ রায়ের। এই বিষয়ের ওপর অসংখ্য ব্লগ লিখেছেন তিনি। এছাড়াও ২০১০ সালে “সমকামিতা” শীর্ষক বইয়ে সমকামিতার জীববৈজ্ঞানিক প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

২০১১ সালে তিনি ও সহলেখক রায়হান আবীর মিলে লিখেছেন ” অবিশ্বাসের দর্শন”। স্রষ্টাবিশ্বাসী থেকে শুরু করে সংশয়বাদী, অজ্ঞেয়বাদী, নিরীশ্বরবাদী, বা মানবতাবাদী, সর্বোপরি বিজ্ঞানমনস্ক প্রতিটি বাংলাভাষী পাঠকের জন্য এই বইটি একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজনা। ধর্মান্ধতা এবং কুসংস্কার মুক্তির আন্দোলনের মাধ্যমে জাত-প্রথা-ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণীবৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়তে এই বইটি মানুষকে প্রেরণা যুগিয়েছে। একইসাথে যেমন এখানে ধর্মবিশ্বাসের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে, তেমনি আলোচনা করা হয়েছে চলমান কুসংস্কার নিয়ে, প্রসঙ্গক্রমেই এসেছে বিভিন্ন দার্শনিক মতবাদের স্বরূপ নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা। প্রকাশের সাথে সাথেই মননশীল পাঠকদের মাঝে অভূতপূর্ব সাড়া ফেলেছিল এই বইটি। এই বছর বইটির তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশিতও হয়েছে। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অভিজিৎ এর পরে প্রকাশ করেন “ভালোবাসা কারে কয়” বইটি। এই বইয়ে তিনি বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের ভিত্তিতে প্রেম, ভালোবাসা, যৌনতা ইত্যাদি মানবীয় অনুভূতির ব্যাখ্যা দিয়েছেন। মানব-অনুভূতির বিবর্তনীয় ব্যাখ্যার এই অভূতপূর্ব বইটিও পাঠক-সমাদর পেয়েছিল। তার লেখা অন্যান্য বইগুলো হচ্ছে – স্বতন্ত্র ভাবনা : মুক্তচিন্তা ও বুদ্ধির মুক্তি, বিশ্বাস ও বিজ্ঞান, শূন্য থেকে মহাবিশ্ব, ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো: এক রবি-বিদেশিনীর খোঁজে।

২০০১ সালে মুক্তচিন্তার প্রসারের লক্ষ্যে, আরো কিছু মুক্তমনা মানুষকে সাথে নিয়ে তিনি একটি ব্লগ ওয়েবসাইট চালু করেন, নাম – মুক্তমনা। বিজ্ঞানচর্চায় অসাধারণ অবদানের জন্য এটি শহীদ জননী জাহানারা ইমাম স্মৃতি পদক অর্জন করেছে। ধর্মীয় গোঁড়ামি ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে তার ছিলো তীব্র অবস্থান। আর সে “অপরাধেই” তিনি ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর চক্ষুশূলে পরিণত হন। ২০১৪ সালে অনলাইনে বই কেনার ওয়েবসাইট ‘রকমারি’-তে তার বই বিক্রি না করার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে হুমকি দেয়া হয়। ভয় পেয়ে ওনার বইগুলো সরিয়ে ফেলে রকমারি। ধর্মান্ধ বেশ কিছু দল তাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছে বহুবার, অনলাইনে সেগুলোর প্রমাণ বিদ্যমান। অনবরত প্রাণনাশের হুমকি পেলেও নির্ভীক এই লেখক এ বছর (২০১৫ সালের) বইমেলায় তার নতুন বইয়ের প্রকাশ উপলক্ষে দেশে আসেন। আর সে সুযোগেই, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে নয়টায় ধর্মান্ধ ঘাতকের দল তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। তার মরদেহ দান করা হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে। তার আগে, সেই মরদেহকে সম্মান জানাতে এগিয়ে এসেছিলেন অনেকেই। তার স্ত্রী বন্যা আহমেদও এই আক্রমণে গুরুতরভাবে আহত হন। তার মৃত্যুসংক্রান্ত হুমকি, খুন, এবং পরবর্তী তদন্তের কথা পড়তে পারেন এখানে ক্লিক করে।

অভিজিৎ রায় যে মুক্তচিন্তার প্রচার ও প্রসারের জন্য কাজ করে গেছেন, সেটা আমাদের জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ। এবং সেই একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাবে মুক্তমনাদের দল, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। ওনার মৃত্যুকে বৃথা যেতে দেয়া যাবে না। মুক্তচিন্তার জয় হোক।

 ডেইলি নিউজ টাইমস বিডি ডটকম (Dailynewstimesbd.com)এর ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব ও ফেসবুক পেইজটি ফলো করুন করুন।

অভিজিৎ রায়ের বই ,বিশ্বাস ও বিজ্ঞান pdf, বন্যা আহমেদ অজয় রায়, বাংলাদেশের মুক্তমনা বন্যা, আহমেদের বই, অভিজিৎ নামের অর্থ কি, স্বতন্ত্র ভাবনা মুক্তচিন্তা ও বুদ্ধির মুক্তি pdf

সিফাত উল্লাহ ওরফে সেফুদার জীবনী

 

আমি প্রেম সম্রাট

আমি তোদের মত শ্রমিক না আমি হলিউডে অভিনয় করি,বলিউডে অভিনয় করি ইউরোপের অনেক দেশে অভিনয় করি, টেলিভিশনে করি, থিয়েটারে করি, ঐশ্বরিয়া রাই আমাকে বুকে জড়ে চুমু খেয়েছে ।

পরিচিতিঃ

জন্ম ও কর্মঃ 

সেফুদা খুলনার সোনাডাঙ্গায় ৫ নভেম্বর ১৯৪৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর।সেফাত উল্লাহ ১৯৭৯/১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। বর্তমানে ভিয়েনায় এক স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর হিসেবে রয়েছেন। পাশাপাশি একটি অনলাইন শপে পার্টটাইম কাজ করেন।সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি নানা ধরণের অশ্লীল, অসঙ্গতিপূর্ণ ভিডিওবার্তা ছড়িয়ে বেশ আলোচনায় সিফাত উল্লাহ ওরফে সেফুদা নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি।

পরিবারঃ

সেফুদার স্ত্রী এবং এক সন্তান রয়েছে। যদিও বর্তমানে তার স্ত্রী-সন্তান কিংবা পরিবারের সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই। পারিবারিক সম্পর্কবিহীন সিফাত উল্লাহ দেশের ওপর রাগ করে একাকী প্রবাস যাপন করছেন দীর্ঘদিন।

 নানা বিষয় নিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে অল্প সময়ে 'তারকা' বনে যান সেফুদা। প্রথমের দিকে সেফুদা নামটি তার নামের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তখন তার ফেসবুক লাইভ দেখার মতো মানুষও ছিল না। সেই সময়য় শুধু সিফাতউল্লাহ নামেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত ছিলেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের এক ক্রিকেটারের সাথে এক তরুণীর ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময়য় সিফাত উল্লাহ ফেসবুকে একটি লাইভ করেন। তখন থেকেই মূলত তার লাইভে দর্শক বাড়তে থাকে। 

 

১৯৯০ সাল থেকে তিনি অস্ট্রিয়ার রাজধানীর ভিয়েনায় বসবাস করছেন। ভিয়েনা বাঙালি কমিউনিটির পরিচিত মুখ ও প্রবাসী সাংবাদিক ফিরোজ আহমেদ জানান, ভিয়েনা বাংলাদেশ কমিউনিটির এক পারিবারিক ঝগড়ার কারণে কোর্টের রায়ে দীর্ঘদিন ভিয়েনায় জেল খাটেন সেফাতউল্লাহ। মুক্ত হবার পর অস্ট্রিয়ার আইন অনুযায়ী তার লিগ্যাল হবার সব রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে। স্ত্রী সন্তানদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তিনি। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন সেফাতউল্লাহ।

 

সেফাত উল্লাহর স্ত্রী জানান, ২৮ বছর আগে দেশ ছাড়েন তিনি। তারপর থেকেই পরিবার থেকে তিনি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। পরিবারের দাবি, বর্তমানে তিনি মানসিক রোগে আক্রান্ত। আর তার এমন কর্মকাণ্ডে পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজন বিব্রত।বর্তমানে তার এসব কার্যকলাপ ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটস অ্যাপ প্রভৃতির মাধ্যমে শহরের অলিগলি ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে গ্রামের প্রতিটি প্রান্তে। আর এসবের প্রধান দর্শক-শ্রোতা হচ্ছে আমাদের নতুন প্রজন্ম; যারা নিজেদের নৈতিক দায়িত্বের কথা বিস্মৃত হয়ে সারাক্ষণ সেফুদার মতো ভাইরাল সেলিব্রেটিদের নতুন ভিডিও পাওয়ার নেশায় মত্ত হয়ে অনলাইন মিডিয়ার বিভিন্ন সাইটে ঢু মারছে এবং বিকৃত রুচির এ মানুষটির মুখনিঃসৃত কথাগুলো ব্যবহার করছে তাদের নিত্যনৈমিত্তিক কথাবার্তা তথা প্রতিটি কার্যকলাপে।

তার লাইভ ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে শুরু করে অভিনয় শিল্পী, তারকা, খেলোয়াড়, নাট্যকারসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর মানুষকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হচ্ছে।

সেফাত উল্লাহ'র স্ত্রী বলেন, 'সবাই, আত্মীয়-স্বজনের কাছে আমাদের মুখ নাই। কেমন লাগতেছে আমরা জানি। এখন এগুলো কি বন্ধ করার কোনো পথ নাই? ইউটিউব কি এগুলো কোনো প্রতিকার করতে পারে না? আর উনি তো সিজোফ্রেনিয়া রোগী।'

অনেকেই দাবি করছেন, অতিরিক্ত মদ পানের জন্যই এমন অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন তিনি। তার প্রচুর মদ পানের প্রমাণ মেলে ফেসবুক লাইভে। প্রায়ই লাইভে তাকে মদ পান করতে দেখা যায়।

পুলিশের মহা পরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারি জানান, এধরনের যারা দেশের বাইরে বসে দেশের সম্পর্কে বিরুপ মন্তব্য করে নিজ দেশের সম্মান নষ্ট করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

টি-শার্টে সেফুদার সেই কুখ্যাত উক্তি ‘মদ খা, মানুষ হ’, মদের বোতল ও সিফাতউল্লার ছবি সংবলিত পোশাক অহরহ পাওয়া যাচ্ছে স্থানীয় মার্কেটগুলোয়। এ যেন স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে গেছে।

২০১০ সালে বড় ধরনের স্ট্রোক করেন সিফাত উল্লাহ। তার কিছুদিন পর মাথার চুল পড়ে যায় আবছাভাবে। যদিও পূর্বে তার মাথার সামনে টাক ছিল এবং যৌবনকালে ঘাড়ের দিকে লম্বা বাবরি চুল রাখতেন। স্ট্রোকের পর তার মাথা হঠাৎ হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং উল্টাপাল্টা কাজ করে বসেন।

 সিফাত উল্লাহর ধর্মঃ

২০১৩-১৪ সালে বাংলাদেশে একের পর এক ব্লগার তথা মুক্তচিন্তার মানুষদের হত্যার ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হয়ে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন সেফুদা।

সিফাত উল্লাহকে ব্লগ, ফেসবুক গ্রুপ, পেজে নাস্তিক সম্বোধন করা হলেও নিজেকে তিনি সুন্নী মুসলিম হিসেবে দাবি করেন। তার মতে, তিনি - নামাজ ,রোজা রাখেন, হজে যেতে চান

সেফুদার উল্লেখযোগ্য কিছু উক্তি :

১) মদ খাবি মানুষ হবি ।

২) আমার মতো হতে চাও ।

৩) আমাকে দেখে হিংসে হয় ।

৪) মদ খাও আর পরী…(অশ্লীল)  ।

৫) শুটকি খাও আর পেত্নি..........।

৬) ট্রস ট্রস করে মারবো ।

৭) কত মেয়েরা আমাকে ভালবাসে। আমি কি সবাইকে ভালবাসতে পারি?

৮) আমি প্রেম সম্রাট ।

৯) অকেয়?

১০) Love is power love is peace love is happiness love is life love never dies !

১১) তোমার পাশে যে আছে তাকে জড়িয়ে ধরো বলোঃ i love you

১২) আমি তোদের মত শ্রমিক না আমি বলিউডে অভিনয় করি,বলিউডে অভিনয় করি  ইউরোপের অনেক দেশে অভিনয় করি, টেলিভিশনে করি, থিয়েটারে করি, ঐশ্বরিয়া রাই আমাকে বুকে জড়ে চুমু খেয়েছে ।

১৩) আমি ফাস্ট বয় ছিলাম, দেখতে শুনতে নাদুস নুদুস, শান্তশিষ্ট ভদ্র।

১৪) জাতিসংঘের উপদেষ্টা ছিলাম ।

১৫) আমি একজন  VVIP মানে কি বুঝস? ভেরি ভেরি ইম্পরট্যান্ট পারসন।

১৬) মদ খা, মদ না খাইলে তোদের মাথায় বুদ্ধি আসবে না। 

১৭) আমি তিন বিষয়ে মাস্টার্স করছি। ডক্টরেট কমপ্লিট করছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তোর জন্মের আগে পড়াইছি। 

১৮) কি হিংসে হয়? আমার মত হতে চাও? বিশ্ব বিখ্যাত সেলিব্রেটি, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, দার্শনিক, অভিনেতা, বুদ্ধিজীবী, বিজ্ঞানী, বিশ্ব মানবতার মুক্তি দাতা, প্রেম সম্রাট, পারবে কখনো আমার মত হতে? 

১৯) হিংসা, হিংসা, হিংসা, তোমাদের হিংসা, আমি জানি। 

২০) এরকম এক হাজারটা পৃথিবীর হিরা, দানা, সোনা, আমাকে কিনতে পারবে না। 

২১)  আমার শুধু একটাই দুর্বলতা কচি কচি…..। 

২২) তোরা গরীব, ছোটলোক, মূর্খ, বরবর, তিনবেলা ভাত খাস। মদ খা, মদ না খেলে তোরা মানুষ হবি না। মদ খাও আর...........।

২৩) আমি ঘুম ভাঙানিয়া পাখি, আমি এসেছি সবার ঘুম ভাঙাতে, রঙিন আলোয় ভুবন রাঙাতে, উঠো উঠো জেগে উঠো সবাই।

২৪) জয় বঙ্গ, জয় জনতা, জয় মানবতা।

২৫) আমি এখন লাইভ থেকে বিদায় নিচ্ছি, জাতিসংঘের মহাসচিব আমাকে ফোন করছে ।

আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া হেলেনা জাহাঙ্গীরকে নাতনি হিসেবে সম্বোধন করতেন অস্ট্রিয়া প্রবাসী আলোচিত সিফাত উল্লাহ ওরফে সেফুদা। সেফুদার সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ও লেনদেন ছিল।রাজধানীতে কুর্মিটোলায় র‍্যাব সদরদফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। 

 ডেইলি নিউজ টাইমস বিডি ডটকম (Dailynewstimesbd.com)এর ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব ও ফেসবুক পেইজটি ফলো করুন করুন।


ভগবান রাজনীশের যত কাণ্ড!ভক্তদের সঙ্গে নিজ আশ্রমে গুরু রাজনীশ ক্সগুরু ভগবান শ্রী রাজনীশ। জীবনে বহুবার বিতর্কিত হয়েছেন এই সন্ন্যাসী। ছিলেন প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক। বিশ্বাস করতেন সেক্সের মাধ্যমেই পরমাত্মার সঙ্গে মিলিত হওয়া সম্ভব। আর মানুষের সৃষ্টি সবচেয়ে বড় মিথ্যার নাম হলো ‘ঈশ্বর’। ধ্যানের শিক্ষা দিয়ে গেছেন নিজের শিষ্যদের। সেই সঙ্গে তার আশ্রমে অবাধে সেক্সের সুযোগ ছিল। লিখেছেন রক্ষণশীলতার শৃঙ্খল থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মনকে মুক্ত করার স্বপ্ন দেখতেন ভগবান রাজনীশ। যার আধ্যাত্মিকতা গৌতম বুদ্ধের মতো মহীয়ান এবং একই সঙ্গে যার ইহজাগতিকতা গ্রিক উপন্যাসে যুক্ত করার মতো স্বচ্ছ বস্তুগত। যিনি যুগপৎ বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে একীভূত। যার সবকিছু বস্তুগত লাভের জন্য, আবার সবকিছুই আত্মার প্রশান্তির জন্য। তবে এই নতুন মানুষ পরিবার, বিয়ে, রাজনীতি ও ধর্মের ফাঁদে পা দেবে না। এক্ষেত্রে ভগবান রাজনীশের চিন্তা ছিল অত্যাধুনিক। সর্বোপরি তার নৈতিক শিক্ষা ও লৌকিকতাবর্জিত নয় বরং স্বাভাবিক। মানবতাবাদী এই দার্শনিকের কাছে প্রতিটি মানুষই গুরুত্বপূর্ণ এবং অসীম সম্ভাবনাময়। তার মতে, আমরা সবাই সম্ভাবনাময় বুদ্ধ এবং সবারই আলোক প্রাপ্তির ক্ষমতা রয়েছে। তিনি বিশ শতাব্দীর ভারতীয় দার্শনিক ভগবান রাজনীশ। তিনি শ্রী ভগবান রাজনীশ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং পরবর্তীতে পরিচিত হন ‘সেক্সগুরু’ হিসেবেও। বিতর্কিত এই মানুষটি জন্ম থেকেই আলোচিত বা সমালোচিত ছিলেন না। ভারতের মধ্য প্রদেশের একটি প্রত্যন্ত গ্রামের এক কাপড় ব্যবসায়ীর পরিবারে জন্ম তার। জীবনের প্রথম সাত বছর কাটে মামা বাড়ির আঙিনায়। ষাটের দশকে রাজনীশ নাম হলেও সত্তরের দশকে তিনিই বনে যান ওশো রাজনীশ। অনেক মেধাবী ছিলেন শ্রী রাজনীশ। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আর দর্শনের শিক্ষক ছিলেন রাজনীশ। পড়াশোনা চলাকালীন বিশ্বভ্রমণে আগ্রহী ছিলেন তিনি। সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী এই মানুষটি শুরু থেকেই ছিলেন গান্ধীবাদী। তার মতে, ‘সমাজতন্ত্র এবং গান্ধী উভয়েই দারিদ্র্যকে নির্মূল করার চেয়ে বিশেষায়িত করে।’ তিনি হিন্দু ধর্মের ব্রাহ্মণবাদের বিরুদ্ধেও অত্যন্ত জোরালো বক্তব্য উপস্থাপন করেছিলেন। গত্বাঁধা নিয়মকে ব্যাতিরেকে কীভাবে হাসি-আনন্দ আর নাচ-গানের মধ্য দিয়ে জীবনকে ভরিয়ে দেওয়া যায়, কীভাবে প্রেম, সততা, ধ্যান এবং অবাধ যৌন মিলনের মধ্য দিয়ে জীবনকে আরও ভালোভাবে উপভোগ করা যায়। জীবনটা হতে পারে স্বপ্নের মতো। একই সঙ্গে বুদ্ধ দর্শন তথা জাগতিকতায় নিরাসক্ততার বিপরীতে তিনি উচ্চকণ্ঠে বলেন— ‘যে ধর্ম জীবনকে অর্থহীন এবং দুঃখময় ভাবে জীবনকে ঘৃণা করতে উদ্বুদ্ধ করে, তা সত্য ধর্ম নয়। ধর্ম হলো একটি শিল্প যা আমাদের শিক্ষা দেয় কী করে জীবনকে উপভোগ করা যায়।’ এই ভাবনার রেশ ধরেই তিনি মানুষের যৌনক্রীড়ার ওপর বিভিন্ন ধর্মের আরোপিত অসঙ্গতি, বিধি-নিষেধ ও অবদানের শিক্ষাকে সমালোচনা করেছেন। ১৯৭০ সালে মুম্বাইতে তিনি নতুন ধরনের চিন্তাভাবনার প্রচার করেছেন। এটাই ছিল তার শুরুর ভাবনা। সেই থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তার প্রচারিত নতুন ভাবনাগুলো অনেকেই উদ্ভট বলে মনে করত। এরপর তিনি সাত বছর পুনেতে একইভাবে নিজের ভাবনার বহিঃপ্রকাশ করেন। একসময় তার ভাবনার পরিধি আশ্রমে রূপ নেয়। তিনি পুনেতেও মুম্বাইয়ের মতো বিশাল আশ্রম গড়ে তোলেন। প্রচুর মানুষ তার কাছে এসে শিষ্যত্ব গ্রহণ করতে থাকে। তার শিষ্যদের মধ্যে শিক্ষিত আর ধনী ব্যক্তির সংখ্যাই ছিল বেশি। এই গ্রুপের সদস্যরা সবসময় কমলা রঙের লম্বা আলখেল্লা পরত। তাদের গলায় ঝুলত রুদ্ধাখ্যের মালা। কাজ-কর্ম, ধ্যান, নাচ এবং আলোচনা ছিল এই জনগোষ্ঠীর নিত্যদিনের রুটিন। মনে তাদের যত ধরনের সংকোচবোধ ছুড়ে ফেলে দিত এর সদস্যরা। এরপর ১৯৮১ সালে ভগবান রাজনীশ পাড়ি জমান মার্কিন মুল্লুকে। রাজনীশ ওরেগনের একটি নির্জন জায়গায় একটি খামার কেনার পরিকল্পনা করেন। একটি কমিউন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সেখানকার কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন ছিল। সেই কাজের দায়িত্ব যার হাতে ছিল তার নাম দ্যান দারো। তখন দ্যানের কোনো ধারণাই ছিল না যে ভগবান রাজনীশের হাজার হাজার ভক্ত রয়েছে। এরা যখন ওরেগনে দলে দলে এসে জড়ো হতে থাকল তখনই তিনি সেটা টের পেলেন। সেখানে রাজনীশের কাছে অনেকেই জীবনের সবকিছু বিসর্জন দিয়েছিলেন। ১৯৮২ সালে কমিউনের নেতারা তাদের আবাসকে শহর হিসেবে ঘোষণা করার আবেদন করেন। তারা শহরের নাম দিতে চেয়েছিলেন রাজনীশপুরম। তাদের আবেদন মঞ্জুর হলে সেখানে অনেক দালান নির্মাণ করতে পারবে। কিন্তু সেখানকার স্থানীয়দের অনেকেই এর বিরোধিতা করে আদালতে মামলা করেন। দুই বছর ধরে মামলা চলার পর ১৯৮৪ সালে কমিউনের নেতারা দেখলেন মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার চমৎকার সুযোগ এসেছে। আর সেটা হলো স্থানীয় কোনো শিষ্যকে আদালতের দুজন বিচারকের পদে আসন্ন নির্বাচন। কিন্তু এই নির্বাচনে জয়ের পুরো ভোট রাজনীশ কওমের ছিল না। তাই ১৯৮৪ সালের গ্রীষ্মকাল নাগাদ পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে হাজার হাজার গৃহহীন মানুষকে তারা তাদের রাজনীশপুরমে নিয়ে আসতে শুরু করেন। কিন্তু প্রায় চার হাজার মানুষ রাজনীশপুরমে নিয়ে আসার পরও এই নির্বাচনে জেতার কোনো সুযোগ ছিল না। তাই তারা সিদ্ধান্ত নিল যে, এমনটা কিছু করতে হবে যেটা করলে ভোটের দিন ভোটাররা ভোট কেন্দ্রেই যাবে না। পরবর্তীকালে তদন্তে যা বেরিয়ে এসেছিল যে কওমের নেতারা গোপনে স্থানীয় ডালাস শহরে স্যালমনিয়া ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার শুরু করে। তদন্তকারীরা পরে দেখতে পান যে, রাজনীশ ভক্তের একটি দল শহরের আটটি সালাদ ক্যাফে ও দুটি রেস্টুরেন্টে এই ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে দেয়। এরপরই স্থানীয় হাসপাতালগুলোয় রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। রাজনীশপুরমের নেতৃত্বে যারা ছিলেন তারা ক্রমাগতই একা হয়ে যাচ্ছিলেন। তারা সবাইকে শত্রু বলে মনে করতে শুরু করেছিলেন। অ্যান গ্যারিটির মতো মানুষ যারা এসব দেখে সন্দিহান হয়ে পড়েছিলেন, তারাও ক্রমাগত চাপের শিকার হচ্ছিলেন। এর কিছুদিন পরই অ্যানকে কমিউন থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং পাঠানো হয় জার্মানির একটি কমিউনে। ওরেগনের সংকট ঘনীভূত হয় ১৯৮৫ সালে, যখন রাজনীশ কমিউনের কয়েকজন নেতা হঠাৎ করেই ইউরোপে পালিয়ে যান। এর কিছুদিন পরই ভগবান রাজনীশ জনসম্মুখে এক অদৃষ্টপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তিনি তার সাবেক ভক্তদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, অগ্নিকাণ্ড, গোপনে আড়ি পাতা এবং গণহারে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, এসব অপরাধ সম্পর্কে তিনি নিজে কিছুই জানতেন না। ভগবান রাজনীশের এই ভিডিও দেখে শেষ পর্যন্ত অ্যানের মোহভঙ্গ হয়। ভগবান রাজনীশ তদন্তকারীদের রাজনীশপুরে এসে তদন্ত করার আমন্ত্রণ জানান। তারা সেখানে সালমোনেয়ারে একটি গবেষণাগার আবিষ্কার করেন এবং আড়ি পাতার যন্ত্রপাতির খোঁজ পান। কমিউনের মূল নেতারা শেষ পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে তাদের শাস্তির মেয়াদ কমিয়ে আনেন। ডালাসে বিষ প্রয়োগের অভিযোগসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ তারা স্বীকার করে নেন। এতে তিনজনের কারাদণ্ড হয়। তাদের গুরু ভগবান রাজনীশের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ভঙ্গের প্রমাণ মেলে এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়। তল্পিতল্পা গুটিয়ে দেশে ফিরে আসতে হয়েছিল তাকে। ১৯৮৫ সালে ভারতের দিল্লিতে ফেরত আসার পর তাকে তার অনুসারীরা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। এরপর হিমাচল প্রদেশে ছয় সপ্তাহ অবস্থানের পর ভারত সরকারও তাকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। এরপর গুরু রাজনীশ নেপালে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঈশ্বরে বিশ্বাস ছিল না ভগবান রাজনীশের। তার মতবাদ হলো, ঈশ্বর মানুষের সৃষ্টি করা সব থেকে বড় মিথ্যা। তবে পূর্ণ সম্মতি ছিল সম্মোহনে। আধ্যাত্মিকতা আর যৌনতার সংমিশ্রণে এক ধরনের দার্শনিক জ্ঞানের প্রচার করতে থাকেন। অপার যৌনতাই মুক্তির মূলমন্ত্র হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন নিজে। ভগবান রাজনীশ যৌনতাকে দেখেছেন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে। তিনি দাবি করতেন, যৌনতায় খারাপ কিছু নেই। প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল কলেজে যৌনতার শিক্ষা দেওয়া উচিত। মানুষের মনকেই মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে দাবি করতেন তিনি। ধনকুবেররা এই গুরু রাজনীশের দীক্ষা নিতেন। তাদের সৌজন্যে রাজনীশের ব্যক্তিগত ধনসম্পদ ছিল প্রচুর। যদিও তিনি এসব ধনসম্পদকে অপাংক্তেয় মনে করতেন। ভারতের পুনেতে আছে ওশো ইন্টারন্যাশনাল মেডিটেশন রিসোর্ট। প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে আসেন কয়েক লাখ ভক্ত-পর্যটক। ১৯৯০ সালের ৯ জানুয়ারি প্রয়াত হন পুণের আশ্রমে থাকাকালীন অবস্থায়। অনেকেই বলেন, তাকে চক্রান্ত করে হত্যা করিয়েছে মার্কিন সরকার। আবার অনেকেই তার ওপর তোলা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা বলে দাবি করেন। ১৯৩১ সালের ১১ ডিসেম্বর ভারতের মধ্যপ্রদেশের রাইজান জেলার নরসিংহপুরে জন্ম নেওয়া ভগবান শ্রী রাজনীশের প্রকৃত নাম চন্দ্রমোহন জৈন। রাজনীশ ছিল তার উপনাম। ভক্তরা তাকে ওশো কিংবা আচার্য রাজনীশ নামেও চেনে। ভারতীয় গুডম্যান খ্যাত ভগবান রাজনীশকে তার ভক্তরা সাক্ষাৎ ভগবান বলে মনে করত। জীবদ্দশায় তিনি ছিলেন বিতর্কিত এবং রহস্যময় গুরু। ভক্তরা তাকে আধ্যাত্মিক মানুষ বলেও মনে করত। ভগবান শ্রী রাজনীশ তার মায়ের পিতামহের বাড়িতে এক বস্ত্র ব্যবসায়ীর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। ১১ সন্তানের মধ্যে রাজনীশ ছিলেন সবার বড়। তার বাবা ছিলেন বাবুলাল এবং মা ছিলেন সরস্বতী জৈন। তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দর্শন ভারতের সাওগড় বিশ্ববিদ্যালয়  থেকে। এরপর দর্শনের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন রায়পুর সংস্কৃত কলেজ এবং পরবর্তীতে জাবালপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। অধ্যাপনাকালেই ভারতের অন্যান্য প্রদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। কঠোর সমালোচকের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন এবং বিভিন্ন স্থানে বক্তৃতার মাধ্যমে তুলে ধরেন সমাজতন্ত্র, মহাত্মা গান্ধী, আনুষ্ঠানিক ধর্ম, প্রথাগত যৌনচর্চা প্রভৃতিসহ তার নিজস্ব ভাবনা বা দর্শন। অনেকেই তাকে বিশ শতাব্দীর দার্শনিক বলে থাকেন। কিন্তু তার তৈরি আশ্রমে উদ্দাম যৌনতার কারণে তিনি ব্যাপক আলোচিত এবং সমালোচিত হন। তার সম্পর্কে খ্যাতিমান লেখক ক্রিস্টোফার ক্যাডলার, ধর্মগুরু ইউজি কৃষ্ণমূর্তি প্রমুখ ব্যক্তিত্বের যেমন বিরূপতা রয়েছে, তেমনি তার দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধা ও প্রশংসাও করেছেন— খুশবন্ত সিং, জার্মান দার্শনিক পিটার স্লোটারডিজক, জালালউদ্দীন রুমীর অনুবাদক কোলেম্যান বার্কস, মার্কিন লেখক টম রবিনস প্রমুখসহ বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বরা। তিনি ছিলেন মূলত মুক্ত চিন্তক। জীবদ্দশায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রত্যাখ্যাত এবং দেশি-বিদেশি লেখক, সমালোচক ও ধর্মীয় নেতাদের কাছ থেকে বিপুল উপেক্ষা জুটেছে ভগবান শ্রী রাজনীশের। অতঃপর বিখ্যাত ব্যক্তিদের বেলায় যা ঘটে; ১৯৯০ সালের ১৯ জানুয়ারি রাজনীশের মৃত্যুর পর তিনি রাতারাতি ভারতসহ সারাবিশ্বে মহানায়ক বনে যান। গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে তার খ্যাতি। তার যত ভণ্ডামি ‘‘জীবনের দর্শনচ্যুত হয়ে অতলে তলিয়ে যেতে থাকে কেউ কেউ। নিজেকে তখন সহায়হীন মনে হয়। ঠিক এমন মুহূর্তে এক চিলতে আলোর দেখা পেলে মানুষ পায় বাঁচার আশা। সময়ে সময়ে এমনি আলোর শিখা হাতে হাজির হন কিছু স্বঘোষিত গুরু শ্রেণির ব্যক্তি। তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের থাকে অগাধ বিশ্বাস। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করা সেসব গুরুর ভণ্ডামি বেরিয়ে আসে লোকসম্মুখে। মানুষ নিজ জ্ঞানে যে নীতিকে শ্রেষ্ঠ মেনে জীবন বাঁধে তাকে অনেকেই ধর্ম বলে। তার ওপর সে ধর্ম যদি যৌনতার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় তবে বুঁদ হওয়ার বাকি থাকে না কিছুই। যে নীতি কারও ধ্যান-জ্ঞানে পরিণত হয় তাতে শুধু যৌনতা-মাখা বাণী দেওয়া নয়, যৌনতাকে উপভোগ্য করতে প্রতিটি বাঁকের বিশদ বর্ণনা এবং সবকিছুর বন্দোবস্তও স্বয়ং গুরু করে দিচ্ছেন তখন তা কামবুভুক্ষু মানুষকে টেনে আনবেই। ভগবান শ্রী রাজনীশ ওরফে, ‘সেক্সগুরু’ ওশো ছিলেন তেমনি একজন গুরু। গ্রিক ফিলোতেস, রোমান কিউপিড, হিন্দু মদনদেব কেউই কলির এই ভগবানের কাছে কিছু নন! অপার যৌনতাই ছিল রাজনীশের মতে মুক্তির মূলমন্ত্র। কোনো ঢাকঢাক-গুড়গুড় পছন্দ করতেন না তিনি। তিনি স্পষ্টই বলতেন, ‘আই অ্যাম অ্যা স্পিরিচুয়াল প্লেবয়! ইজ দেয়ার সামথিং রং?’ ১৯৭০ থেকে ১৯৭৪ মুম্বাই, তারপর সাত বছর পুনেতে তার অবস্থান। তার এমন বাণীর প্রচারে ক্রমশ আশ্রমের পরিধি বাড়ছিল, যুক্তরাজ্য আর মার্কিন অনুগামীর সংখ্যাও বাড়ছিল পাল্লা দিয়ে। শোনা যায় এ সময় থেকেই তার বক্তৃতায় নাকি দার্শনিক ব্যাখ্যার বদলে ক্রমশ জায়গা করে নিতে থাকে ‘নোংরা’ চুটকি। আধ্যাত্মিকতা আর যৌনতার ককটেল যে পাশ্চাত্যের এসব অনুগামীদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষক বিজ্ঞাপন, তা তিনি ভালোই বুঝে গিয়েছিলেন। ভক্তদের কল্যাণে ১৯৮১ সালে রাজনীশের পদধূলি পড়ল মার্কিন মুল্লুকে। ওরেগনে গড়ে উঠল নতুন আশ্রম ‘রাজনীশপুরম’। তারপর যত ভণ্ডামি কর্মকাণ্ড রাজনীশপুরমেই। কখনো হালকা সুর, কখনো হার্ড মিউজিকের সঙ্গে উত্তাল নাচ। কখনো বক্তৃতা, কখনো অনুগামীদের কপালে আঙ্গুল ঠেকিয়ে প্রশান্তির তরঙ্গ প্রেরণ। তার আশ্রমে ভিড় বাড়তে থাকা এসব ভক্তের কর্মকাণ্ড দেখে লোকে বলতে লাগল রাজনীশের আশ্রম যৌনতার মুক্তাঞ্চল। যে খুশি, যার সঙ্গে খুশি, যখন খুশি, যেভাবে খুশি সঙ্গম করতে পারত! সেখানে যে কেউই চাইলে মাসে নব্বই জনের সঙ্গেও নাকি সঙ্গম করতে পারত! এসব অভিযোগ তার দিকে ছুটে এলে, তিনি হাসিমুখে বলে গেছেন ‘লেট সেক্স বি আ প্লেফুলনেস, অ্যা ফান। আফটার দি ইনভেনশন অব পিল, ইটস নট অ্যা প্রবলেম।’ শুধু সেক্সের অভয়াশ্রম নয়, তার আশ্রম ছিল নেশার আখড়া হিসেবে অভিযুক্ত। নেশার পক্ষেও ছিল তার স্পষ্ট অবস্থান। তার ভাষ্যটা এরকম— ‘ইফ ইউ ক্যান নট প্রোভাইড মেডিটেশন, ইউ শুড প্রোভাইড মেডিসিন’। রাজনীশ মনে করেন, প্রতিটি হাসপাতালে একটি ঘর থাকা উচিত যেখানে মানুষ নেশা বা ড্রাগস নিতে পারে। সব সরকারেরই দায়িত্ব প্রত্যেকের জন্য একটু প্রশান্তির ব্যবস্থা করা। রাজনীশপুরমে মাদক আর নেশাদ্রব্যের পাশাপাশি ছিল অগাধ মার্কিন ডলারের আনাগোনা। সাংবাদিকরা তার নামই দিয়েছিলেন ‘রোলস রয়েস গুরু’! যারা তার ‘নব্য সন্ন্যাস’-এ দীক্ষা নিতেন, তাদের সৌজন্যে রাজনীশের ব্যক্তিগত রোলস রয়েসের সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছিল নিরানব্বইতে! সবার সমর্থন পেয়ে অতি সাহসী হয়ে মানুষ মারার খেলায় সচেষ্ট হয়ে পড়েছিলেন তিনি এবং তার ডান হাত মা আনন্দ শিলা। ততদিনে ওরেগন প্রদেশের বেশির ভাগ নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে রাজনীশ-ভক্তদেরই হাতে। কিন্তু সেখানকার স্থানীয়রা উড়ে এসে জুড়ে বসা এই সন্ন্যাসীদের কাণ্ডকারখানা দুচক্ষে দেখতে পারতেন না। আর ঠিক তখনই মার্কিন কাউন্টি নির্বাচন। অতএব রাজনীশপুরমের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে গেলে চাই চূড়ান্ত ক্ষমতা নিজেদের প্রার্থীকে জেতাতে হবে, বিরোধীরা যাতে ভোট দিতে যেতেই না পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। ফলে ফোনে আড়িপ াতা, ভোট জালিয়াতি, অগ্নিসংযোগসহ গর্হিত নানা কাজ তার মাধ্যমে হয়। এ ছাড়াও খাবারে বিষ মিশিয়ে ১৯৮৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ছড়ালো বিষ স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া। বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়লেন ৭০০-এর বেশি মানুষ। শুরু হলো তদন্ত। এগুলো প্রকাশ পাওয়ার পর ১৯৮৫ সালে রাজনীশ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। মার্কিন মুল্লুকে ভগবানের সাজানো বাগান শুকাতে থাকে। খুব দ্রুত নিজের সবকিছু গুটিয়ে দেশে ফিরে আসতে হয়েছিল। রাজনীশের এত এত ভণ্ডামি সবার সামনে উঠে এলেও তার গুণের প্রশংসা করেছেন মনমোহন সিং, ম্যাডোনা, কপিল দেব, টম ক্রুজ, দালাইলামা এমনকি ফেদেরিকো ফেলিনি। পঞ্চান্নটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে রাজনীশের বই। মৃত্যুর পরও পুনে তার গড়ে তোলা আশ্রম রমরমিয়ে চলছে এখনো। তবু তার এসব কেচ্ছা-কাহিনীর দাগ কি মুছে গেছে এতটুকু? ‘গুরু’ হয়েছেন বটে, ‘ভগবান’ কি হতে পেরেছেন জাবালপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের সাবেক অধ্যাপক শ্রী চন্দ্রমোহন জৈন? সুন্দরী বিবেকের আত্মহত্যা সুন্দরী বিবেক ছিলেন ভগবান রাজনীশের আমেরিকান ভক্ত। ১৯৯০ সালে এই ভক্তের হঠাৎই মৃত্যু হয়। তবে সংবাদমাধ্যমের ধারণা, সুন্দরী বিবেক আত্মহত্যা করেছেন। যদিও কোনো শিষ্যই এই মৃত্যুতে মারাত্মক ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে বলে স্বীকার করেনি কিংবা আত্মহত্যার এই তত্ত্বকে প্রমাণ করার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণও মেলেনি। তবে এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য সবাই রাজনীশকে দায়ী করেছেন। অনেকে মনে করেন, বিবেকের সঙ্গে রাজনীশের সম্পর্ক ছিল। আবার সর্বাধিক প্রেম আর অতিরিক্ত যৌনতার জন্যই সুন্দরী বিবেক আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে অনেকেই মনে করেন। তবে কিছু সূত্র থেকে উঠে আসে সেই আত্মহত্যার খণ্ডচিত্র। মৃত্যুর এক মাস আগে রাজনীশের ভ্রমণের সময় মুম্বাইয়ের হোটেলে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন দ্য বিউটিফুল খ্যাত সুন্দরী বিবেক। আর বিবেক চেয়েছিলেন রাজনীশের জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতার আগেই নিজেকে নিঃশেষ করে দিতে। এর আগেও এই ভক্ত ওরেগনের আশ্রমে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। শেষ নিঃশ্বাসের মুহূর্তে বিবেক রাজনীশের কাছে বলেছিলেন— ‘আমাকে যেতে দিন। আমার শরীর আমার জন্য নরকে পরিণত হয়েছে। কথিত আছে, রাজনীশের এসব অবৈধ কার্যকলাপের একমাত্র প্রমাণ ছিল রাজনীশের একান্ত অনুসারীরা। সুন্দরী বিবেকও ছিলেন সেই অনুসারীদের একজন। হয়তো এসব অপকর্ম থেকে মুক্তি পেতেই আত্মহত্যা করেন বিবেক। গুরুর ডান হাত শিলা ভগবান রাজনীশের সঙ্গে মা আনন্দ শিলার রয়েছে অনেক স্মৃতিকথা। শিলা রাজনীশকে পছন্দ করতেন বলেও অনেকে মনে করতেন। এই অন্ধ ভক্তকে আধ্যাত্মিকতা রপ্ত করিয়েছিলেন ভগবান রাজনীশ। শিলা জন্মগ্রহণ করেন শিলা অম্বালাল প্যাটেলে। বারোদা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্ব এবং আমেরিকার নিউজার্সির মানক্লেয়ার স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়ন করেন শিলা। স্টেট ইউনিভার্সিটিতে সিরামিক নিয়ে পড়াশোনা করেন। রাজনীশের সঙ্গে প্রথম পরিচয়টা ছিল শিলার বাবার মাধ্যমে। শিলার বাবা তার মেয়েকে রাজনীশের কাছে পেশ করেন। এরপর থেকেই নিজেকে ভালোভাবে উৎসর্গ করেন শিলা। রাজনীশ ১৯৮১ সালে আমেরিকার ওরেগনে আশ্রম গড়ে তোলেন এবং সেখানে মা আনন্দ শিলা ছিলেন ব্যক্তিগত সহকারী। রাজনীশপুরের দ্বিতীয় হুকুমদাতাও মানা হতো তাকে। কিছু কিছু জায়গায় শিলা ছিলেন গুরুর যোগ্য শিষ্য। ওরেগনের সেই বিষক্রিয়ায় রাজনীশের সঙ্গে শিলারও সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল। আর এজন্য রাজনীশের সঙ্গে মা আনন্দ শিলাকেও গ্রেফতার করেছিল ওরেগন পুলিশ। আদালতে রাজনীশপুরের সন্ন্যাসীরা তাদের অপকর্মের কথা স্বীকার করলে তাদের আদালত শাস্তিস্বরূপ দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়। ভগবান রাজনীশের অনেক কুকর্মের রাজসাক্ষী ছিলেন এই মা আনন্দ শিলা। অনেকে শিলাকে গুরুর রক্ষী মনে করত। গুরুর সঙ্গে শিলার অবৈধ সম্পর্কও ছিল বলে অনেকেই মনে করতেন। আপনি যেকোনো সুন্দর জিনিসেরই প্রেমী, তাতে সেটা কোনো কলা হোক, মনোরম পরিবেশ হোক বা কোনো ভালো চেহারার মানুষই হোক। শুধুমাত্র চোখ দিয়ে যে সুন্দরতা দেখা যাই সেটাকেই আপনি মান দেন তা নয়, বরঞ্চ সুন্দরতার অন্যান্য রূপের প্রতিও আপনি আকর্ষিত হন। মধুর সঙ্গীত আপনার ভালো লাগে, কোনো চরিত্রের ব্যক্তি আপনাকে আপীল করে। আপনি সাধারণের থেকে সবসময় একটু ওপরে থাকেন।ওপর ব্যক্তিকে খুশি করার একটি সহজাত গুন আপনার মধ্যে আছে। কেউ অসুবিধার মধ্যে থাকলে তাকে কিভাবে স্বাভাবিক করা যায় এবং তাদের নিজেদের দ্বারাই কিভাবে খুশি পাওয়া যায় সেটা আপনি জানেন। এটি একটি বিরল উপহার যেটা আপনি পেয়েছেন আর আপনার মত খুব লোকই এই পৃথিবীতে আছে।সাধারণত মানুষ যতটা বাস্তবিক হয় আপনি ততটা নন, এবং কোনো নির্ধারিত সময়ের সাক্ষাতের ক্ষেত্রে আপনি ততটা সময়নিষ্ঠ নন।আপনি একটু অতি-সংবেদনশীল আর কিছু সময় অযথা ক্ষুন্ন হন। তবে আপনি আপনার অসন্তোষ উচ্চকণ্ঠে ঝগড়া করার মাধ্যমে দেখান না। কোনো কিছুতে সঙ্গতির অভাব এমন একটা জিনিস যা আপনাকে যেকোনো মূল্যে দুরে রাখতে হবে। হতে পারে, আপনার কারো প্রতি রাগরোষ আছে, তবে অন্য কাউকে এই জিনিসটা আপনি বুঝতে দেন না। আপনি শুধু নিজের মধ্যেই এটাকে রাখেন। Osho Rajneesh এর সুখ ও সাচ্ছন্দের রাশিফল আপনার বিভিন্ন বিষয় গোপন রাখার অভ্যাস আছে যা আপনাকে বিভিন্ন উপায়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে নিজের কাছে গুপ্ত রাখতে সহায়তা করে। অন্য দিকে, আপনি আপনার আনুষ্ঠানিক শিক্ষালাভের ক্ষত্রে প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারেন। আপনি যদি সম্পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে কঠোর পরিশ্রম করেন তবে আপনি এই চ্যালেঞ্জগুলি অতিক্রম করতে পারবেন। আপনার শিক্ষালাভের দিকে মনোযোগ দেয়া উচিত এবং নিয়মিত আপনার পুরোনো পাঠ ঝালিয়ে নেওয়া উচিত। এটি করা উচিত যাতে আপনি যে সমস্ত জ্ঞান অর্জন করেছেন তা সম্পূর্ণ ভাবে আত্মস্থ করতে পারেন। নেতিবাচক সঙ্গে আপনার শিক্ষায় বাধা সৃষ্টি হতে পারে এই কারণে আপনার দেখেশুনে নিজের সঙ্গ স্থির করা উচিত। পরিস্থিতি কখনও কখনও আপনার বিরুদ্ধে যেতে পারে, তবে আপনাকে সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে যাতে আপনার শিক্ষাগত জীবন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।আপনি আদর্শবাদী এবং অন্যের কাছে অনুপ্রেরনাদায়ক, কারণ আপনার সহজাত আধ্যাত্মিক বিশ্বাস আছে। অত্যন্ত সংবেদনশীল, অন্যেরা আপনাকে পছন্দ করে - খুব কমই আপনি কারো আবেগকে আহত করেন। জীবনের কাঠিন্যকে বুঝে, সেটা থেকে শিক্ষা নিয়ে সম্পূর্ণ সতন্ত্র হাতে আপনি খুশি হন। Osho Rajneesh এর জীবন শৈলির রাশিফল আপনি আপনার যৌন-জীবন বৃদ্ধি করতে উদ্দেশ্যমূলক। যদি অন্যান্য কারণে আপনি অনুভব করেন যে ধন-সম্পদ জরুরী তো আপনি প্রচুর টাকা অর্জন করতে উত্সাহিত হবেন। যাই আপনার লক্ষ্য হোক, যৌন-সুখ আপনার কাছে একটা প্রেরনাদায়ক জিনিস। এটা নিয়ে ঝামেলা না করে এটাকে স্বীকৃতি দিন এবং সর্বোচ্চ সুবিধা ওঠাতে এটাকে ব্যবহার করুন। ১৯৬০ এর দশকে পাশ্চাত্যে তান্ত্রিক অনুশীলন এক নতুন মাত্রা পায় এর যৌন প্রক্রিয়াগুলির জন্য। ফলশ্রুতিতে, এর আধ্যাত্মিক অনুশীলনের প্রয়োজনীয় দিকগুলি অনেকক্ষেত্রে উপেক্ষিত হয়। তবে প্রচলিত তন্ত্রে এবং নয়া তন্ত্রে যৌনতার ভূমিকা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যভেদে আলাদা আলাদা হয়। 'প্রাণী চুম্বকত্ব'এর মতো বিদ্যা নয়াতন্ত্রে নতুন মাত্রা পায়। অনুশীলনকারী[সম্পাদনা] তন্ত্রের এই নয়া মতবাদের অনেক শিক্ষকই এতে যৌনতা এবং যৌন অভিজ্ঞতাগুলিকে 'পবিত্র কর্ম' বলে মনে করেন শিক্ষার্থীদের আধ্যাত্মিক স্তরের উন্নতির জন্য।[৩] এরা প্রায়শই কুণ্ডলিনী শক্তির জাগরণের কথা বলে থাকেন,[৪][৫] মাতৃকাপূজা করে ষটচক্রকে সক্রিয় করে তোলার জন্য।  এক্ষেত্রে, "তন্ত্র"কে যৌন ও প্রেমের সম্বন্ধ পূরণের মাধ্যম হিসাবে গণ্য করা হয়। অপরপক্ষে, আধুনিক তন্ত্রের প্রাঙ্গনে অনেক নিষ্ঠাবান পণ্ডিত ও শিক্ষক নিয়োজিত। গুরু ভগবান শ্রী রজনীশ (যিনি পরে ওশো নামে পরিচিত হন) তন্ত্রকে শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশল, জৈব-শক্তি, যোগসাধনা, এবং অঙ্গ-মর্দনের সাথে মিলিয়ে তাঁর আশ্রমের শিষ্যদের শেখান। তিনি টাও, বৌদ্ধ ও অতীন্দ্রীয় দর্শনের উপর তান্ত্রিক মতাবলম্বী অনেক বই রচনা করেছেন। এগুলোর মধ্যে একটি হল Tantra, The Supreme Understanding, যেখানে তিনি তিলোপা বিরচিত "মহামুদ্রা সঙ্গীত"-এর গূঢ় অর্থ বিশ্লেষণ করেছেন। এছাড়া বিজ্ঞান ভৈরব-এ রয়েছে ১১২ টি উপায় যেখানে নির্বাণ তত্ত্বের আলোচনা আছে গূহ্য সাধনামূলক গ্রন্থের বিভিন্ন বিষয়ের ফলাফলের উপর।[৭] তাঁর শিষ্যেরা এই মতাদর্শকে আরও এগিয়ে নিয়ে গেছেন। ওশোর একজন শিষ্য মার্গট আনন্দ "আকাশনৃত্য" তন্ত্র নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর লেখা বিভিন্ন বইয়ের মধ্যে হল প্রতিদিনের পরমানন্দের বিদ্যা এবং যৌন জাদু বিদ্যা। অপর এক আধুনিক তান্ত্রিকা ড্যানিয়েল ওডিয়ের, যিনি বিশ্বাস করেন যে, কামনা-বাসনা হল অতীন্দ্রীয় বা তুরীয় অবস্থায় পৌঁছানোর যুক্তিসিদ্ধ পথ।[৮] যৌন-বিশেষজ্ঞ এনি স্প্রিঙ্কলে এবং যৌনবিদ জোসেফ ক্রেমার হলেন 'পবিত্র যৌন অঙ্গ মর্দন'-এর দুজন অনুশীলনকারী। ১৯৯৭ সালে দেবরাহ্ আনাপল একটি 'জাতীয় প্রেম উদযাপন'-এর আয়োজন করে বলেন, "পবিত্র যৌনতার উপর এটি একটি আলাপ-আলোচনাসভা যেখানে বৌদ্ধ, সুফি, টাও, ইহুদি, পেগান, হিন্দু, শিন্টো, উইকান, ওকাল্ট, আমেরিকার আদিম জনজাতি, এবং আফ্রো-ক্যারিবিয়ান সংস্কৃতির তান্ত্রিক গুরুদের এক জায়গায় প্রথমবার নিয়ে আসা হল।" সমালোচনা[সম্পাদনা] জর্জ ফিউয়ারস্টেন, একজন জার্মান ভারতবিদ , যিনি তন্ত্রে দীক্ষিতও, তাঁর তন্ত্র :পরমানন্দ লাভের পথ: বইয়ের শেষে উল্লেখ করেন, "অনেকেই নয়া তান্ত্রিক মতবাদে আকৃষ্ট হয় এতে লৈঙ্গিক যৌন-উত্তেজনা ও আনন্দ আস্বাদনের জন্য, যেহেতু এতে আধ্যাত্মিক অনুভূতি জাগরণের লক্ষ্যে আবেগঘন অবস্থার দরকার হয়। আমরা যদি ভারতে তন্ত্রের ইতিহাস সম্বন্ধে আরও ভালভাবে অবগত হতাম , তাহলে প্রত্যেক প্রজন্মের জন্য একটা তুলনামূলক পরিস্থিতি তৈরী হতে পারত।" তিনি আরও বলেন , "আজকাল তন্ত্রের তর্জমা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই পুস্তকের আকারে পাওয়া যায়... যা হবু তান্ত্রিকদের নিজ নিজ মতাদর্শমূলক অনুষ্ঠানাদি করার সুযোগ করে দিচ্ছে, যেটাকে তারা খুব সহজেই তন্ত্রের নামে চালাতে পারে। " ভগবান রাজনীশের যত কাণ্ড! কে এই ভগবান শ্রী রাজনীশ তার যত ভণ্ডামি সুন্দরী বিবেকের আত্মহত্যা গুরুর ডান হাত শিলা Osho Rajneesh এর সুখ ও সাচ্ছন্দের রাশিফল Osho Rajneesh এর জীবন শৈলির রাশিফল অনুশীলনকারী সমালোচনা








ভক্তদের সঙ্গে নিজ আশ্রমে গুরু রাজনীশ

ক্সগুরু ভগবান শ্রী রাজনীশ। জীবনে বহুবার বিতর্কিত হয়েছেন এই সন্ন্যাসী। ছিলেন প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক। বিশ্বাস করতেন সেক্সের মাধ্যমেই পরমাত্মার সঙ্গে মিলিত হওয়া সম্ভব। আর মানুষের সৃষ্টি সবচেয়ে বড় মিথ্যার নাম হলো ‘ঈশ্বর’। ধ্যানের শিক্ষা দিয়ে গেছেন নিজের শিষ্যদের। সেই সঙ্গে তার আশ্রমে অবাধে সেক্সের সুযোগ ছিল। লিখেছেন

 

রক্ষণশীলতার শৃঙ্খল থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মনকে মুক্ত করার স্বপ্ন দেখতেন ভগবান রাজনীশ। যার আধ্যাত্মিকতা গৌতম বুদ্ধের মতো মহীয়ান এবং একই সঙ্গে যার ইহজাগতিকতা গ্রিক উপন্যাসে যুক্ত করার মতো স্বচ্ছ বস্তুগত। যিনি যুগপৎ বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে একীভূত। যার সবকিছু বস্তুগত লাভের জন্য, আবার সবকিছুই আত্মার প্রশান্তির জন্য। তবে এই নতুন মানুষ পরিবার, বিয়ে, রাজনীতি ও ধর্মের ফাঁদে পা দেবে না। এক্ষেত্রে ভগবান রাজনীশের চিন্তা ছিল অত্যাধুনিক। সর্বোপরি তার নৈতিক শিক্ষা ও লৌকিকতাবর্জিত নয় বরং স্বাভাবিক। মানবতাবাদী এই দার্শনিকের কাছে প্রতিটি মানুষই গুরুত্বপূর্ণ এবং অসীম সম্ভাবনাময়। তার মতে, আমরা সবাই সম্ভাবনাময় বুদ্ধ এবং সবারই আলোক প্রাপ্তির ক্ষমতা রয়েছে। তিনি বিশ শতাব্দীর ভারতীয় দার্শনিক ভগবান রাজনীশ। তিনি শ্রী ভগবান রাজনীশ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং পরবর্তীতে পরিচিত হন ‘সেক্সগুরু’ হিসেবেও। বিতর্কিত এই মানুষটি জন্ম থেকেই আলোচিত বা সমালোচিত ছিলেন না। ভারতের মধ্য প্রদেশের একটি প্রত্যন্ত গ্রামের এক কাপড় ব্যবসায়ীর পরিবারে জন্ম তার। জীবনের প্রথম সাত বছর কাটে মামা বাড়ির আঙিনায়। ষাটের দশকে রাজনীশ নাম হলেও সত্তরের দশকে তিনিই বনে যান ওশো রাজনীশ। অনেক মেধাবী ছিলেন শ্রী রাজনীশ। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আর দর্শনের শিক্ষক ছিলেন রাজনীশ। পড়াশোনা চলাকালীন বিশ্বভ্রমণে আগ্রহী ছিলেন তিনি। সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী এই মানুষটি শুরু থেকেই ছিলেন গান্ধীবাদী। তার মতে, ‘সমাজতন্ত্র এবং গান্ধী উভয়েই দারিদ্র্যকে নির্মূল করার চেয়ে বিশেষায়িত করে।’ তিনি হিন্দু ধর্মের ব্রাহ্মণবাদের বিরুদ্ধেও অত্যন্ত জোরালো বক্তব্য উপস্থাপন করেছিলেন।


Read More:  Chanakya Biography

 গত্বাঁধা নিয়মকে ব্যাতিরেকে কীভাবে হাসি-আনন্দ আর নাচ-গানের মধ্য দিয়ে জীবনকে ভরিয়ে দেওয়া যায়, কীভাবে প্রেম, সততা, ধ্যান এবং অবাধ যৌন মিলনের মধ্য দিয়ে জীবনকে আরও ভালোভাবে উপভোগ করা যায়। জীবনটা হতে পারে স্বপ্নের মতো। একই সঙ্গে বুদ্ধ দর্শন তথা জাগতিকতায় নিরাসক্ততার বিপরীতে তিনি উচ্চকণ্ঠে বলেন— ‘যে ধর্ম জীবনকে অর্থহীন এবং দুঃখময় ভাবে জীবনকে ঘৃণা করতে উদ্বুদ্ধ করে, তা সত্য ধর্ম নয়। ধর্ম হলো একটি শিল্প যা আমাদের শিক্ষা দেয় কী করে জীবনকে উপভোগ করা যায়।’ এই ভাবনার রেশ ধরেই তিনি মানুষের যৌনক্রীড়ার ওপর বিভিন্ন ধর্মের আরোপিত অসঙ্গতি, বিধি-নিষেধ ও অবদানের শিক্ষাকে সমালোচনা করেছেন।

১৯৭০ সালে মুম্বাইতে তিনি নতুন ধরনের চিন্তাভাবনার প্রচার করেছেন। এটাই ছিল তার শুরুর ভাবনা। সেই থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তার প্রচারিত নতুন ভাবনাগুলো অনেকেই উদ্ভট বলে মনে করত। এরপর তিনি সাত বছর পুনেতে একইভাবে নিজের ভাবনার বহিঃপ্রকাশ করেন। একসময় তার ভাবনার পরিধি আশ্রমে রূপ নেয়। তিনি পুনেতেও মুম্বাইয়ের মতো বিশাল আশ্রম গড়ে তোলেন। প্রচুর মানুষ তার কাছে এসে শিষ্যত্ব গ্রহণ করতে থাকে। তার শিষ্যদের মধ্যে শিক্ষিত আর ধনী ব্যক্তির সংখ্যাই ছিল বেশি। এই গ্রুপের সদস্যরা সবসময় কমলা রঙের লম্বা আলখেল্লা পরত। তাদের গলায় ঝুলত রুদ্ধাখ্যের মালা। কাজ-কর্ম, ধ্যান, নাচ এবং আলোচনা ছিল এই জনগোষ্ঠীর নিত্যদিনের রুটিন। মনে তাদের যত ধরনের সংকোচবোধ ছুড়ে ফেলে দিত এর সদস্যরা।

এরপর ১৯৮১ সালে ভগবান রাজনীশ পাড়ি জমান মার্কিন মুল্লুকে। রাজনীশ ওরেগনের একটি নির্জন জায়গায় একটি খামার কেনার পরিকল্পনা করেন। একটি কমিউন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সেখানকার কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন ছিল। সেই কাজের দায়িত্ব যার হাতে ছিল তার নাম দ্যান দারো। তখন দ্যানের কোনো ধারণাই ছিল না যে ভগবান রাজনীশের হাজার হাজার ভক্ত রয়েছে। এরা যখন ওরেগনে দলে দলে এসে জড়ো হতে থাকল তখনই তিনি সেটা টের পেলেন। সেখানে রাজনীশের কাছে অনেকেই জীবনের সবকিছু বিসর্জন দিয়েছিলেন। ১৯৮২ সালে কমিউনের নেতারা তাদের আবাসকে শহর হিসেবে ঘোষণা করার আবেদন করেন। তারা শহরের নাম দিতে চেয়েছিলেন রাজনীশপুরম। তাদের আবেদন মঞ্জুর হলে সেখানে অনেক দালান নির্মাণ করতে পারবে। কিন্তু সেখানকার স্থানীয়দের অনেকেই এর বিরোধিতা করে আদালতে মামলা করেন। দুই বছর ধরে মামলা চলার পর ১৯৮৪ সালে কমিউনের নেতারা দেখলেন মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার চমৎকার সুযোগ এসেছে। আর সেটা হলো স্থানীয় কোনো শিষ্যকে আদালতের দুজন বিচারকের পদে আসন্ন নির্বাচন। কিন্তু এই নির্বাচনে জয়ের পুরো ভোট রাজনীশ কওমের ছিল না।

তাই ১৯৮৪ সালের গ্রীষ্মকাল নাগাদ পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে হাজার হাজার গৃহহীন মানুষকে তারা তাদের রাজনীশপুরমে নিয়ে আসতে শুরু করেন। কিন্তু প্রায় চার হাজার মানুষ রাজনীশপুরমে নিয়ে আসার পরও এই নির্বাচনে জেতার কোনো সুযোগ ছিল না। তাই তারা সিদ্ধান্ত নিল যে, এমনটা কিছু করতে হবে যেটা করলে ভোটের দিন ভোটাররা ভোট কেন্দ্রেই যাবে না। পরবর্তীকালে তদন্তে যা বেরিয়ে এসেছিল যে কওমের নেতারা গোপনে স্থানীয় ডালাস শহরে স্যালমনিয়া ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার শুরু করে। তদন্তকারীরা পরে দেখতে পান যে, রাজনীশ ভক্তের একটি দল শহরের আটটি সালাদ ক্যাফে ও দুটি রেস্টুরেন্টে এই ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে দেয়। এরপরই স্থানীয় হাসপাতালগুলোয় রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। রাজনীশপুরমের নেতৃত্বে যারা ছিলেন তারা ক্রমাগতই একা হয়ে যাচ্ছিলেন। তারা সবাইকে শত্রু বলে মনে করতে শুরু করেছিলেন। অ্যান গ্যারিটির মতো মানুষ যারা এসব দেখে সন্দিহান হয়ে পড়েছিলেন, তারাও ক্রমাগত চাপের শিকার হচ্ছিলেন। এর কিছুদিন পরই অ্যানকে কমিউন থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং পাঠানো হয় জার্মানির একটি কমিউনে। ওরেগনের সংকট ঘনীভূত হয় ১৯৮৫ সালে, যখন রাজনীশ কমিউনের কয়েকজন নেতা হঠাৎ করেই ইউরোপে পালিয়ে যান। এর কিছুদিন পরই ভগবান রাজনীশ জনসম্মুখে এক অদৃষ্টপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তিনি তার সাবেক ভক্তদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, অগ্নিকাণ্ড, গোপনে আড়ি পাতা এবং গণহারে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, এসব অপরাধ সম্পর্কে তিনি নিজে কিছুই জানতেন না।

ভগবান রাজনীশের এই ভিডিও দেখে শেষ পর্যন্ত অ্যানের মোহভঙ্গ হয়। ভগবান রাজনীশ তদন্তকারীদের রাজনীশপুরে এসে তদন্ত করার আমন্ত্রণ জানান। তারা সেখানে সালমোনেয়ারে একটি গবেষণাগার আবিষ্কার করেন এবং আড়ি পাতার যন্ত্রপাতির খোঁজ পান। কমিউনের মূল নেতারা শেষ পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে তাদের শাস্তির মেয়াদ কমিয়ে আনেন। ডালাসে বিষ প্রয়োগের অভিযোগসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ তারা স্বীকার করে নেন। এতে তিনজনের কারাদণ্ড হয়। তাদের গুরু ভগবান রাজনীশের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ভঙ্গের প্রমাণ মেলে এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়। তল্পিতল্পা গুটিয়ে দেশে ফিরে আসতে হয়েছিল তাকে। ১৯৮৫ সালে ভারতের দিল্লিতে ফেরত আসার পর তাকে তার অনুসারীরা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। এরপর হিমাচল প্রদেশে ছয় সপ্তাহ অবস্থানের পর ভারত সরকারও তাকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। এরপর গুরু রাজনীশ নেপালে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঈশ্বরে বিশ্বাস ছিল না ভগবান রাজনীশের।

তার মতবাদ হলো, ঈশ্বর মানুষের সৃষ্টি করা সব থেকে বড় মিথ্যা। তবে পূর্ণ সম্মতি ছিল সম্মোহনে। আধ্যাত্মিকতা আর যৌনতার সংমিশ্রণে এক ধরনের দার্শনিক জ্ঞানের প্রচার করতে থাকেন। অপার যৌনতাই মুক্তির মূলমন্ত্র হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন নিজে। ভগবান রাজনীশ যৌনতাকে দেখেছেন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে। তিনি দাবি করতেন, যৌনতায় খারাপ কিছু নেই। প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল কলেজে যৌনতার শিক্ষা দেওয়া উচিত। মানুষের মনকেই মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে দাবি করতেন তিনি। ধনকুবেররা এই গুরু রাজনীশের দীক্ষা নিতেন। তাদের সৌজন্যে রাজনীশের ব্যক্তিগত ধনসম্পদ ছিল প্রচুর। যদিও তিনি এসব ধনসম্পদকে অপাংক্তেয় মনে করতেন। ভারতের পুনেতে আছে ওশো ইন্টারন্যাশনাল মেডিটেশন রিসোর্ট। প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে আসেন কয়েক লাখ ভক্ত-পর্যটক। ১৯৯০ সালের ৯ জানুয়ারি প্রয়াত হন পুণের আশ্রমে থাকাকালীন অবস্থায়। অনেকেই বলেন, তাকে চক্রান্ত করে হত্যা করিয়েছে মার্কিন সরকার। আবার অনেকেই তার ওপর তোলা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা বলে দাবি করেন।

১৯৩১ সালের ১১ ডিসেম্বর ভারতের মধ্যপ্রদেশের রাইজান জেলার নরসিংহপুরে জন্ম নেওয়া ভগবান শ্রী রাজনীশের প্রকৃত নাম চন্দ্রমোহন জৈন। রাজনীশ ছিল তার উপনাম। ভক্তরা তাকে ওশো কিংবা আচার্য রাজনীশ নামেও চেনে। ভারতীয় গুডম্যান খ্যাত ভগবান রাজনীশকে তার ভক্তরা সাক্ষাৎ ভগবান বলে মনে করত। জীবদ্দশায় তিনি ছিলেন বিতর্কিত এবং রহস্যময় গুরু। ভক্তরা তাকে আধ্যাত্মিক মানুষ বলেও মনে করত। ভগবান শ্রী রাজনীশ তার মায়ের পিতামহের বাড়িতে এক বস্ত্র ব্যবসায়ীর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। ১১ সন্তানের মধ্যে রাজনীশ ছিলেন সবার বড়। তার বাবা ছিলেন বাবুলাল এবং মা ছিলেন সরস্বতী জৈন। তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দর্শন ভারতের সাওগড় বিশ্ববিদ্যালয়  থেকে। এরপর দর্শনের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন রায়পুর সংস্কৃত কলেজ এবং পরবর্তীতে জাবালপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। অধ্যাপনাকালেই ভারতের অন্যান্য প্রদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। কঠোর সমালোচকের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন এবং বিভিন্ন স্থানে বক্তৃতার মাধ্যমে তুলে ধরেন সমাজতন্ত্র, মহাত্মা গান্ধী, আনুষ্ঠানিক ধর্ম, প্রথাগত যৌনচর্চা প্রভৃতিসহ তার নিজস্ব ভাবনা বা দর্শন। অনেকেই তাকে বিশ শতাব্দীর দার্শনিক বলে থাকেন। কিন্তু তার তৈরি আশ্রমে উদ্দাম যৌনতার কারণে তিনি ব্যাপক আলোচিত এবং সমালোচিত হন। তার সম্পর্কে খ্যাতিমান লেখক ক্রিস্টোফার ক্যাডলার, ধর্মগুরু ইউজি কৃষ্ণমূর্তি প্রমুখ ব্যক্তিত্বের যেমন বিরূপতা রয়েছে, তেমনি তার দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধা ও প্রশংসাও করেছেন— খুশবন্ত সিং, জার্মান দার্শনিক পিটার স্লোটারডিজক, জালালউদ্দীন রুমীর অনুবাদক কোলেম্যান বার্কস, মার্কিন লেখক টম রবিনস প্রমুখসহ বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বরা। তিনি ছিলেন মূলত মুক্ত চিন্তক। জীবদ্দশায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রত্যাখ্যাত এবং দেশি-বিদেশি লেখক, সমালোচক ও ধর্মীয় নেতাদের কাছ থেকে বিপুল উপেক্ষা জুটেছে ভগবান শ্রী রাজনীশের। অতঃপর বিখ্যাত ব্যক্তিদের বেলায় যা ঘটে; ১৯৯০ সালের ১৯ জানুয়ারি রাজনীশের মৃত্যুর পর তিনি রাতারাতি ভারতসহ সারাবিশ্বে মহানায়ক বনে যান। গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে তার খ্যাতি।

আরও পড়ুন:Biography of Buddhist guru Dalai lama || বৌদ্ধ ধর্মগুরু দালাইলামার জীবন কাহিনী

তার যত ভণ্ডামি

‘‘জীবনের দর্শনচ্যুত হয়ে অতলে তলিয়ে যেতে থাকে কেউ কেউ। নিজেকে তখন সহায়হীন মনে হয়। ঠিক এমন মুহূর্তে এক চিলতে আলোর দেখা পেলে মানুষ পায় বাঁচার আশা। সময়ে সময়ে এমনি আলোর শিখা হাতে হাজির হন কিছু স্বঘোষিত গুরু শ্রেণির ব্যক্তি। তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের থাকে অগাধ বিশ্বাস। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করা সেসব গুরুর ভণ্ডামি বেরিয়ে আসে লোকসম্মুখে।

 

মানুষ নিজ জ্ঞানে যে নীতিকে শ্রেষ্ঠ মেনে জীবন বাঁধে তাকে অনেকেই ধর্ম বলে। তার ওপর সে ধর্ম যদি যৌনতার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় তবে বুঁদ হওয়ার বাকি থাকে না কিছুই। যে নীতি কারও ধ্যান-জ্ঞানে পরিণত হয় তাতে শুধু যৌনতা-মাখা বাণী দেওয়া নয়, যৌনতাকে উপভোগ্য করতে প্রতিটি বাঁকের বিশদ বর্ণনা এবং সবকিছুর বন্দোবস্তও স্বয়ং গুরু করে দিচ্ছেন তখন তা কামবুভুক্ষু মানুষকে টেনে আনবেই। ভগবান শ্রী রাজনীশ ওরফে, ‘সেক্সগুরু’ ওশো ছিলেন তেমনি একজন গুরু। গ্রিক ফিলোতেস, রোমান কিউপিড, হিন্দু মদনদেব কেউই কলির এই ভগবানের কাছে কিছু নন! অপার যৌনতাই ছিল রাজনীশের মতে মুক্তির মূলমন্ত্র। কোনো ঢাকঢাক-গুড়গুড় পছন্দ করতেন না তিনি। তিনি স্পষ্টই বলতেন, ‘আই অ্যাম অ্যা স্পিরিচুয়াল প্লেবয়! ইজ দেয়ার সামথিং রং?’ ১৯৭০ থেকে ১৯৭৪ মুম্বাই, তারপর সাত বছর পুনেতে তার অবস্থান। তার এমন বাণীর প্রচারে ক্রমশ আশ্রমের পরিধি বাড়ছিল, যুক্তরাজ্য আর মার্কিন অনুগামীর সংখ্যাও বাড়ছিল পাল্লা দিয়ে। শোনা যায় এ সময় থেকেই তার বক্তৃতায় নাকি দার্শনিক ব্যাখ্যার বদলে ক্রমশ জায়গা করে নিতে থাকে ‘নোংরা’ চুটকি। আধ্যাত্মিকতা আর যৌনতার ককটেল যে পাশ্চাত্যের এসব অনুগামীদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষক বিজ্ঞাপন, তা তিনি ভালোই বুঝে গিয়েছিলেন। ভক্তদের কল্যাণে ১৯৮১ সালে রাজনীশের পদধূলি পড়ল মার্কিন মুল্লুকে। ওরেগনে গড়ে উঠল নতুন আশ্রম ‘রাজনীশপুরম’।

তারপর যত ভণ্ডামি কর্মকাণ্ড রাজনীশপুরমেই। কখনো হালকা সুর, কখনো হার্ড মিউজিকের সঙ্গে উত্তাল নাচ। কখনো বক্তৃতা, কখনো অনুগামীদের কপালে আঙ্গুল ঠেকিয়ে প্রশান্তির তরঙ্গ প্রেরণ। তার আশ্রমে ভিড় বাড়তে থাকা এসব ভক্তের কর্মকাণ্ড দেখে লোকে বলতে লাগল রাজনীশের আশ্রম যৌনতার মুক্তাঞ্চল। যে খুশি, যার সঙ্গে খুশি, যখন খুশি, যেভাবে খুশি সঙ্গম করতে পারত! সেখানে যে কেউই চাইলে মাসে নব্বই জনের সঙ্গেও নাকি সঙ্গম করতে পারত! এসব অভিযোগ তার দিকে ছুটে এলে, তিনি হাসিমুখে বলে গেছেন ‘লেট সেক্স বি আ প্লেফুলনেস, অ্যা ফান। আফটার দি ইনভেনশন অব পিল, ইটস নট অ্যা প্রবলেম।’ শুধু সেক্সের অভয়াশ্রম নয়, তার আশ্রম ছিল নেশার আখড়া হিসেবে অভিযুক্ত। নেশার পক্ষেও ছিল তার স্পষ্ট অবস্থান। তার ভাষ্যটা এরকম— ‘ইফ ইউ ক্যান নট প্রোভাইড মেডিটেশন, ইউ শুড প্রোভাইড মেডিসিন’। রাজনীশ মনে করেন, প্রতিটি হাসপাতালে একটি ঘর থাকা উচিত যেখানে মানুষ নেশা বা ড্রাগস নিতে পারে। সব সরকারেরই দায়িত্ব প্রত্যেকের জন্য একটু প্রশান্তির ব্যবস্থা করা।

রাজনীশপুরমে মাদক আর নেশাদ্রব্যের পাশাপাশি ছিল অগাধ মার্কিন ডলারের আনাগোনা। সাংবাদিকরা তার নামই দিয়েছিলেন ‘রোলস রয়েস গুরু’! যারা তার ‘নব্য সন্ন্যাস’-এ দীক্ষা নিতেন, তাদের সৌজন্যে রাজনীশের ব্যক্তিগত রোলস রয়েসের সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছিল নিরানব্বইতে! সবার সমর্থন পেয়ে অতি সাহসী হয়ে মানুষ মারার খেলায় সচেষ্ট হয়ে পড়েছিলেন তিনি এবং তার ডান হাত মা আনন্দ শিলা। ততদিনে ওরেগন প্রদেশের বেশির ভাগ নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে রাজনীশ-ভক্তদেরই হাতে। কিন্তু সেখানকার স্থানীয়রা উড়ে এসে জুড়ে বসা এই সন্ন্যাসীদের কাণ্ডকারখানা দুচক্ষে দেখতে পারতেন না। আর ঠিক তখনই মার্কিন কাউন্টি নির্বাচন। অতএব রাজনীশপুরমের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে গেলে চাই চূড়ান্ত ক্ষমতা নিজেদের প্রার্থীকে জেতাতে হবে, বিরোধীরা যাতে ভোট দিতে যেতেই না পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। ফলে ফোনে আড়িপ াতা, ভোট জালিয়াতি, অগ্নিসংযোগসহ গর্হিত নানা কাজ তার মাধ্যমে হয়। এ ছাড়াও খাবারে বিষ মিশিয়ে ১৯৮৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ছড়ালো বিষ স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া। বিষক্রিয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়লেন ৭০০-এর বেশি মানুষ। শুরু হলো তদন্ত। এগুলো প্রকাশ পাওয়ার পর ১৯৮৫ সালে রাজনীশ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। মার্কিন মুল্লুকে ভগবানের সাজানো বাগান শুকাতে থাকে। খুব দ্রুত নিজের সবকিছু গুটিয়ে দেশে ফিরে আসতে হয়েছিল। রাজনীশের এত এত ভণ্ডামি সবার সামনে উঠে এলেও তার গুণের প্রশংসা করেছেন মনমোহন সিং, ম্যাডোনা, কপিল দেব, টম ক্রুজ, দালাইলামা এমনকি ফেদেরিকো ফেলিনি। পঞ্চান্নটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে রাজনীশের বই। মৃত্যুর পরও পুনে তার গড়ে তোলা আশ্রম রমরমিয়ে চলছে এখনো। তবু তার এসব কেচ্ছা-কাহিনীর দাগ কি মুছে গেছে এতটুকু? ‘গুরু’ হয়েছেন বটে, ‘ভগবান’ কি হতে পেরেছেন জাবালপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের সাবেক অধ্যাপক শ্রী চন্দ্রমোহন জৈন?

 

সুন্দরী বিবেকের আত্মহত্যা

সুন্দরী বিবেক ছিলেন ভগবান রাজনীশের আমেরিকান ভক্ত। ১৯৯০ সালে এই ভক্তের হঠাৎই মৃত্যু হয়। তবে সংবাদমাধ্যমের ধারণা, সুন্দরী বিবেক আত্মহত্যা করেছেন। যদিও কোনো শিষ্যই এই মৃত্যুতে মারাত্মক ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে বলে স্বীকার করেনি কিংবা আত্মহত্যার এই তত্ত্বকে প্রমাণ করার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণও মেলেনি। তবে এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য সবাই রাজনীশকে দায়ী করেছেন। অনেকে মনে করেন, বিবেকের সঙ্গে রাজনীশের সম্পর্ক ছিল।

আবার সর্বাধিক প্রেম আর অতিরিক্ত যৌনতার জন্যই সুন্দরী বিবেক আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে অনেকেই মনে করেন। তবে কিছু সূত্র থেকে উঠে আসে সেই আত্মহত্যার খণ্ডচিত্র। মৃত্যুর এক মাস আগে রাজনীশের ভ্রমণের সময় মুম্বাইয়ের হোটেলে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন দ্য বিউটিফুল খ্যাত সুন্দরী বিবেক। আর বিবেক চেয়েছিলেন রাজনীশের জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতার আগেই নিজেকে নিঃশেষ করে দিতে। এর আগেও এই ভক্ত ওরেগনের আশ্রমে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। শেষ নিঃশ্বাসের মুহূর্তে বিবেক রাজনীশের কাছে বলেছিলেন— ‘আমাকে যেতে দিন। আমার শরীর আমার জন্য নরকে পরিণত হয়েছে। কথিত আছে, রাজনীশের এসব অবৈধ কার্যকলাপের একমাত্র প্রমাণ ছিল রাজনীশের একান্ত অনুসারীরা। সুন্দরী বিবেকও ছিলেন সেই অনুসারীদের একজন। হয়তো এসব অপকর্ম থেকে মুক্তি পেতেই আত্মহত্যা করেন বিবেক।

গুরুর ডান হাত শিলা

ভগবান রাজনীশের সঙ্গে মা আনন্দ শিলার রয়েছে অনেক স্মৃতিকথা। শিলা রাজনীশকে পছন্দ করতেন বলেও অনেকে মনে করতেন। এই অন্ধ ভক্তকে আধ্যাত্মিকতা রপ্ত করিয়েছিলেন ভগবান রাজনীশ। শিলা জন্মগ্রহণ করেন শিলা অম্বালাল প্যাটেলে।

বারোদা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্ব এবং আমেরিকার নিউজার্সির মানক্লেয়ার স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়ন করেন শিলা। স্টেট ইউনিভার্সিটিতে সিরামিক নিয়ে পড়াশোনা করেন। রাজনীশের সঙ্গে প্রথম পরিচয়টা ছিল শিলার বাবার মাধ্যমে। শিলার বাবা তার মেয়েকে রাজনীশের কাছে পেশ করেন। এরপর থেকেই নিজেকে ভালোভাবে উৎসর্গ করেন শিলা। রাজনীশ ১৯৮১ সালে আমেরিকার ওরেগনে আশ্রম গড়ে তোলেন এবং সেখানে মা আনন্দ শিলা ছিলেন ব্যক্তিগত সহকারী। রাজনীশপুরের দ্বিতীয় হুকুমদাতাও মানা হতো তাকে। কিছু কিছু জায়গায় শিলা ছিলেন গুরুর যোগ্য শিষ্য। ওরেগনের সেই বিষক্রিয়ায় রাজনীশের সঙ্গে শিলারও সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল।

আর এজন্য রাজনীশের সঙ্গে মা আনন্দ শিলাকেও গ্রেফতার করেছিল ওরেগন পুলিশ। আদালতে রাজনীশপুরের সন্ন্যাসীরা তাদের অপকর্মের কথা স্বীকার করলে তাদের আদালত শাস্তিস্বরূপ দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়। ভগবান রাজনীশের অনেক কুকর্মের রাজসাক্ষী ছিলেন এই মা আনন্দ শিলা। অনেকে শিলাকে গুরুর রক্ষী মনে করত। গুরুর সঙ্গে শিলার অবৈধ সম্পর্কও ছিল বলে অনেকেই মনে করতেন।

আপনি যেকোনো সুন্দর জিনিসেরই প্রেমী, তাতে সেটা কোনো কলা হোক, মনোরম পরিবেশ হোক বা কোনো ভালো চেহারার মানুষই হোক। শুধুমাত্র চোখ দিয়ে যে সুন্দরতা দেখা যাই সেটাকেই আপনি মান দেন তা নয়, বরঞ্চ সুন্দরতার অন্যান্য রূপের প্রতিও আপনি আকর্ষিত হন। মধুর সঙ্গীত আপনার ভালো লাগে, কোনো চরিত্রের ব্যক্তি আপনাকে আপীল করে। আপনি সাধারণের থেকে সবসময় একটু ওপরে থাকেন।ওপর ব্যক্তিকে খুশি করার একটি সহজাত গুন আপনার মধ্যে আছে। কেউ অসুবিধার মধ্যে থাকলে তাকে কিভাবে স্বাভাবিক করা যায় এবং তাদের নিজেদের দ্বারাই কিভাবে খুশি পাওয়া যায় সেটা আপনি জানেন। এটি একটি বিরল উপহার যেটা আপনি পেয়েছেন আর আপনার মত খুব লোকই এই পৃথিবীতে আছে।সাধারণত মানুষ যতটা বাস্তবিক হয় আপনি ততটা নন, এবং কোনো নির্ধারিত সময়ের সাক্ষাতের ক্ষেত্রে আপনি ততটা সময়নিষ্ঠ নন।আপনি একটু অতি-সংবেদনশীল আর কিছু সময় অযথা ক্ষুন্ন হন। তবে আপনি আপনার অসন্তোষ উচ্চকণ্ঠে ঝগড়া করার মাধ্যমে দেখান না। কোনো কিছুতে সঙ্গতির অভাব এমন একটা জিনিস যা আপনাকে যেকোনো মূল্যে দুরে রাখতে হবে। হতে পারে, আপনার কারো প্রতি রাগরোষ আছে, তবে অন্য কাউকে এই জিনিসটা আপনি বুঝতে দেন না। আপনি শুধু নিজের মধ্যেই এটাকে রাখেন।

Osho Rajneesh এর সুখ ও সাচ্ছন্দের রাশিফল

আপনার বিভিন্ন বিষয় গোপন রাখার অভ্যাস আছে যা আপনাকে বিভিন্ন উপায়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে নিজের কাছে গুপ্ত রাখতে সহায়তা করে। অন্য দিকে, আপনি আপনার আনুষ্ঠানিক শিক্ষালাভের ক্ষত্রে প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারেন। আপনি যদি সম্পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে কঠোর পরিশ্রম করেন তবে আপনি এই চ্যালেঞ্জগুলি অতিক্রম করতে পারবেন। আপনার শিক্ষালাভের দিকে মনোযোগ দেয়া উচিত এবং নিয়মিত আপনার পুরোনো পাঠ ঝালিয়ে নেওয়া উচিত। এটি করা উচিত যাতে আপনি যে সমস্ত জ্ঞান অর্জন করেছেন তা সম্পূর্ণ ভাবে আত্মস্থ করতে পারেন। নেতিবাচক সঙ্গে আপনার শিক্ষায় বাধা সৃষ্টি হতে পারে এই কারণে আপনার দেখেশুনে নিজের সঙ্গ স্থির করা উচিত। পরিস্থিতি কখনও কখনও আপনার বিরুদ্ধে যেতে পারে, তবে আপনাকে সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে যাতে আপনার শিক্ষাগত জীবন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।আপনি আদর্শবাদী এবং অন্যের কাছে অনুপ্রেরনাদায়ক, কারণ আপনার সহজাত আধ্যাত্মিক বিশ্বাস আছে। অত্যন্ত সংবেদনশীল, অন্যেরা আপনাকে পছন্দ করে - খুব কমই আপনি কারো আবেগকে আহত করেন। জীবনের কাঠিন্যকে বুঝে, সেটা থেকে শিক্ষা নিয়ে সম্পূর্ণ সতন্ত্র হাতে আপনি খুশি হন।

Osho Rajneesh এর জীবন শৈলির রাশিফল

আপনি আপনার যৌন-জীবন বৃদ্ধি করতে উদ্দেশ্যমূলক। যদি অন্যান্য কারণে আপনি অনুভব করেন যে ধন-সম্পদ জরুরী তো আপনি প্রচুর টাকা অর্জন করতে উত্সাহিত হবেন। যাই আপনার লক্ষ্য হোক, যৌন-সুখ আপনার কাছে একটা প্রেরনাদায়ক জিনিস। এটা নিয়ে ঝামেলা না করে এটাকে স্বীকৃতি দিন এবং সর্বোচ্চ সুবিধা ওঠাতে এটাকে ব্যবহার করুন।

১৯৬০ এর দশকে পাশ্চাত্যে তান্ত্রিক অনুশীলন এক নতুন মাত্রা পায় এর যৌন প্রক্রিয়াগুলির জন্য। ফলশ্রুতিতে, এর আধ্যাত্মিক অনুশীলনের প্রয়োজনীয় দিকগুলি অনেকক্ষেত্রে উপেক্ষিত হয়। তবে প্রচলিত তন্ত্রে এবং নয়া তন্ত্রে যৌনতার ভূমিকা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যভেদে আলাদা আলাদা হয়। 'প্রাণী চুম্বকত্ব'এর মতো বিদ্যা নয়াতন্ত্রে নতুন মাত্রা পায়।

অনুশীলনকারী[সম্পাদনা]

তন্ত্রের এই নয়া মতবাদের অনেক শিক্ষকই এতে যৌনতা এবং যৌন অভিজ্ঞতাগুলিকে 'পবিত্র কর্ম' বলে মনে করেন শিক্ষার্থীদের আধ্যাত্মিক স্তরের উন্নতির জন্য।[৩] এরা প্রায়শই কুণ্ডলিনী শক্তির জাগরণের কথা বলে থাকেন,[৪][৫] মাতৃকাপূজা করে ষটচক্রকে সক্রিয় করে তোলার জন্য।  এক্ষেত্রে, "তন্ত্র"কে যৌন ও প্রেমের সম্বন্ধ পূরণের মাধ্যম হিসাবে গণ্য করা হয়। অপরপক্ষে, আধুনিক তন্ত্রের প্রাঙ্গনে অনেক নিষ্ঠাবান পণ্ডিত ও শিক্ষক নিয়োজিত।

গুরু ভগবান শ্রী রজনীশ (যিনি পরে ওশো নামে পরিচিত হন) তন্ত্রকে শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশল, জৈব-শক্তি, যোগসাধনা, এবং অঙ্গ-মর্দনের সাথে মিলিয়ে তাঁর আশ্রমের শিষ্যদের শেখান। তিনি টাও, বৌদ্ধ ও অতীন্দ্রীয় দর্শনের উপর তান্ত্রিক মতাবলম্বী অনেক বই রচনা করেছেন। এগুলোর মধ্যে একটি হল Tantra, The Supreme Understanding, যেখানে তিনি তিলোপা বিরচিত "মহামুদ্রা সঙ্গীত"-এর গূঢ় অর্থ বিশ্লেষণ করেছেন। এছাড়া বিজ্ঞান ভৈরব-এ রয়েছে ১১২ টি উপায় যেখানে নির্বাণ তত্ত্বের আলোচনা আছে গূহ্য সাধনামূলক গ্রন্থের বিভিন্ন বিষয়ের ফলাফলের উপর।[৭] তাঁর শিষ্যেরা এই মতাদর্শকে আরও এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

ওশোর একজন শিষ্য মার্গট আনন্দ "আকাশনৃত্য" তন্ত্র নামে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর লেখা বিভিন্ন বইয়ের মধ্যে হল প্রতিদিনের পরমানন্দের বিদ্যা এবং যৌন জাদু বিদ্যা। অপর এক আধুনিক তান্ত্রিকা ড্যানিয়েল ওডিয়ের, যিনি বিশ্বাস করেন যে, কামনা-বাসনা হল অতীন্দ্রীয় বা তুরীয় অবস্থায় পৌঁছানোর যুক্তিসিদ্ধ পথ।[৮] যৌন-বিশেষজ্ঞ এনি স্প্রিঙ্কলে এবং যৌনবিদ জোসেফ ক্রেমার হলেন 'পবিত্র যৌন অঙ্গ মর্দন'-এর দুজন অনুশীলনকারী। ১৯৯৭ সালে দেবরাহ্ আনাপল একটি 'জাতীয় প্রেম উদযাপন'-এর আয়োজন করে বলেন, "পবিত্র যৌনতার উপর এটি একটি আলাপ-আলোচনাসভা যেখানে বৌদ্ধ, সুফি, টাও, ইহুদি, পেগান, হিন্দু, শিন্টো, উইকান, ওকাল্ট, আমেরিকার আদিম জনজাতি, এবং আফ্রো-ক্যারিবিয়ান সংস্কৃতির তান্ত্রিক গুরুদের এক জায়গায় প্রথমবার নিয়ে আসা হল।"

সমালোচনা[সম্পাদনা]

জর্জ ফিউয়ারস্টেন, একজন জার্মান ভারতবিদ , যিনি তন্ত্রে দীক্ষিতও, তাঁর তন্ত্র :পরমানন্দ লাভের পথ: বইয়ের শেষে উল্লেখ করেন,

"অনেকেই নয়া তান্ত্রিক মতবাদে আকৃষ্ট হয় এতে লৈঙ্গিক যৌন-উত্তেজনা ও আনন্দ আস্বাদনের জন্য, যেহেতু এতে আধ্যাত্মিক অনুভূতি জাগরণের লক্ষ্যে আবেগঘন অবস্থার দরকার হয়। আমরা যদি ভারতে তন্ত্রের ইতিহাস সম্বন্ধে আরও ভালভাবে অবগত হতাম , তাহলে প্রত্যেক প্রজন্মের জন্য একটা তুলনামূলক পরিস্থিতি তৈরী হতে পারত।"

তিনি আরও বলেন , "আজকাল তন্ত্রের তর্জমা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই পুস্তকের আকারে পাওয়া যায়...

যা হবু তান্ত্রিকদের নিজ নিজ মতাদর্শমূলক অনুষ্ঠানাদি করার সুযোগ করে দিচ্ছে, যেটাকে তারা খুব সহজেই তন্ত্রের নামে চালাতে পারে। "

ভগবান রাজনীশের যত কাণ্ড! কে এই ভগবান শ্রী রাজনীশ তার যত ভণ্ডামি সুন্দরী বিবেকের আত্মহত্যা গুরুর ডান হাত শিলা Osho Rajneesh এর সুখ ও সাচ্ছন্দের রাশিফল Osho Rajneesh এর জীবন শৈলির রাশিফল অনুশীলনকারী সমালোচনা

নকুল আমার নাম - নকুল কুমার বিশ্বাস (জীবনী) Nakul Amar Naam - Nakul Kumar Biswas

Nakul Kumar Biswas

 নকুল কুমার বিশ্বাস একজন বাংলাদেশী সঙ্গীতশিল্পী, যন্ত্রশিল্পী, সুরকার, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক। ১৯৯৬ সালে বিটিভির ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে প্রচারিত হওয়া তার গাওয়া ‘বিয়া করলাম ক্যানরে দাদা, বিয়া করলাম ক্যান’ গানটির মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। 

নকুল কুমার বিশ্বাস ১৯৬৫ সালে মাদারীপুর জেলার দত্ত কেন্দুয়া ইউনিয়নের পূর্ব কলাগাছিয়া গ্রামের এক সংগীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পাঁচ ভাই এক বোনের মধ্যে তার অবস্থান পঞ্চম।[২] তার পিতার নাম সুরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস এবং মাতার মঙ্গলী দেবী।

মাত্র আট বছর বয়সে যাত্রার দলে শিল্পী হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তার সঙ্গীতের ক্যারিয়ার শুরু। সেই থেকে যাত্রাসহ গ্রাম ও শহরাঞ্চলে বহু অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেছেন তিনি। গানের পাশাপাশি তিনি সেতার, তবলা, বাঁশি, সরোদ, সন্তুর, দোতারা, ও ম্যান্ডালিনসহ আরো নানারকম বাদ্য যন্ত্রে পারদর্শী, বিশেষ করে হারমোনিয়াম বাজানোতে রয়েছে তার বিশেষ দক্ষতা। বাংলাদেশ বেতারে যন্ত্র ও সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে চাকরি করেছেন অনেকদিন। তবে ক্যারিয়ারে তার সবসেরা সুযোগটি আসে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে অংশগ্রহণের মাধ্যমে। ‘ইত্যাদি’ তে গান পরিবেশনের সুবাদেই শ্রোতা-দর্শকদের কাছে তার সর্বাধিক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পরে।

Popular Posts